উমরাহ তাওয়াফের সময় ৭ চক্করের মধ্যে নির্দিষ্ট কোনো দুআ আছে কি? তাওয়াফের সময় নিজ ভাষায় দুআ করা যাবে কি?
Hajj and Umrah · Hanafi
Question
উমরাহ তাওয়াফের সময় ৭ চক্করের মধ্যে কি কোনো নির্দিষ্ট দুয়া আছে?
যদি কোনো নির্দিষ্ট দুয়া না থাকে, তাহলে তাওয়াফের সময় নিজ ভাষায় আল্লাহর কাছে দুয়া করা যাবে নাকি কুরআন-হাদিসের আলোকে দুয়া কররে হবে?
Answer
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
উত্তর:
তাওয়াফের সাত চক্করের মধ্যে কোনো নির্দিষ্ট দুআ নেই, যা প্রত্যেক চক্করে আবশ্যিকভাবে পড়তে হবে। হাদিসে তাওয়াফের প্রত্যেক চক্করের জন্য নির্দিষ্ট কোনো দুআ বর্ণিত হয়নি। বরং তাওয়াফের সময় যিকির, তাসবিহ, তাকবির, কুরআন তিলাওয়াত এবং দুআ করা যাবে। বিশেষ করে হাজরে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানি অতিক্রমের সময় নির্দিষ্ট কিছু দুআ হাদিসে বর্ণিত আছে।
হাদিসে বর্ণিত দুআসমূহ:
১. হাজরে আসওয়াদ অতিক্রমের সময়:
بِسْمِ اللهِ وَاللهُ أَكْبَرُ
অথবা
اللهُ أَكْبَرُ
(সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৮৭২; সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৮৬০)
২. রুকনে ইয়ামানি থেকে হাজরে আসওয়াদ পর্যন্ত:
رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
(সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৮৯২; মুসনাদে আহমাদ)
তাওয়াফের সময় নিজ ভাষায় দুআ করা যাবে কি?
হ্যাঁ, তাওয়াফের সময় নিজ ভাষায় দুআ করা জায়েজ। তবে উত্তম হলো কুরআন-হাদিসে বর্ণিত দুআসমূহ পড়া এবং নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী আরবিতে বা নিজ ভাষায় দুআ করা। ফিকহে হানাফির বিখ্যাত কিতাব 'রাদ্দুল মুহতার' ও 'ফাতাওয়া আলমগিরি'-তে উল্লেখ আছে যে, তাওয়াফের সময় যিকির ও দুআ করা মুস্তাহাব; নির্দিষ্ট কোনো দুআ আবশ্যিক নয়। (রাদ্দুল মুহতার: ২/৫০০; ফাতাওয়া আলমগিরি: ১/২৩০)
উল্লেখ্য: তাওয়াফের সময় কুরআন তিলাওয়াত করা, দরুদ পড়া, তাসবিহ পড়া এবং নিজের ভাষায় দুআ করা—সবই জায়েজ। তবে তাওয়াফের মৌলিক কাজ হলো বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করা; এর মধ্যে দুআ-যিকিরের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
সারসংক্ষেপ: তাওয়াফের সাত চক্করের মধ্যে নির্দিষ্ট কোনো দুআ নেই। হাজরে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানিতে হাদিসে বর্ণিত দুআ পড়া সুন্নত/মুস্তাহাব। অন্যান্য সময়ে যিকির, তাসবিহ, কুরআন তিলাওয়াত এবং নিজ ভাষায় দুআ করা জায়েজ ও মুস্তাহাব।
والله أعلم بالصواب