নফল সালাত (সালাতুত তাওবা, সালাতুল হাজত, তাহাজ্জুদ) নিয়ত করে ভেঙে ফেললে কাযা ওয়াজিব হয় কি? অতিরিক্ত নফলের নিয়তে কাযা আদায় হয় কি না?

Salah-Prayer · Hanafi

Question No: 7579
Questioner: Nafia Jannat
Question Asked: 29 Oct 2026, 09:13 PM
Reviewed & Published: 29 Oct 2026, 10:57 PM
Views: 25
Tokens: 3,945
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহু।
আমি সালাতুত তাওবা, সালাতুল হাজত ও তাহাজ্জুদের নিয়তে তাকবীরে তাহরীমার পর হাত ঠিক মতো উঠানো হয়নি ভেবে পুনরায় সালাত শুরু করি।তবে তখন সাথে অতিরিক্ত নফল সালাতের নিয়ত করি।

উল্লেখিত অবস্থায় সালাতের নিয়ত করে ভেঙে ফেলায় আমার যতদূর জানি কাযা আদায় করতে হবে।এক্ষেত্রে আমি পুনরায় সালাত শুরু করার সময় অতিরিক্ত নফলের নিয়ত করায় আমার কি সেই কাযা সালাত আদায় হয়েছে?

Answer

وَعَلَيْكُمُ السَّلَامُ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

জবাব

আপনার জিজ্ঞাসিত দুটি প্রশ্নের ফিকহে হানাফী ও প্রামাণ্য কিতাবসমূহের আলোকে ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট শরঈ সমাধান নিচে তুলে ধরা হলো:


সংক্ষিপ্ত উত্তর:

১. প্রথম প্রশ্নের উত্তর: হ্যাঁ, আপনার ধারণা সম্পূর্ণ সঠিক। নফল নামাযের নিয়ত করে তাকবীরে তাহরীমা বাঁধার পর তা ভেঙে ফেললে সেই নামাযের কাযা আদায় করা ওয়াজিব হয়ে যায়। ২. দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর: পরবর্তীতে অতিরিক্ত নফল নামাযের নিয়তে পুনরায় যে নামায পড়েছেন, তার দ্বারা পূর্বে ভেঙে ফেলা নফলের কাযা আদায় হয়নি। তাই ভাঙা নফল নামাযের কাযা হিসেবে আলাদাভাবে ২ রাকাআত নামায আদায় করা আপনার জিম্মায় এখনও ওয়াজিব রয়েছে।


বিস্তারিত ফিকহী কারণ ও প্রামাণ্য কিতাবের বিবরণ:

১. নফল নামায শুরু করে ভেঙে ফেললে কাযা ওয়াজিব হওয়ার কারণ:

ফিকহে হানাফী অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যখন নফল নামাযের নিয়তে তাকবীরে তাহরীমা বলে নামায শুরু করে, তখন তা পূর্ণ করা তার ওপর শরঈ দৃষ্টিকোণ থেকে ওয়াজিব হয়ে যায় । নামায শুরু করার পর হাত উঠানো ভুল হয়েছে মনে করে বা অন্য যেকোনো কারণে তা ভেঙে ফেললে, সেই ১ শফ বা ২ রাকাআত নফল নামাযের কাযা আদায় করা আবশ্যিক (ওয়াজিব) হয়ে দাঁড়ায়।

  • সংযুক্ত কিতাবের বিবরণ (ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ):
    • ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ১৮৯ (অধ্যায়: সালাত, ৩য় অনুচ্ছেদ: 'নিষেধ ও মাকরুহ ওয়াক্তের বিবরণ' — নফল সালাত শুরু করার পর ফাসিদ হয়ে গেলে তা কাযা করা ওয়াজিব হওয়া)।
    • ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ২৮৩ (অধ্যায়: সালাত, 'নফল সালাতের বিবরণ' — নফল সালাত শুরু করে স্বেচ্ছায় বা ভুলে ভেঙে ফেললে দুই রাকাআত কাযা করা ওয়াজিব হওয়ার মাসআলা)।
    • নূরুল ঈযাহ: বাংলা সংস্করণ, পৃষ্ঠা: ১০৫ (পরিচ্ছেদ: 'নফল নামাযের বিবরণ' — নফল শুরু করার পর ভঙ্গ করলে কাযা ওয়াজিব হওয়ার ফিকহী হুকুম)।
    • ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া (৭ম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ২১৯ (অধ্যায়: 'নওয়াফিল' — নফল নামায শুরু করে ভেঙ্গে ফেললে কাযা ওয়াজিব হওয়ার ফতোয়া)।

২. অতিরিক্ত নফলের নিয়তে নামায পড়লে কাযা আদায় না হওয়ার কারণ:

ফিকহের মূলনীতি অনুযায়ী, যেকোনো ওয়াজিব বা কাযা নামায আদায় সহীহ হওয়ার জন্য 'তা'ঈনে নিয়ত' বা সুনির্দিষ্টভাবে কাযার নিয়ত করা শর্ত।

আপনি যখন দ্বিতীয়বার নামায শুরু করেছেন, তখন আপনি সাধারণ বা অতিরিক্ত নফল নামাযের নিয়ত করেছিলেন; ভেঙে ফেলা নামাযের কাযা আদায়ের নির্দিষ্ট নিয়ত করেননি। সাধারণ নফলের নিয়ত দ্বারা জিম্মায় চেপে থাকা নির্দিষ্ট ওয়াজিব বা কাযা আদায় হয় না। ফলে আপনার পঠিত দ্বিতীয় নামাযটি একটি পৃথক নফল নামায হিসেবে গণ্য হয়েছে এবং প্রথম ভাঙা নামাযটির কাযা আপনার জিম্মায় থেকে গেছে ।

  • সংযুক্ত কিতাবের বিবরণ (ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ):
    • ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ১৭৮–১৭৯ (অধ্যায়: সালাত, 'নিয়ত পরিচ্ছেদ' — ওয়াজিব ও কাযা নামায আদায়ের জন্য সুনির্দিষ্ট নিয়ত আবশ্যক হওয়া এবং সাধারণ নফলের নিয়তে কাযা আদায় না হওয়া)।
    • নূরুল ঈযাহ: বাংলা সংস্করণ, পৃষ্ঠা: ১২৯–১৩০ (পরিচ্ছেদ: 'কাযা নামায আদায় করা' — নির্দিষ্ট কাযা আদায়ের জন্য ওয়াজিব ও কাযার সুনির্দিষ্ট নিয়তের প্রয়োজনীয়তা)।
    • ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া (১০ম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ১২৩–১২৪ (অধ্যায়: 'ক্বাযা সালাত' — ক্বাযা আদায়ের সময় নির্দিষ্ট নিয়ত করা আবশ্যিক হওয়ার ফতোয়া)।

আপনার বর্তমান করণীয়:

আপনাকে এখন পৃথকভাবে ২ রাকাআত নফল নামাযের কাযা আদায় করে নিতে হবে।

নিয়তের পদ্ধতি: নামাযে দাঁড়ানোর সময় মনে মনে বা মুখে এভাবে নিয়ত করবেন— "আমি আমার জিম্মায় আবশ্যক হওয়া ভাঙা নফল নামাযের কাযা আদায়ের নিয়ত করছি।" এরপর স্বাভাবিক ২ রাকাআত নফল নামাযের মতো সুরা ফাতিহার সাথে অন্য সুরা মিলিয়ে নামায সম্পন্ন করবেন।


আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সহিহভাবে ইবাদত করার তাওফিক দান করুন। আমিন।


আল্লাহ ভালো জানেন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.