দুই হায়েজের মাঝে ১৫ দিনের কম পবিত্রতা থাকলে দ্বিতীয় স্রাবের হুকুম কী?
Taharah Purity · Hanafi
Question
অক্টোবর মাসের ১৩ তারিখে হায়েজ হইছে
তারপর তিন দিন থাকার পর আবার ঠিক হয়ে গেছে
এখন আবার ২৮ তারিখে আবার হায়েজ শুরু হইছে
এখন কি নামাজ পড়বো?
নাকি নামাজ পড়া যাবে না?
Answer
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
আপনার প্রশ্নের সরাসরি ও স্পষ্ট উত্তর হলো— ২৮শে অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া রক্তের কারণে নামাজ বন্ধ করা যাবে না; বরং আপনাকে নিয়মিত নামাজ আদায় করে যেতে হবে।
হানাফী ফিকহের প্রামাণ্য কিতাবসমূহের আলোকে ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ এর বিস্তারিত শরঈ কারণ ও মাসআলা নিচে তুলে ধরা হলো:
১. ফিকহী কারণ ও দিন গণনা:
-
দুই হায়েজের মাঝে সর্বনিম্ন পবিত্রতার (তুহুর) মেয়াদ: ফিকহে হানাফী অনুযায়ী একটি হায়েজ শেষ হয়ে পরবর্তী নতুন হায়েজ শুরু হতে হলে মধ্যবর্তী সময়ে কমপক্ষে ১৫ দিন সম্পূর্ণ পবিত্র (তুহুর) থাকা শরীয়তের আবশ্যিক শর্ত।
-
আপনার ক্ষেত্রে দিনের হিসাব: ১. ১ম হায়েজ: ১৩ই অক্টোবর হায়েজ শুরু হয়ে ৩ দিন ছিল (১৩, ১৪ ও ১৫ই অক্টোবর)। ১৬ই অক্টোবর রক্ত বন্ধ হয়ে আপনি পবিত্র হন। ২. পবিত্রতার সময়কাল: ১৬ই অক্টোবর থেকে ২৭শে অক্টোবর পর্যন্ত মোট ১২ দিন আপনি পবিত্র ছিলেন। ৩. পুনরায় রক্ত দেখা দেওয়া: ২৮শে অক্টোবর আবার রক্ত শুরু হয়েছে।
-
শরঈ সিদ্ধান্ত: ১৬ই অক্টোবর রক্ত বন্ধ হওয়ার পর থেকে ২৮শে অক্টোবর পর্যন্ত মাঝখানে মাত্র ১২ দিন অতিবাহিত হয়েছে, যা সর্বনিম্ন ১৫ দিনের পবিত্রতার মেয়াদের চেয়ে কম। যেহেতু পূর্ববর্তী হায়েজ বন্ধ হওয়ার পর এখনো ১৫ দিন পূর্ণ হয়নি (১৫ দিন পূর্ণ হতে ৩০শে অক্টোবর পর্যন্ত সময় লাগবে), তাই ২৮শে অক্টোবর দেখা দেওয়া এই রক্তটি হায়েজ হিসেবে গণ্য হবে না; বরং এটি ইস্তিহাযা (অসুস্থতাজনিত রক্ত)।
২. ইস্তিহাযা অবস্থায় নামাজের নিয়ম:
ইস্তিহাযার রক্তকে শরী'আতে অসুস্থতাজনিত রক্ত গণ্য করা হয়। এই রক্ত বের হলেও শরঈ দৃষ্টিকোণ থেকে নারী 'পবিত্র' থাকেন।
- করণীয়: এই রক্ত আসার কারণে নামাজ বা রোজা বন্ধ করা যাবে না। শরীর ও কাপড় পরিষ্কার রেখে, প্রতি ওয়াক্ত নামাজের সময় হলে নতুন করে অযু করে আপনাকে নিয়মিত নামাজ আদায় করতে হবে।
(নোট: যদি এই রক্ত ৩০শে অক্টোবরের পরও অব্যাহত থাকে, তবে ৩০শে অক্টোবরে ১৫ দিনের তুহুর পূর্ণ হয়ে যাওয়ার কারণে ৩১শে অক্টোবর থেকে নির্গত রক্ত নতুন হায়েজ হিসেবে গণ্য হতে পারে যদি তা তিনদিন তিনরাত স্থায়ী থাকে, আপাতত তিনদিন তিনরাত নামায রোযা থেকে বিরত থেকে অপেক্ষা করতে হবে।)
সংযুক্ত কিতাবের বিবরণ (ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ):
- ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ১১৩–১১৪ (অধ্যায়: তাহারাত, ৬ষ্ঠ পরিচ্ছেদ: 'মহিলাদের খাস রক্তসমূহের বিবরণ' — ১ম অনুচ্ছেদ: হায়েজের মেয়াদী শর্তাবলী ও দুই হায়েজের মাঝে সর্বনিম্ন ১৫ দিন তুহুর থাকার আবশ্যকতা)।
- ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ১১৫ (৩য় অনুচ্ছেদ: ইস্তিহাজার আহকাম — ১৫ দিন তুহুর পূর্ণ হওয়ার পূর্বে রক্ত এলে তা ইস্তিহাযা হওয়া এবং তাতে সালাত পড়া ফরয হওয়ার ফতোয়া)।
- নূরুল ঈযাহ: বাংলা সংস্করণ, পৃষ্ঠা: ৪৬–৪৭ (পরিচ্ছেদ: 'হায়েজ, নেফাস ও ইস্তিহাজা' — দুই হায়েজের মধ্যবর্তী সর্বনিম্ন তুহুর ১৫ দিন হওয়া এবং ১৫ দিনের কম বিরতিতে আসা রক্ত ইস্তিহাযা গণ্য হয়ে সালাত ফরয হওয়ার বিবরণ)।
- ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া (৫ম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ১৯৮–১৯৯ ও ২০৩–২০৫ (অধ্যায়: 'বাবুল হায়েজ ওয়াল ইস্তিহাজা' — ১৫ দিনের কম পবিত্রতার পর রক্ত দেখা দিলে তা ইস্তিহাযা হওয়া এবং তাতে নামাজ পড়া বাধ্যতামূলক হওয়ার মাসআলা)।
- দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ২৭৭–২৭৮ (অনুচ্ছেদ: 'হায়েজ, তুহুর ও ইস্তিহাজার সাধারণ ফিকহী মূলনীতি')।
والله أعلم بالصواب