অসুস্থ ব্যক্তি কিবলার দিকে ফিরতে না পারলে, ওযু ও তায়াম্মুম সম্ভব না হলে কীভাবে নামাজ পড়বে?
Salah-Prayer · Hanafi
Question
আমার নানুর কোমড়ের নিচের দিকে হাড় ভেঙে গিয়েছে। উনি শুধু বসতে পারেন।ক্যাথেটার লাগানো এবং উনাকে কিবলামুখী করাও সম্ভব না। উনার পক্ষে ওযু করাও সম্ভব না।এমতাবস্থায় উনি কীভাবে সালাত আদায় করবেন?
Answer
وَعَلَيْكُمُ السَّلَامُ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ
বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম
জবাব
(আল্লাহ তাআলা আপনার নানুকে পূর্ণ আরোগ্য ও শেফায়ে কায়ামেলা দান করুন।)
১. ওজু করতে অক্ষম হলে তায়াম্মুম করার নিয়ম:
-
শরয়ী সিদ্ধান্ত:
যেহেতু নানু নিজে ওজু করতে অক্ষম এবং পানি ব্যবহার করা বা ওজু করানো কষ্টকর বা ক্ষতিকর, তাই তিনি ওজুর পরিবর্তে তায়াম্মুম করবেন। -
সহযোগীর মাধ্যমে তায়াম্মুম:
মাটি, ইট, মাটির পাত্র বা তায়াম্মুমের প্যাডে হাত দিয়ে উনি নিজে তায়াম্মুম করতে পারলে করবেন। আর যদি নিজে হাত নাড়াতে না পারেন, তবে অন্য কোনো ব্যক্তি স্বীয় হাত মাটিতে মেরে নানুর সম্পূর্ণ মুখমণ্ডল এবং উভয় হাত কনুই পর্যন্ত মাসেহ করিয়ে দিলেই নানুর তায়াম্মুম সম্পন্ন হয়ে যাবে। -
সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:
- নূরুল ঈযাহ: পৃষ্ঠা: ১১৭ (পরিচ্ছেদ: তায়াম্মুম — অসুস্থতার কারণে ওজুর পরিবর্তে তায়াম্মুম জায়েয হওয়ার মাসআলা)।
- ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (৫ম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ১৭৭–১৮০ (অধ্যায়: কিতাবুত তায়াম্মুম — অসুস্থ ব্যক্তির তায়াম্মুমের ফতোয়া)।
- দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড): পৃষ্ঠা: ৩৯১–৩৯২ (অধ্যায়: তায়াম্মুমের শর'য়ী বিধান ও অসুস্থ ব্যক্তির জন্য শিথিলতা)।
২. ক্যাথেটার লাগানো অবস্থায় সালাত আদায় ও নাপাকীর হুকুম:
-
শরয়ী সিদ্ধান্ত:
ইনডোয়েলিং ক্যাথেটার লাগানো থাকার কারণে সার্বক্ষণিক প্রস্রাব আসার দরুন নানু শরীআতের বিচারে ‘মা'যুর’ (ওজরগ্রস্ত) বলে গণ্য হবেন। -
আদায়ের নিয়ম:
প্রতিটি ফরয সালাতের ওয়াক্ত শুরু হলে নতুন করে তায়াম্মুম করিয়ে দেবেন। ওয়াক্ত বাকি থাকা পর্যন্ত ঐ তায়াম্মুম দিয়ে তিনি ফরয ও নফল সালাত আদায় করতে পারবেন। -
প্রস্রাবের থলির বিধান:
সালাতের পূর্বে সম্ভব হলে প্রস্রাবের ব্যাগ বা থলিটি খালি করে দেবেন। তবে যদি খালি করা সম্ভব না হয় কিংবা খালি করার পর পুনরায় প্রস্রাব জমে যায়, তবে অসুস্থতার ওজরের কারণে ঐ থলিসহ সালাত আদায় করা সম্পূর্ণ জায়েয এবং সালাত সহীহ হয়ে যাবে। -
সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:
- দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড): পৃষ্ঠা: ৩৮৬ (অধ্যায়: ইনডোয়েলিং ক্যাথেটার লাগানো অবস্থায় ওজু/পবিত্রতা ও সালাতের বিধান)।
- ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ৩৩৭ (অধ্যায়: সালাত, ১৪শ পরিচ্ছেদ: রোগীর সালাতের বিবরণ — ওজরবশত ক্ষতের নাপাকী বা প্রস্রাব থাকা সত্ত্বেও সালাত সহীহ হওয়া)।
৩. কিবলামুখী হতে অক্ষমতার শরয়ী বিধান:
-
শরয়ী সিদ্ধান্ত:
রোগীকে কিবলামুখী করে দেওয়ার মতো কোনো লোক না থাকলে কিংবা নাড়াচাড়া করতে গেলে যদি মারাত্মক কষ্ট বা ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে, তবে তিনি যেদিকে মুখ করে শুয়ে বা বসে আছেন, সেদিকে মুখ করেই সালাত আদায় করবেন। -
এর জন্য সালাত নষ্ট হবে না এবং পরবর্তীতে এই সালাত পুনরায় ফিরিয়ে পড়তেও হবে না।
-
সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:
- ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ১৩১ (অধ্যায়: সালাত, ৩য় পরিচ্ছেদ: কিবলামুখী হওয়ার মাসায়েল, ৪ নম্বর মাসআলা) পৃষ্ঠা: ৩৩৭ (১৪ তম পরিচ্ছেদ: রোগীর সালাতের বিবরণ — কিবলামুখী করার লোক না থাকলে যেদিকে সম্ভব সেদিকে সালাত আদায়ের বিধান)।
- নূরুল ঈযাহ: পৃষ্ঠা: ৫৮ (পরিচ্ছেদ: কিবলামুখী হওয়া)।
৪. বসে ইশারায় সালাত আদায়ের নিয়ম:
-
শরয়ী সিদ্ধান্ত:
যেহেতু নানু বসতে পারেন, তাই তিনি বিছানায় হেলান দিয়ে বা যেভাবে সহজ হয় সেভাবে বসে মাথা ঝুঁকিয়ে (ইশারায়) রুকু ও সিজদা করে সালাত আদায় করবেন। -
ইশারার নিয়ম:
রুকুর ইশারার জন্য মাথা যতটুকু ঝুঁকাবেন, সিজদার ইশারার জন্য মাথা তার চেয়ে আরেকটু বেশি ঝুঁকাবেন। সিজদার জন্য সামনে কোনো বালিশ বা উঁচু জিনিস তুলে ধরার প্রয়োজন নেই; কেবল মাথার ইশারাই যথেষ্ট। -
সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:
- ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ৩৩৬–৩৩৭ (অধ্যায়: সালাত, ১৪শ পরিচ্ছেদ: রোগীর সালাতের বিবরণ, মাসআলা ১ ও ৩)।
- নূরুল ঈযাহ: পৃষ্ঠা: ১২৪ (পরিচ্ছেদ: অসুস্থ ব্যক্তির নামায — বসে ইশারায় সালাত আদায়ের বিবরণ)।
- দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ৬৯–৭০ (অধ্যায়: অসুস্থ ব্যক্তির সালাত ও ইশারায় আদায়ের পদ্ধতি)।
আল্লাহ ভালো জানেন।