পিতার ঋণ মৃত্যুর পর সন্তান বা স্ত্রীর উপর বাধ্যতামূলকভাবে আসে কি না?

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 7658
Questioner: shamiha shuhi
Question Asked: 31 Oct 2026, 03:34 PM
Reviewed & Published: 31 Oct 2026, 03:55 PM
Views: 14
Tokens: 3,572
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

Amar abbu ekjn bebshayee. Tar kichu taka Rin ache tar poribar er kichu member der kache. Jmn vai. Abar koyekjn attio shojon. So amar kotha hocche amar abbu jdi ekhn mara jai oi rin er vaar ki amar ba amar ammur opor eshe porbe ? Amadr toh eto shamortho nei je shb rin porishodh korte parbo. Amra eita niye onek chintito. R amar vai o choto ekdm ee. Amar abbu tar rin niye kokhonoo prokrito muslim der moto chinta koren na. Tini kokhonoo vaben na je tini mara gele ke ei rin gulo shodh korbe ba kivabe korbee. Amar abbu namaz kalam poren na. Bidhkrmider moto cholafera koren. Sheta amadr onek koshto dei. onek doya korechi ekhono korchi. kintu tini kokhonooii poriborton hon ni. Tar emn cholafera ba manoshikotar jonno amadr poribar ea onek jhamela hoyeche ekhono hoi. Kintu amar abbur emn mon manoshikotar jonno ki amadr dosh hote pare ? Tar newa rin er hishab amdr kokhonoo den ni. Taholeo ki in future tar rin er dai amadr nite hote pare ?
Bistarito janale upokritto hotam.

Answer

উত্তর: পিতার ঋণ ও তার দায়-দায়িত্ব সম্পর্কে

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

আপনার প্রশ্নের কয়েকটি দিক রয়েছে। প্রতিটির উত্তর আলাদাভাবে দেওয়া হলো:


১. পিতার ঋণ কি তার মৃত্যুর পর সন্তান বা স্ত্রীর উপর বাধ্যতামূলকভাবে আসবে?

সংক্ষিপ্ত উত্তর: না, শরীয়তের দৃষ্টিতে সন্তান বা স্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে পিতার ঋণ পরিশোধ করতে বাধ্য নন। তবে পিতার রেখে যাওয়া সম্পত্তি (তরকা) থেকে প্রথমে ঋণ পরিশোধ করতে হবে, তারপর দাফন-কাফনের খরচ, তারপর ওসিয়ত (এক-তৃতীয়াংশের মধ্যে), তারপর উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টন হবে।

দলিল:

আল্লাহ তা'আলা বলেন:

"তোমাদের মধ্যে কেউ মৃত্যুমুখে পতিত হলে সে যদি সম্পদ রেখে যায়, তবে তার ওসিয়ত অনুযায়ী (এক-তৃতীয়াংশের মধ্যে) এবং ঋণ পরিশোধের পর..." (সূরা নিসা: ১১-১২ এর প্রেক্ষাপট)

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

"ঋণ পরিশোধের আগে মুমিনের রূহ ঝুলন্ত অবস্থায় থাকে।" (তিরমিযী: ১০৭৮, ইবনে মাজাহ: ২৪১৩)

অর্থাৎ ঋণ পরিশোধ না হলে কবরে কষ্ট হবে — কিন্তু এটি মৃত ব্যক্তির নিজের দায়, তার ওয়ারিসদের ব্যক্তিগত দায় নয়।

হানাফী ফিকহের মূলনীতি (আল-হিদায়া, রাদ্দুল মুহতার):

  • মৃতের সম্পত্তি থেকে ঋণ পরিশোধ করা ওয়ারিসদের উপর ওয়াজিব — কিন্তু শুধু সম্পত্তির সীমার মধ্যে।
  • সম্পত্তি ঋণ পরিশোধের জন্য যথেষ্ট না হলে, ওয়ারিসরা বাধ্য নন নিজেদের পকেট থেকে পরিশোধ করতে। তবে স্বেচ্ছায় পরিশোধ করলে তা সদকা ও ইহসান হিসেবে গণ্য হবে এবং মৃতকে উপকৃত করবে।

ইমদাদুল ফাতাওয়া ও ফাতাওয়া উসমানী-তে স্পষ্ট করা হয়েছে: মৃতের ঋণ তার তরকা থেকে আদায় হবে; তরকা না থাকলে ওয়ারিসরা দায়ী নয় — এটি ঋণদাতার জন্য একটি পরীক্ষা, এবং তাদের উচিত ছিল ঋণ দেওয়ার সময় জামিনদার নেওয়া।


২. তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা — পিতার সম্পত্তি থাকলে

যদি আপনার আব্বা কোনো সম্পত্তি (জমি, দোকান, ব্যবসা, টাকা, গাড়ি ইত্যাদি) রেখে যান, তাহলে ওই সম্পত্তি থেকে প্রথমে ঋণ পরিশোধ করা ফরজ। উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনের আগে ঋণ পরিশোধ করতে হবে। এতে অবহেলা করলে ওয়ারিসরা গুনাহগার হবে।

আল্লাহ বলেন:

"নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের আদেশ দিচ্ছেন আমানতসমূহ তার হকদারদের কাছে প্রত্যর্পণ করতে..." (সূরা নিসা: ৫৮)

রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন:

"যে ব্যক্তি ঋণ নিয়ে তা পরিশোধের নিয়ত রাখে, আল্লাহ তার পক্ষ থেকে পরিশোধ করে দেন।" (বুখারী: ২৩৮৭)


৩. আপনার আব্বার নামাজ না পড়া, বেদ্বীনদের মতো চলাফেরা — এতে আপনাদের গুনাহ হবে কি?

