চাকরিতে মুখ খোলা রেখে পরপুরুষ এর সাথে কথা বলা কি জায়েজ /
Halal and Haram · Hanafi
Question
টানা ১০ ঘন্টা নিকাব পরে অফিসে থাকতে অসস্তি লাগে , আর অনেক গরম থাকে , এসি নেই, এখন নিকাব খুলে কি পরপুরুষ দের সাথে ্প্রয়োজনে কথা বলা যাবে ?
Answer
চাকরির ক্ষেত্রে নিকাব খোলা ও পরপুরুষের সাথে কথা বলার বিধান
উত্তর
প্রশ্নের বিবরন মতে এভাবে পরপুরুষদের সাথে নেকাব খুলে কথা বলা জায়েজ নেই।
গরম বা অস্বস্তি নিকাব খোলার বৈধ ওজর (উজর) হিসেবে গণ্য হবে না; বরং এটি শয়তানের ওয়াসওয়াসা ও প্রবেশপথ।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَقُل لِّلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا ۖ وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَىٰ جُيُوبِهِنَّ
"মুমিন নারীদের বলুন, তারা তাদের দৃষ্টি সংযত রাখবে, লজ্জাস্থান হেফাজত করবে এবং নিজেদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, যা স্বাভাবিকভাবে প্রকাশ পায় তা ছাড়া। আর তারা যেন নিজেদের ওড়না বক্ষদেশে ফেলে রাখে।" — সূরা আন-নূর: ৩১
وَإِذَا سَأَلْتُمُوهُنَّ مَتَاعًا فَاسْأَلُوهُنَّ مِن وَرَاءِ حِجَابٍ ۚ ذَٰلِكُمْ أَطْهَرُ لِقُلُوبِكُمْ وَقُلُوبِهِنَّ
"তোমরা তাদের (নবীপত্নীদের) কাছে কিছু চাইলে পর্দার আড়াল থেকে চাইবে; এটা তোমাদের ও তাদের অন্তরের জন্য অধিক পবিত্র।" — সূরা আল-আহযাব: ৫৩
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُل لِّأَزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِن جَلَابِيبِهِنَّ ۚ ذَٰلِكَ أَدْنَىٰ أَن يُعْرَفْنَ فَلَا يُؤْذَيْنَ
"হে নবী! আপনার স্ত্রীদের, কন্যাদের ও মুমিন নারীদের বলুন, তারা যেন নিজেদের চাদর (জিলবাব) টেনে দেয়; এতে তাদের চেনা সহজ হবে এবং তারা উত্যক্ত হবে না।" — সূরা আল-আহযাব: ৫৯
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: كُنَّ نِسَاءُ الْمُؤْمِنَاتِ يَشْهَدْنَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَاةَ الْفَجْرِ مُتَلَفِّعَاتٍ بِمُرُوطِهِنَّ، ثُمَّ يَنْصَرِفْنَ إِلَى بُيُوتِهِنَّ حِينَ يَقْضِينَ الصَّلَاةَ، لَا يَعْرِفُهُنَّ أَحَدٌ
"মুমিন নারীরা রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সাথে ফজরের নামাজে উপস্থিত হতেন, চাদরে আবৃত অবস্থায়; নামাজ শেষে তারা ঘরে ফিরে যেতেন, কেউ তাদের চিনতে পারতেন না।" — সহীহ বুখারী: ৫৭৮; সহীহ মুসলিম: ৬৪৫
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا: كَانَ الرُّكْبَانُ يَمُرُّونَ بِنَا وَنَحْنُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُحْرِمَاتٌ، فَإِذَا حَاذَوْا بِنَا سَدَلَتْ إِحْدَانَا جِلْبَابَهَا مِنْ رَأْسِهَا عَلَى وَجْهِهَا، فَإِذَا جَاوَزُونَا كَشَفْنَاهُ
"আমরা রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সাথে ইহরাম অবস্থায় ছিলাম; কাফেলা আমাদের পাশ দিয়ে যেত। তারা নিকটে এলে আমরা মাথা থেকে চাদর টেনে মুখ ঢেকে ফেলতাম, তারা চলে গেলে খুলে ফেলতাম।" — সুনানে আবু দাউদ: ১৮৩৩; মুসনাদে আহমাদ — ইমাম নববী রহ. হাদীসটিকে হাসান বলেছেন
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: الْمَرْأَةُ عَوْرَةٌ، فَإِذَا خَرَجَتِ اسْتَشْرَفَهَا الشَّيْطَانُ
"নারী (সতর্কতার দিক থেকে) পর্দার বস্তু; সে বের হলে শয়তান তার দিকে (লোকদের দৃষ্টি) আকর্ষণ করে।" — সুনানে তিরমিজী: ১১৭৩ (হাসান সহীহ)
مَا تَرَكْتُ بَعْدِي فِتْنَةً أَضَرَّ عَلَى الرِّجَالِ مِنَ النِّسَاءِ
"আমি আমার পরে পুরুষদের জন্য নারীদের চেয়ে বেশি ক্ষতিকর কোনো ফিতনা রেখে যাইনি।" — সহীহ বুখারী: ৫০৯৬; সহীহ মুসলিম: ২৭৪০