দুই সিজদার মাঝে তাশাহহুদ ভুলে গেলে কি সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে? ওয়াজিব ছুটে গেলে সাহু সিজদা ভুলে সালাত শেষ করলে করণীয় কি? শুধু সন্দেহে কি সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে?
Salah-Prayer · Hanafi
Question
২/ ভুলে কোন ওয়াজিব ছুটে গেলে যদি সাহু সিজদা দেওয়ার কথা ভুলে যায় এবং সালাত শেষ করে ফেলা হয় তাহলে কি সালাত পুনরায় পড়তে হবে?
৩/কোন ওয়াজিব ছুটে যায়নি তবে যদি অতিরিক্ত সন্দেহ হয় তাহলে কি সাহু সিজদা দিতে হবে?
Answer
সালাত বিষয়ক তিনটি প্রশ্নের উত্তর
প্রশ্ন ১: দুই সিজদার মাঝখানে ভুলে তাশাহহুদের প্রথম লাইনেরও কম পড়ে ফেলা
উত্তর:
দুই সিজদার মাঝখানে (অর্থাৎ দুই সিজদার মধ্যবর্তী বৈঠকে) তাশাহহুদ পড়া ওয়াজিব নয়। হানাফি মাযহাবে দুই সিজদার মাঝখানের বৈঠকটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত হওয়া উচিত — শুধু "আল্লাহুম্মাগফিরলি" বা "রাব্বিগফিরলি" বলা সুন্নত। সেখানে তাশাহহুদ পড়ার কোনো বিধান নেই।
সুতরাং দুই সিজদার মাঝখানে তাশাহহুদের প্রথম লাইন বা তার কম পড়া বা না পড়া — এতে সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে না। কারণ সেখানে তাশাহহুদ মূলত ওয়াজিবই নয়।
রেফারেন্স: আল-হিদায়া, কিতাবুস সালাত; রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন), খণ্ড ২, পৃ. ১৭৭ — "وَلَا يَزِيدُ فِي الْجِلْسَةِ بَيْنَ السَّجْدَتَيْنِ عَلَى قَدْرِ التَّسْبِيحَةِ" ; ফাতাওয়া আলমগিরি, খণ্ড ১, পৃ. ৭৫।
তবে সতর্কতা: যদি প্রশ্নকারীর উদ্দেশ্য হয় শেষ বৈঠকে (কা'দায়ে আখিরায়) তাশাহহুদ — যেখানে "আত্তাহিয়্যাতু..." পড়া ওয়াজিব — সেখানে ভুলে তাশাহহুদের প্রথম লাইনেরও কম পড়ে ফেললে (অর্থাৎ এক লাইনও না পড়লে) সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে। কারণ শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ একবার পড়া ওয়াজিব।
রেফারেন্স: রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ২, পৃ. ৩৬৪; ইমদাদুল ফাতাওয়া, খণ্ড ১, পৃ. ৪৩২; বেহেশতী জেওর (হানাফি ফিকহ), সালাত অধ্যায়।
প্রশ্ন ২: ওয়াজিব ছুটে গেলে সাহু সিজদার কথা ভুলে সালাত শেষ করে ফেলা
উত্তর:
যদি কোনো ওয়াজিব ভুলে ছুটে যায় এবং সালাতের ভেতরে সাহু সিজদা দেওয়ার কথা ভুলে যান, অতঃপর সালাম ফিরিয়ে সালাত শেষ করে ফেলেন — তাহলে হানাফি মাযহাবে বিধান হলো:
যদি সালাম ফেরানোর পর এখনো মাসজিদে উপস্থিত থাকেন এবং কথা বলা, হাঁটা বা অন্য কোনো সালাত-বিরোধী কাজ করেননি — তাহলে সালাত পুনরায় পড়তে হবে না; বরং এখনই সাহু সিজদা দিয়ে সালাম ফিরিয়ে নিলে সালাত সহিহ হয়ে যাবে।
আর যদি সালামের পর এমন কাজ করে ফেলেন যা সালাত ভঙ্গ করে (যেমন: কথা বলা, ইচ্ছাকৃত হাঁটা, কিবলা থেকে ফিরে যাওয়া ইত্যাদি) — তাহলে সালাত পুনরায় পড়তে হবে (আ'দা করা ওয়াজিব)।
রেফারেন্স: রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন), খণ্ড ২, পৃ. ৩৬৯–৩৭০ — "لَوْ سَلَّمَ قَبْلَ سَجْدَتَيِ السَّهْوِ نَاسِيًا ثُمَّ ذَكَرَ قَرِيبًا يَأْتِي بِهِمَا وَيُسَلِّمُ، وَإِنْ طَالَ الْفَصْلُ أَوْ تَكَلَّمَ اسْتَأْنَفَ" ; আল-হিদায়া; ফাতাওয়া উসমানি, খণ্ড ১, পৃ. ৩০৫; ইমদাদুল ফাতাওয়া, খণ্ড ১।
সারসংক্ষেপ: ভুলে সাহু সিজদা না দিয়ে সালাম ফিরালে — সাথে সাথে (কথা না বলে) সাহু সিজদা দিয়ে সালাম ফিরিয়ে নিলে সালাত হয়ে যাবে; নইলে পুনরায় পড়তে হবে।
প্রশ্ন ৩: কোনো ওয়াজিব ছুটেনি, কিন্তু অতিরিক্ত সন্দেহ হয় — সাহু সিজদা?