উত্তর: না, একেবারেই না। প্রত্যেক ব্যক্তি নিজের আমলের জন্য দায়ী। আল্লাহ বলেন:

"প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ কৃতকর্মের জন্য দায়ী।" (সূরা মুদ্দাসসির: ৩৮)

"তোমরা নিজেদের ও নিজেদের পরিবারকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো।" (সূরা তাহরীম: ৬)

এই আয়াতের অর্থ হলো — আপনি তাকে দাওয়াত দিন, উপদেশ দিন, দুআ করুন; কিন্তু তার হিদায়াত দেওয়া আপনার দায়িত্ব নয়, আল্লাহর হাতে। আপনি যতটা সম্ভব চেষ্টা করেছেন — এতে আপনি দায়মুক্ত। তার ভুলের জন্য আপনাদের কোনো গুনাহ নেই।

রাসূলুল্লাহ ﷺ তার চাচা আবু তালিবের ঈমানের জন্য চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু হিদায়াত আল্লাহই দেন। (সহীহ মুসলিম)

আপনার করণীয়:

  • তার জন্য দুআ করুন: "হে আল্লাহ, তাকে হিদায়াত দান করুন।"
  • নরমভাবে, ভালোবাসার সাথে উপদেশ দিন — কঠোরতা নয়।
  • তার ঋণের ব্যাপারে তাকে সচেতন করুন — যেন তিনি জীবদ্দশায় পরিশোধ করেন বা ওসিয়ত করে যান।
  • নিজের আমল ঠিক রাখুন — আপনার সৎকর্ম তার জন্য দুআর মতো কাজ করতে পারে।

৪. ভবিষ্যতে ঋণ পরিশোধের দায় কি আপনাদের নিতে হবে?

শরীয়তের দিক থেকে: না। তবে দুটি বিষয় বিবেচনা করুন:

ক) শরীয়তের বিধান: ওয়ারিসদের ব্যক্তিগত সম্পদ থেকে ঋণ দেওয়া ফরজ নয়। এটি ঋণদাতার নিজের ঝুঁকি। তবে যদি আপনি স্বেচ্ছায় পরিশোধ করেন, এটি ইহসান, সদকা এবং আপনার আব্বার জন্য উপকারী হবে — হাদীসে এসেছে, মৃতের পক্ষ থেকে ঋণ পরিশোধ করলে তা কবুল হয়।

খ) পারিবারিক সম্মান ও সামাজিক দায়: যদিও শরীয়ত বাধ্য করে না, তবুও পারিবারিক সম্মান রক্ষার্থে এবং ঋণদাতাদের (যারা আত্মীয়) কষ্ট না দেওয়ার জন্য সাধ্যমতো সহযোগিতা করা উত্তম। কিন্তু আপনার সামর্থ্য না থাকলে নিজেকে দোষী ভাববেন না — আল্লাহ কাউকে তার সামর্থ্যের বাইরে দায়ী করেন না (সূরা বাকারা: ২৮৬)।


৫. ব্যবহারিক পরামর্শ

  1. আপনার আব্বার সাথে শান্তভাবে কথা বলুন — তাকে বলুন ঋণগুলো লিখে রাখতে এবং ওসিয়ত করতে, যাতে মৃত্যুর পর জটিলতা না হয়।
  2. ঋণদাতাদের সাথে যোগাযোগ রাখুন — কেউ চাপ দিলে বিনয়ের সাথে বলুন, "আমরা সামর্থ্য অনুযায়ী চেষ্টা করব, কিন্তু বাধ্যতামূলক দায় আমাদের উপর নেই।"
  3. সম্পত্তি থাকলে তা থেকে ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করুন — এতে আপনার আব্বা কবরে মুক্তি পাবেন।
  4. দুআ করতে থাকুন — তার হিদায়াত ও ঋণমুক্তির জন্য।
  5. নিজের ঈমান ও আমল মজবুত করুন — এটাই আপনার আসল দায়িত্ব।

সারসংক্ষেপ

| প্রশ্ন | উত্তর | |---|---| | পিতার ঋণ কি সন্তান/স্ত্রীর উপর বাধ্যতামূলক? | না — শুধু তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি থেকে | | সম্পত্তি না থাকলে? | ওয়ারিসরা ব্যক্তিগতভাবে দায়ী নয় | | পিতার গুনাহে আমাদের গুনাহ? | না — প্রত্যেকে নিজের আমলের জন্য দায়ী | | ভবিষ্যতে ঋণ নিতে হবে? | শরীয়ত বাধ্য করে না; স্বেচ্ছায় করলে সদকা |

আল্লাহ আপনার পরিবারকে সহজ করুন এবং আপনার আব্বাকে হিদায়াত দান করুন। আমীন।


আল্লাহ ভালো জানেন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.