মৃত ব্যক্তির কাযা নামাজ ও রোজার ফিদইয়া কীভাবে আদায় করব
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
Answer
মৃত ব্যক্তির কাযা নামাজ ও রোজার ফিদইয়ার জন্য ব্যাংকের সুদ ব্যবহার করা যাবে কি?
সংক্ষিপ্ত উত্তর
না, ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত সুদ দিয়ে মৃত ব্যক্তির কাযা নামাজ ও রোজার ফিদইয়া আদায় করা যাবে না। কারণ সুদ হারাম এবং এর মালিকানা শরীয়তসম্মতভাবে অর্জিত হয় না; সুদের অর্থ কেবল দান-খয়রাত হিসেবে গরিব-মিসকিনকে দেওয়া যায়, কিন্তু তা দিয়ে ফিদইয়া বা কাফফারার মতো ইবাদত-সংক্রান্ত আর্থিক দায় পূরণ করা জায়েয নয়।
বিস্তারিত আলোচনা
১. সুদের হুকুম ও তার মালিকানা
আল্লাহ তা'আলা কুরআনে সুদকে সম্পূর্ণরূপে হারাম করেছেন এবং সুদখোরকে যুদ্ধের ঘোষণার সম্মুখীন করেছেন:
«فَإِن لَّمْ تَفْعَلُوا فَأْذَنُوا بِحَرْبٍ مِّنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ» "যদি তোমরা তা না করো, তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা গ্রহণ করো।" (সূরা বাকারা: ২৭৯)
রাসূলুল্লাহ ﷺ সুদগ্রহীতাকে লানত করেছেন (সহীহ মুসলিম: ১৫৯৮)। যেহেতু সুদের অর্থ শরীয়তের দৃষ্টিতে অপবিত্র ও নাজায়েয উপার্জন, সেহেতু মুসলিমের জন্য তা নিজের মালিকানায় গ্রহণ করা জায়েয নয়। ফকীহগণের সর্বসম্মত মত হলো—সুদের অর্থ ফেরত দেওয়া সম্ভব না হলে তা সাদকা হিসেবে গরিবদের দিয়ে দেওয়া ওয়াজিব, কিন্তু তা দিয়ে নিজের কোনো ইবাদত বা আর্থিক ইবাদত পূর্ণ করা যায় না।
মুফতি তাকি উসমানী (দা.বা.) তাঁর ফাতাওয়া উসমানী-তে বলেন, ব্যাংকের সুদ গ্রহণ করা জায়েয নয়; তবে মুসলিম দেশে ব্যাংকে রাখা অর্থের সুদ ফেরত দেওয়া সম্ভব না হলে তা গরিবদের দান করা ওয়াজিব, এবং তা দিয়ে কোনো ইবাদত-সংক্রান্ত আর্থিক দায় (যাকাত, ফিদইয়া, কাফফারা) আদায় করা যাবে না। (ফাতাওয়া উসমানী, খণ্ড ২, সুদ অধ্যায়)
উপসংহার
| বিষয় | হুকুম | |---|---| | সুদ গ্রহণ করা | হারাম | | সুদের অর্থ নিজের জন্য ব্যবহার | হারাম | | সুদের অর্থ গরিবকে ছদকা করা | ওয়াজিব (ফেরত দেওয়া সম্ভব না হলে) | | সুদের অর্থ দিয়ে ফিদইয়া/কাফফারা | জায়েয নয় | | মৃতের ফিদইয়া | তার হালাল তরিকা থেকে আদায় করতে হবে |
অতএব, মৃত ব্যক্তির কাযা নামাজ ও রোজার ফিদইয়া আদায় করতে হলে হালাল ও পবিত্র উপার্জন থেকে আদায় করতে হবে। ব্যাংকের সুদের অর্থ কেবল গরিব-মিসকিনকে ছদকা হিসেবে দেওয়া যাবে; তা দিয়ে ফিদইয়া আদায় করা শরীয়তসম্মত নয়।