ভুলে কুনুত না পড়ে সাহু সিজদা দিলে নামাজ হবে কি

Salah-Prayer · Hanafi

Question No: 7672
Questioner: Nabiha Najmin 0823
Question Asked: 01 Nov 2026, 12:02 AM
Reviewed & Published: 01 Nov 2026, 06:01 AM
Views: 33
Tokens: 2,343
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

বিতরের সলাতে দুয়া কুনুত না পরে ভুলে রুকু তে আংশিক গিয়ে আবার দাড়িয়ে কুনুত পড়ার পর শেষে শাহু সিজদা দিলে আদায় হয়?

Answer

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

বিতরের সালাতে দুআ কুনুত পড়তে ভুলে গিয়ে রুকুতে আংশিক ঝুঁকে গিয়েছিলেন, তারপর আবার সোজা দাঁড়িয়ে দুআ কুনুত পড়েছেন এবং সালাত শেষে সাহু সিজদা দিয়েছেন — এমতাবস্থায় সালাত আদায় হয়েছে কি?

উত্তর

হ্যাঁ, ইনশাআল্লাহ সালাত আদায় হয়ে গেছে। তবে বিস্তারিত মাসআলা নিম্নরূপ:

১. দুআ কুনুত ভুলে যাওয়া প্রসঙ্গে

বিতরের সালাতে দুআ কুনুত পড়া ওয়াজিব। ভুলে গেলে সাহু সিজদা দিলে সালাত সহীহ হয়ে যায়।

ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, বিতরের সালাতে কুনুত পড়া ওয়াজিব। (রাদ্দুল মুহতার, ২/৪৪০; আল-হিদায়া, ১/৭০)

২. রুকুতে আংশিক ঝুঁকে আবার দাঁড়ানো প্রসঙ্গে

রুকুতে আংশিক ঝুঁকে গেলে (অর্থাৎ হাত হাঁটুতে পৌঁছায়নি বা পিঠ সোজা হয়নি) — এটি শরীয়তের দৃষ্টিতে রুকু হিসেবে গণ্য হয় না। তাই এতে সালাতের কোনো রুকন ছুটে যায়নি।

৩. সাহু সিজদার বিধান

যেহেতু ওয়াজিব (কুনুত) ভুলে ছুটে গিয়েছিল, শেষে সাহু সিজদা দেওয়া অপরিহার্য ছিল — যা আপনি আদায় করেছেন। ফলে সালাত সহীহ হয়ে গেছে।

"যে ব্যক্তি ওয়াজিব ভুলে যায়, তার উপর সাহু সিজদা ওয়াজিব।" (রাদ্দুল মুহতার, ২/৫৪৪; মারাকিল ফালাহ, পৃ. ১৪৫)

৪. বিশেষ সতর্কতা

যদি রুকুতে এতটুকু ঝুঁকে যান যে হাত হাঁটুতে পৌঁছে যায় এবং পিঠ সোজা হয়ে যায় — তাহলে সেটি পূর্ণ রুকু হিসেবে গণ্য হবে এবং তখন কুনুত পড়ার জন্য আবার দাঁড়ানো ওয়াজিব ভঙ্গের কারণ হবে; সেক্ষেত্রে সাহু সিজদা দিলেও সালাত সহীহ হবে, তবে ভবিষ্যতে সতর্ক থাকা কর্তব্য।

সারসংক্ষেপ ফতোয়া

| বিষয় | হুকুম | |------|-------| | কুনুত ভুলে যাওয়া | ওয়াজিব ছুটে গেছে → সাহু সিজদা ওয়াজিব | | আংশিক রুকু (অসম্পূর্ণ) | রুকু গণ্য হয় না, ক্ষতি নেই | | সাহু সিজদা প্রদান | সালাত সহীহ হয়ে গেছে ✅ |

উপদেশ: ভবিষ্যতে বিতরের সালাতে কুনুত পড়ার প্রতি বিশেষ মনোযোগ দিন এবং সালাতের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় নড়াচড়া পরিহার করুন।

রেফারেন্স:

  • রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদিন), ২/৪৪০, ২/৫৪৪
  • আল-হিদায়া, ১/৭০
  • ফাতাওয়া আলমগিরি, ১/৭৪
  • মারাকিল ফালাহ, পৃ. ১৪৫
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া, ১/৪৮৬
  • ফাতাওয়া উসমানি, ১/৩৪৫

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.