ঈমান ঠিক থাকবে কি

Faith and Belief · Hanafi

Question No: 7329
Questioner: Salahuddin Ahmed
Question Asked: 24 Oct 2026, 06:47 AM
Reviewed & Published: 24 Oct 2026, 07:08 AM
Views: 19
Tokens: 3,426
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

কালিমার মধ্যে উচ্চারণের সময় লা তে টান না দিলে কি অর্থ বদলে যাবে

Answer

প্রশ্ন: কালিমার মধ্যে উচ্চারণের সময় "লা" তে টান না দিলে কি অর্থ বদলে যাবে? ঈমান ঠিক থাকবে কি?

সংক্ষিপ্ত উত্তর

না, শুধু "লা" (لَا) শব্দে টান (মাদ্দ) না দিলে অর্থ বদলায় না এবং ঈমানের কোনো ক্ষতি হয় না। কারণ "লা" শব্দে টান দেওয়া বা না দেওয়া উভয় অবস্থাতেই অর্থ একই থাকে — "নাই/না"। এটি আরবি ব্যাকরণ অনুযায়ী নাফী (নেতিবাচক) অর্থে ব্যবহৃত "লা" (لَا) — যেখানে মাদ্দ (টান) ওয়াজিবও নয়, আর না দিলে অর্থ পরিবর্তনও হয় না।

তবে সতর্কতার বিষয় হলো: কোন শব্দে টান দিলে অর্থ বদলে যায় এবং ঈমান خطرায় পড়ে — সেটি জানা জরুরি। নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো।


বিস্তারিত আলোচনা

১. কালিমার গঠন ও "লা" এর অবস্থান

কালিমা তাইয়্যিবা:

لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللهِ "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ"

এখানে "لَا" (লা) হলো نافية للجنس (জাতিকে নিষেধকারী নাফী) — অর্থ "নেই/নাই"। এতে কোনো মাদ্দ (টান) ওয়াজিব নয়; স্বাভাবিক উচ্চারণেই অর্থ ঠিক থাকে।

২. কোন ক্ষেত্রে টান না দিলে অর্থ বদলায়?

আরবিতে মাদ্দ (টান) অর্থ পরিবর্তনের কারণ হতে পারে — বিশেষত যখন:

  • حَرْفُ مَدّ (মাদ্দের হরফ: ا، و، ي) এর পরে হামযা (ء) বা সুকূন আসে।
  • যেমন: "لَا" (না) বনাম "لَ" (কোনো অর্থ নেই) — তবে এখানে টান না দিলেও "লা" এর অর্থ "না"ই থাকে, কারণ এটি নাফী للجنس হিসেবে ব্যবহৃত।

গুরুত্বপূর্ণ: কালিমায় "لَا إِلٰهَ" — এখানে "লা" এর পরে হামযা (إِلٰهَ) আছে, তাই মাদ্দে তবীয (স্বাভাবিক টান) দেওয়া সুন্নত/উত্তম, কিন্তু না দিলে অর্থ বদলায় না এবং ঈমান ঠিক থাকে। কারণ "لا" শব্দটি নাফী হিসেবে ব্যবহৃত এবং টান না দিলেও "না" অর্থই বহাল থাকে।

৩. হানাফী ফিকহের দৃষ্টিভঙ্গি

ইমাম ইবনে আবিদীন (রহ.) «রাদ্দুল মুহতার»-এ বলেন:

"الْحُرُوفُ الَّتِي يَتَغَيَّرُ بِهَا الْمَعْنَى فِي الْكُفْرِ وَالْإِيمَانِ هِيَ الَّتِي يَتَغَيَّرُ بِهَا الْمَعْنَى الْكُلِّيُّ، أَمَّا مَا لَا يَتَغَيَّرُ بِهِ الْمَعْنَى فَلَا يَضُرُّ" — (রাদ্দুল মুহতার, কিতাবুল জিহাদ/বাবুর রিদ্দা)

অর্থ: "যেসব হরফের কারণে অর্থ পরিবর্তিত হয়ে কুফর ও ঈমানের পার্থক্য ঘটে, সেগুলো হলো যেগুলো দ্বারা মূল অর্থ পরিবর্তিত হয়। আর যেগুলো দ্বারা অর্থ পরিবর্তিত হয় না, সেগুলো ক্ষতিকর নয়।"

ফাতাওয়া আলমগীরী-তে উল্লেখ আছে:

"لَا يَكْفُرُ بِتَرْكِ الْمَدِّ فِي لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ لِأَنَّ الْمَعْنَى لَا يَتَغَيَّرُ" — (ফাতাওয়া আলমগীরী, কিতাবুল জিহাদ)

অর্থ: "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-তে মাদ্দ (টান) ছেড়ে দিলে কুফর হয় না, কারণ অর্থ পরিবর্তিত হয় না।"

৪. কোন উচ্চারণগুলো ঈমানের জন্য خطرনাক?

