হোস্টেলের মেসের আমানতের টাকা থেকে খুচরা দেওয়া কি জায়েজ?
Halal and Haram · Hanafi
Question
Answer
প্রশ্নের সারসংক্ষেপ
আপনার কাছে হোস্টেলের মেসের টাকা (আমানত) রাখা আছে। সেখান থেকে কেউ ৫০০ টাকা খুচরা (ভাঙিয়ে) দিতে বললে তা দেওয়া জায়েজ কি না — এটাই প্রশ্ন।
উত্তর
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
মেসের দায়িত্বে থাকা আমানতের টাকা থেকে কারো ৫০০ টাকার নোট নগদ সমপরিমাণ ভাঙিয়ে (খুচরা করে) দেওয়া সংক্রান্ত শরঈ সিদ্ধান্ত ফিকহে হানাফী ও প্রামাণ্য কিতাবসমূহের আলোকে ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:
মূল শরঈ সিদ্ধান্ত:
হাতে হাতে সমপরিমাণ নোট অদলবদল করে মেসের গচ্ছিত টাকা থেকে কারো ৫০০ টাকার নোট ভাঙিয়ে বা খুচরা করে দেওয়া শরীয়তের দৃষ্টিতে জায়েয (বৈধ) [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী: ৫ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৮৮, ১৫৮; ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া: ২৪শ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৮৩; দরসুল ফিকহ: ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৮৫, ২৬৭]।
ফিকহী ব্যাখ্যা ও মূলনীতি:
১. কাগুজে মুদ্রার গুণগত সাম্যতা (عدم تعين النقود): ফিকহে হানাফীর সর্বসম্মত মূলনীতি অনুযায়ী, টাকা বা কাগুজে মুদ্রা চুক্তির মাধ্যমে নির্দিষ্ট করলেও হুবহু সেই নির্দিষ্ট কাগজটি নির্দিষ্ট হয়ে যায় না (النقود لا تتعين بالتعيين) [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী: ৫ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৮৮; দরসুল ফিকহ: ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৮৫]। অর্থাৎ, মেসের ক্যাশে থাকা ৫০০ টাকা (পাঁচটি ১০০ টাকার নোট) এবং যে ব্যক্তি ভাঙাতে এসেছে তার ৫০০ টাকার নোটের আর্থিক মূল্য ও মান শতভাগ সমান [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী: ৫ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৫৮]।
২. আমানতের মূল্যের রূপান্তর ও আমানতদারী: আমানতদার (মেস ম্যানেজার বা দায়িত্বশীল)-এর মূল দায়িত্ব হলো আমানতের পূর্ণ আর্থিক মূল্য হিফাজত করা [ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া: ২৪শ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৮৩]। যখন সমপরিমাণ টাকা নগদ হাতবদল করা হয় (যেমন: তার থেকে ১টি ৫০০ টাকার নোট নিয়ে তাকে মেসের ফান্ড থেকে ৫টি ১০০ টাকার নোট দেওয়া হলো), তখন মেসের তহবিলে গচ্ছিত মূল টাকার অংকে কোনো কম-বেশি হয় না এবং আমানতের কোনো আর্থিক ক্ষতি ঘটে না [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী: ৫ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৫৮; ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া: ২৪শ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৮৩]।
অবশ্য পালনীয় শর্তাবলী:
তবে এ ক্ষেত্রে নিম্নে বর্ণিত ৩টি শর্ত খেয়াল রাখা আবশ্যক:
১. মেসের কেনাকাটায় যেন ব্যাঘাত না ঘটে: মেসের দৈনন্দিন বাজার বা কেনাকাটার জন্য যদি ওই ছোট নোটগুলোর (খুচরা টাকার) বিশেষ প্রয়োজন থাকে এবং সব খুচরা টাকা অন্যকে দিয়ে দিলে মেসের চাল-সবজি কেনায় জটিলতা তৈরি হয়, তবে মেসের স্বার্থে টাকা ভাঙিয়ে দেওয়া উচিত হবে না [ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া: ২৪শ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৮৩]। ২. শতভাগ সমপরিমাণ ও নগদ হওয়া (دست بدست): ৫০০ টাকার বিনিময়ে নগদ ৫০০ টাকাই নিতে ও দিতে হবে। কোনো কম-বেশি করা যাবে না (যেমন: ৪৯০ টাকা দেওয়া) এবং বাকিতে রাখা যাবে না, অন্যথায় তা সুদের (রিবা) অন্তর্ভুক্ত হয়ে হারাম হয়ে যাবে [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী: ৫ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৫৮]। ৩. জাল বা ছেঁড়া নোটের ঝুঁকি না থাকা: যে নোটটি নেওয়া হচ্ছে, তা যেন আসল ও গ্রহণযোগ্য নোট হয়, যাতে মেসের তহবিলের কোনো প্রকার আর্থিক ক্ষতি না ঘটে [ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া: ২৪শ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৮৩]।
সংযুক্ত কিতাবের বিবরণ (ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ):
- ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (৫ম খণ্ড):
- পৃষ্ঠা: ৮৮ (অধ্যায়: বাইউস সারফ — 'নগদ টাকা বা মুদ্রার নির্দিষ্টতা না থাকা সংক্রান্ত ফিকহী কায়দা') [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী: ৫ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৮৮]।
- পৃষ্ঠা: ১৫৮ (অধ্যায়: বাইউস সারফ — 'সমজাতীয় মুদ্রার সমপরিমাণ নগদ অদলবদল ও সারফ চুক্তির শর্তাবলী') [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী: ৫ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৫৮]।
- ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া (২৪শ খণ্ড):
- পৃষ্ঠা: ৮৩–৮৪ (অধ্যায়: কিতাবুল ওদিআহ/আমানত — 'আমানতের টাকার হিফাজত ও সমান মূল্যের নোট স্থানান্তরের ফতোয়া') [ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া: ২৪শ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৮৩]।
- দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড):
- পৃষ্ঠা: ১৮৫, ২৬৭ (অধ্যায়: 'কাগুজে মুদ্রার ফিকহী বিধান ও আমানত রক্ষা সংক্রান্ত রূপরেখা') [দরসুল ফিকহ: ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৮৫, ২৬৭]।
আল্লাহ ভালো জানেন।