সিগারেট কোম্পানিতে জব কি হালাল
Business and Job · Hanafi
Question
অনেকে বলছে এখন বিয়ে করতে পারো বিয়ের পরে তুমি বুঝিয়ে শুনিয়ে বলবে এই জবটা হালাল না
এমনটা করা কি আমার জন্য উচিত হবে?
Answer
সিগারেট কোম্পানিতে চাকরি ও বিয়ের প্রস্তাব: ইসলামি দৃষ্টিকোণ
উত্তর
সিগারেট বা তামাক কোম্পানিতে চাকরি করা এবং এর বিধান নিয়ে ইসলামি আলেমদের মধ্যে প্রধানত দুটি ভিন্ন মতামত রয়েছে:
*একটি মত (মাকরুহ বা অনুত্তম / ক্ষেত্রবিশেষে বৈধতা): বাংলাদেশের বা উপমহাদেশের অনেক মুফতি ও আলেমের মতে, ধূমপান যেহেতু সরাসরি মদ বা জুয়ার মতো হারাম বস্তু নয় (বরং এটি মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর ও মাকরুহ), তাই এসব কোম্পানিতে চাকরি করাকে সরাসরি সম্পূর্ণ হারাম না বলে অনেকে অনুত্তম বা মাকরুহ তানজিহি হিসেবে দেখেন। এই মতানুসারে চাকরি করে প্রাপ্ত অর্থ সরাসরি হারাম নয় বলে কেউ কেউ মত দিয়েছেন।
*অন্য মত (নাজায়েয বা হারাম): সৌদি আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটি (Al-Lajnah al-Daimah), আন্তর্জাতিক অনেক স্কলার এবং ফিকহ বোর্ডের মতে, তামাক বা সিগারেট এমন একটি বস্তু যা মানবদেহের মারাত্মক ক্ষতি করে।
কোরআনের নীতি অনুযায়ী— "পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অপরকে সহায়তা করো না"।
তাই সিগারেট উৎপাদন, বিপণন, বিজ্ঞাপন বা এর যেকোনো সহযোগী কাজে চাকরি করা শরিয়তে নিষিদ্ধ বা হারাম। এই মত অনুযায়ী সেখান থেকে অর্জিত আয়ও হালাল নয়।
সারসংক্ষেপ তাকওয়া ও পরহেজগারের দাবি হলো—যেহেতু তামাক ও সিগারেট মানব স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং মানুষের অসুস্থতা ও অপচয়ের কারণ, তাই সম্ভব হলে এমন সন্দেহযুক্ত ও ক্ষতিকর পেশা বর্জন করে হালাল ও পরিচ্ছন্ন অন্য কোনো পেশা অবলম্বন করাই শ্রেয়।
★সুতরাং প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে হানাফি মাযহাব অনুসারে উক্ত পাত্রকে বিয়ে করতে কোনো সমস্যা নেই। বিয়ে করা যাবে।
তবে কারো কারো যেহেতু এখানে এ চাকরির ব্যাপারে ভিন্ন মত রয়েছে, এক্ষেত্রে আপনার প্রতি পরামর্শ যে পাত্র যদি দ্বীনদার হয়, এবং তার বাড়িতে গিয়ে পূর্ণ দ্বীন মানার যদি পরিবেশ আপনি পেতে পারেন, এমন নিশ্চয়তা যদি সে দেয় সেক্ষেত্রে তাকে বিবাহ করতে পারেন।
কেননা এক্ষেত্রে পরবর্তীতে তাকে বুঝিয়ে ভালো চাকরির দিকে আপনি উদ্বুদ্ধ করতে পারবেন, এবং সে আপনার কথা মানবে,ইনশাআল্লাহ।
কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ "পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করো না।" — সূরা আল-মায়িদা: ২
وَلَا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ "নিজেদেরকে ধ্বংসের মুখে নিক্ষেপ করো না।" — সূরা আল-বাকারা: ১৯৫
হাদিসে এসেছে:
«إِنَّ اللَّهَ إِذَا حَرَّمَ شَيْئًا حَرَّمَ ثَمَنَهُ» "নিশ্চয়ই আল্লাহ যখন কোনো বস্তু হারাম করেছেন, তার মূল্যও হারাম করেছেন।" — সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৩৪৮৮; মুসনাদে আহমাদ
আরও এসেছে, রাসূল ﷺ মদ সম্পর্কে লানত করেছেন তার উৎপাদনকারী, বিক্রেতা, বহনকারী, ক্রেতা, পরিবেশনকারী ও তার মূল্য ভক্ষণকারীর উপর। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস ১২৯০) —এই নীতির আলোকে নিষিদ্ধ বস্তুর উৎপাদন-বিক্রয় শৃঙ্খলে যুক্ত থাকা চাকরিও নিষিদ্ধ।
ফাতাওয়া আলমগিরি ও আল-হিদায়া-তে স্পষ্ট করা হয়েছে: নিষিদ্ধ বস্তুর (যেমন মদ, শূকর) উৎপাদন, বিক্রয় ও পরিবহনে সহযোগিতা করা জায়েজ নয়; এসব কাজের বিনিময় গ্রহণও নাজায়েজ।