জমজ বাচ্চা হওয়ার আমল
Salah-Prayer · Hanafi
Question
Answer
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
প্রশ্ন: জমজ বাচ্চা হওয়ার আমল কী?
উত্তর:
জমজ সন্তান হওয়া বা না হওয়া সম্পূর্ণভাবে আল্লাহ তাআলার ইচ্ছা ও হিকমতের বিষয়। এটি কোনো মানুষের হাতে নেই। কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—
لِلّٰهِ مُلْكُ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ ۚ يَخْلُقُ مَا يَشَآءُ ۚ يَهَبُ لِمَنْ يَّشَآءُ اِنَاثًا وَّيَهَبُ لِمَنْ يَّشَآءُ الذُّكُوْرَ اَوْ يُزَوِّجُهُمْ ذُكْرَانًا وَّاِنَاثًا ۚ وَيَجْعَلُ مَنْ يَّشَآءُ عَقِيْمًا ۚ اِنَّهٗ عَلِيْمٌ قَدِيْرٌ
"আসমান ও জমিনের রাজত্ব আল্লাহরই। তিনি যা চান সৃষ্টি করেন। তিনি যাকে চান কন্যা দান করেন এবং যাকে চান পুত্র দান করেন। অথবা তিনি তাদেরকে পুত্র ও কন্যা উভয়ই দান করেন এবং যাকে চান বন্ধ্যা করে দেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান।" — (সূরা শূরা: ৪৯-৫০)
অর্থাৎ সন্তান দান করা, জমজ সন্তান দান করা বা না দেওয়া—সবই আল্লাহর এখতিয়ার। তবে সন্তান লাভের জন্য শরীয়তসম্মত কিছু আমল ও দোয়া রয়েছে, যা করা জায়েজ ও উত্তম। জমজ সন্তানের জন্য বিশেষ কোনো নির্দিষ্ট আমল হাদিসে বর্ণিত নেই; বরং সাধারণভাবে সন্তান লাভের জন্য দোয়া ও আমল করা যাবে।
সন্তান লাভের জন্য কুরআন-হাদিসে বর্ণিত আমলসমূহ:
১. সন্তান লাভের দোয়া: হযরত যাকারিয়া আলাইহিস সালামের দোয়া—
رَبِّ هَبْ لِيْ مِنْ لَّدُنْكَ ذُرِّيَّةً طَيِّبَةً ۚ اِنَّكَ سَمِيْعُ الدُّعَآءِ
"হে আমার রব! আপনি আপনার পক্ষ থেকে আমাকে পবিত্র সন্তান দান করুন। নিশ্চয়ই আপনি দোয়া শ্রবণকারী।" — (সূরা আলে ইমরান: ৩৮)
২. সূরা আম্বিয়া ৮৯ নং আয়াতের দোয়া:
رَبِّ لَا تَذَرْنِيْ فَرْدًا وَّاَنْتَ خَيْرُ الْوَارِثِيْنَ
"হে আমার রব! আপনি আমাকে একা (নিঃসন্তান) রাখবেন না; আপনি তো সর্বোত্তম উত্তরাধিকারী।"
৩. সূরা ফুরকান ৭৪ নং আয়াতের দোয়া:
رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ اَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ اَعْيُنٍ وَّاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِيْنَ اِمَامًا
"হে আমাদের রব! আমাদের স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততিদেরকে আমাদের চোখের শীতলতা বানিয়ে দিন এবং আমাদেরকে মুত্তাকীদের ইমাম বানিয়ে দিন।"
৪. বেশি বেশি ইস্তিগফার করা: হযরত নূহ আলাইহিস সালাম তাঁর কওমকে বলেছিলেন—
فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوْا رَبَّكُمْ اِنَّهٗ كَانَ غَفَّارًا يُّرْسِلِ السَّمَآءَ عَلَيْكُمْ مِّدْرَارًا وَّيُمْدِدْكُمْ بِاَمْوَالٍ وَّبَنِيْنَ وَيَجْعَلْ لَّكُمْ جَنّٰتٍ وَّيَجْعَلْ لَّكُمْ اَنْهٰرًا
"তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের উপর মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন এবং তোমাদেরকে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দ্বারা সাহায্য করবেন।" — (সূরা নূহ: ১০-১২)
৫. নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত, বিশেষত সূরা মারইয়াম, সূরা ইউসুফ ও সূরা ফাতিহা তিলাওয়াত করা এবং দান-সদকা করা।
৬. রাতে স্বামী-স্ত্রী একত্র হওয়ার সময় এই দোয়া পড়া:
بِسْمِ اللهِ اَللّٰهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ وَجَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا
"আল্লাহর নামে, হে আল্লাহ! আপনি শয়তানকে আমাদের থেকে দূরে রাখুন এবং আমাদের যে সন্তান দান করবেন তা থেকেও শয়তানকে দূরে রাখুন।" — (সহিহ বুখারি: ১৪১, সহিহ মুসলিম: ১৪৩২)
৭. নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়, তাসবিহ-তাহলিল, দরুদ শরিফ পাঠ এবং আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করে দোয়া করা।
৮. কবরস্থান বা অলি-আওলিয়ার মাজারে গিয়ে বিশেষ নিয়তে কিছু চাওয়া বা মানত করা—এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকা। শরীয়তে এ ধরনের আমলের কোনো ভিত্তি নেই; বরং এটি বিদআত ও শিরকের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
উল্লেখ্য: জমজ সন্তানের জন্য কোনো নির্দিষ্ট সূরা বা আমল হাদিসে বর্ণিত নেই। কেউ যদি বলে যে অমুক আমল করলে নিশ্চিত জমজ হবে—এ ধরনের দাবি ভিত্তিহীন। বরং সন্তান লাভের জন্য উপরোক্ত দোয়া ও আমলগুলো করা যাবে এবং আল্লাহর উপর ভরসা রাখতে হবে। তিনি যা ইচ্ছা করেন, তাই হয়।
সূত্র:
- রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদিন), খণ্ড ২, পৃ. ২৪০ (দোয়া ও তাওয়াক্কুল প্রসঙ্গে)
- ইমদাদুল ফাতাওয়া, খণ্ড ২, পৃ. ৩৪৫
- ফাতাওয়া উসমানি, খণ্ড ২, পৃ. ৪৫০
- মাআরিফুল কুরআন (মুফতি মুহাম্মদ শফি), সূরা শূরা ও সূরা নূহের তাফসির
- সহিহ বুখারি, হাদিস নং ১৪১; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১৪৩২
والله أعلم بالصواب