উত্তর:
না। কোনো ওয়াজিব ছুটে না গেলে এবং শুধুমাত্র সন্দেহ বা ওয়াসওয়াসা (শয়তানের কুমন্ত্রণা) হয় যে "হয়তো ওয়াজিব ছুটে গেছে" — এমতাবস্থায় সাহু সিজদা ওয়াজিব নয়, এমনকি দেওয়াও উচিত নয়। কারণ সাহু সিজদা কেবল নিশ্চিতভাবে ওয়াজিব ছুটে যাওয়ার ক্ষেত্রে ওয়াজিব হয়; সন্দেহের কারণে নয়।
হাদিসে এসেছে, নবী ﷺ বলেছেন:
«إِذَا شَكَّ أَحَدُكُمْ فِي صَلَاتِهِ فَلَمْ يَدْرِ كَمْ صَلَّى... فَلْيَبْنِ عَلَى مَا اسْتَيْقَنَ» — "যখন তোমাদের কেউ সালাতে সন্দেহে পড়ে এবং জানতে না পারে কত রাকাত পড়েছে... তখন সে যেটা নিশ্চিত তা-ই ধরবে।" (সহিহ মুসলিম, হাদিস ৫৭১)
আর ওয়াসওয়াসা সম্পর্কে কুরআনে ইরশাদ:
«وَمَا جَعَلَ عَلَيْكُمْ فِي الدِّينِ مِنْ حَرَجٍ» — "তিনি তোমাদের উপর দ্বীনের ব্যাপারে কোনো সংকীর্ণতা রাখেননি।" (সূরা হজ, আয়াত ৭৮)
রেফারেন্স: রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ২, পৃ. ৩৬৪ — "وَلَا سَهْوَ فِي الشَّكِّ" ; ফাতাওয়া আলমগিরি, খণ্ড ১, পৃ. ৭৫; ইমদাদুল ফাতাওয়া, খণ্ড ১, পৃ. ৪৩০; মা'আরিফুল কুরআন (মুফতি মুহাম্মদ শফি), সূরা হজের তাফসির।
পরামর্শ: ওয়াসওয়াসায় পড়লে সাহু সিজদা দেবেন না; বরং নিজের নিশ্চিত জ্ঞানের উপর ভিত্তি করে সালাত সম্পন্ন করবেন এবং শয়তানের কুমন্ত্রণা উপেক্ষা করবেন।
সারসংক্ষেপ সারণি
| প্রশ্ন | বিধান | |---|---| | ১. দুই সিজদার মাঝে তাশাহহুদ কম পড়া | ওয়াজিব নয়, সাহু সিজদা লাগবে না (তবে শেষ বৈঠকে হলে সাহু ওয়াজিব) | | ২. সাহু সিজদা ভুলে সালাত শেষ | কথা/কাজ না করলে এখনই সাহু সিজদা দিয়ে সালাম; নইলে পুনরায় পড়তে হবে | | ৩. শুধু সন্দেহ/ওয়াসওয়াসা | সাহু সিজদা ওয়াজিব নয়, দেওয়াও উচিত নয় |
আল্লাহ ভালো জানেন।