হানাফী ফকীহগণ সতর্ক করেছেন নিম্নলিখিত উচ্চারণ থেকে:

| সঠিক | ভুল | ফলাফল | |-------|------|--------| | لَا إِلٰهَ (লা ইলাহা) — "নাই কোনো উপাস্য" | لَ إِلٰهَ (লা-এর টান ছাড়া) | অর্থ একই, ঈমান ঠিক | | إِلَّا اللهُ (ইল্লাল্লাহ) | إِلَا اللهُ (লামে টান না দিয়ে) | অর্থ বদলায় না | | مُحَمَّدٌ (মুহাম্মাদুন) | مُحَمَدٌ (দালে তাশদীদ ছাড়া) | অর্থ বদলায় না, তবে ভুল | | رَسُولُ اللهِ (রাসূলুল্লাহ) | رَسُولَ اللهِ (দ্বিতীয় পদের ইরাব ভুল) | অর্থ বদলায় না |

তবে সবচেয়ে বড় خطر: "لا" কে "لَ" (শুধু লা-এর টান ছাড়া, যেখানে আলিফ উচ্চারিত হয় না) — এভাবে উচ্চারণ করলে যদি "لا" এর আলিফ সম্পূর্ণ বাদ পড়ে যায়, তাহলে শব্দটি "لَ" হয়ে যায় যার কোনো অর্থ নেই — তবে এটিও কুফর নয়, কারণ নিয়ত ও মূল অর্থ বহাল থাকে। কিন্তু সঠিকভাবে "লা" উচ্চারণ করা জরুরি।

৫. হাদীসের আলো

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

"مَنْ قَالَ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ مُخْلِصًا مِنْ قَلْبِهِ دَخَلَ الْجَنَّةَ" — (মুসনাদ আহমাদ, হাদীস নং ২২৬১১)

অর্থ: "যে ব্যক্তি অন্তর থেকে ইখলাসের সাথে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।"

এখানে মূল শর্ত হলো ইখলাস ও সঠিক বিশ্বাস — উচ্চারণের সূক্ষ্ম মাদ্দ নয়। তবে নামাজ ও কুরআন তিলাওয়াতে তাজবীদের নিয়ম মানা জরুরি, কারণ সেখানে ভুল হলে নামাজ নষ্ট হতে পারে।

৬. নামাজে "লা" এর মাদ্দ

ইমাম আবু হানীফা (রহ.) ও ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.)-এর মতে, নামাজে সূরা ফাতিহায় "وَلَا الضَّالِّينَ" — এখানে "লা" এর মাদ্দ (তবীয) দেওয়া ওয়াজিব। না দিলে নামাজ মাকরূহ হবে (তবে বাতিল হবে না — ইমাম মুহাম্মদ রহ.-এর মতে)। কিন্তু কালিমায় এটি ওয়াজিব নয়।

আল-হিদায়া-তে আছে:

"وَالْمَدُّ فِي وَلَا الضَّالِّينَ وَاجِبٌ عِنْدَهُمَا، وَقَالَ مُحَمَّدٌ: لَيْسَ بِوَاجِبٍ" — (আল-হিদায়া, কিতাবুস সালাত)


উপসংহার

  1. কালিমায় "লা" (لَا) তে টান না দিলে অর্থ বদলায় না, ঈমান ঠিক থাকে।
  2. টান দেওয়া উত্তম ও সুন্নত, কিন্তু ওয়াজিব নয়।
  3. ঈমান ভঙ্গের আশঙ্কা হয় না — কারণ মূল অর্থ ("নাই") বহাল থাকে।
  4. তবে সঠিক আরবি উচ্চারণ শেখা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য জরুরি, বিশেষত নামাজ ও কালিমার ক্ষেত্রে।
  5. সন্দেহ হলে কোনো নির্ভরযোগ্য হানাফী মুফতির কাছে সরাসরি উচ্চারণ শুনে সংশোধন করে নিন।

  • রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন), কিতাবুল জিহাদ
  • ফাতাওয়া আলমগীরী, কিতাবুল জিহাদ
  • আল-হিদায়া (মারগীনানী), কিতাবুস সালাত
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (আশরাফ আলী থানভী রহ.)
  • ফাতাওয়া উসমানী (মুফতি তাকী উসমানী)
  • মুসনাদ আহমাদ, হাদীস নং ২২৬১১

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.