প্রস্রাবের পর মূত্রনালিতে পানির মতো চিকচিক ভাব থাকলে অযু ভাঙবে কি?

Waswasa-OCD · Hanafi

Question No: 6914
Questioner: Muhammad Riad
Question Asked: 14 Oct 2026, 10:58 PM
Reviewed & Published: 15 Oct 2026, 02:26 AM
Views: 10
Tokens: 3,968
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমি প্রস্রাব করার ৫-১০ এমনকি ২০ মিনিটর পরও লক্ষ্য করি মূত্রনালির সামনের অংশে পানির মতো চিকচিক করতেছে অর্থাৎ প্রস্রাব, তবে তা ফোটা আকারে গড়িয়ে পড়ে না। এটা মনে হয় মূত্রনালিটা যেহেতু হালকা ভিজা থাকে সেটা। এখন এ অবস্থায় কী আমার অযু ভেঙে যাবে?

Answer

প্রশ্ন: প্রস্রাবের পর মূত্রনালিতে পানির মতো চিকচিক ভাব থাকলে অযু ভাঙবে কি?

সংক্ষিপ্ত উত্তর

না, শুধু মূত্রনালির ভেতরে বা মুখে পানির মতো চিকচিক ভাব বা হালকা ভেজা অনুভব হওয়ার কারণে অযু ভাঙবে না। অযু ভাঙার জন্য প্রস্রাবের এক ফোঁটা হলেও বাইরে বের হয়ে গড়িয়ে পড়া বা কাপড়ে লেগে যাওয়া শর্ত। মূত্রনালির ভেতরে যা আছে তা বের না হওয়া পর্যন্ত অযু বহাল থাকে।


বিস্তারিত ফিকহি আলোচনা

১. অযু ভাঙার মূলনীতি (হানাফি মাযহাব)

হানাফি মাযহাব অনুযায়ী, প্রস্রাব-পায়খানার রাস্তা দিয়ে কোনো নাপাক বস্তু বাইরে বের হলে অযু ভেঙে যায়। শুধু ভেতরে অনুভব করা বা সন্দেহ করা অযু ভাঙার কারণ নয়।

আল-হিদায়া গ্রন্থে আছে: "وَيَنْقُضُهُ خُرُوجُ النَّجْسِ مِنَ الْبَدَنِ" — অর্থ: শরীর থেকে নাপাক বস্তুর নির্গমন অযু ভঙ্গ করে।

রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন শামি)-এ উল্লেখ আছে:

"لَوْ خَرَجَ مِنْهُ شَيْءٌ وَلَمْ يَصِلْ إلَى مَا يَظْهَرُ لَا يَنْقُضُ" — যদি কোনো কিছু বের হয় কিন্তু ظاهر (বাইরের দৃশ্যমান অংশ) পর্যন্ত না পৌঁছায়, তবে অযু ভাঙবে না।

২. মূত্রনালির ভেতরের আর্দ্রতা

মূত্রনালি সর্বদা হালকা আর্দ্র থাকে — এটি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় বিষয়। এই আর্দ্রতা বা চিকচিক ভাব নাপাক বস্তুর নির্গমন নয়, বরং শরীরের স্বাভাবিক অবস্থা। তাই এটি অযু ভাঙার কারণ নয়।

ফাতাওয়া উসমানি-তে এ ধরনের প্রশ্নের জবাবে বলা হয়েছে:

"محررہ سے کوئی چیز باہر نہ آئے تو محض اندرونی نمی یا شکی کیفیت سے وضو نہیں ٹوٹتا۔"

৩. ওয়াসওয়াসা (শয়তানি কুমন্ত্রণা) থেকে সতর্কতা

আপনার প্রশ্নে যে বিষয়টি লক্ষণীয় — এটি ওয়াসওয়াসা (OCD)-এর অন্তর্ভুক্ত। শয়তান মুসলিমদের নামাজ-ইবাদতে সন্দেহ সৃষ্টি করে। হাদিসে এসেছে:

সহিহ বুখারি ও মুসলিম-এ রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "لَا يَزَالُ النَّاسُ يَسْأَلُونَ حَتَّى يُقَالَ هَذَا اللَّهُ خَلَقَ الْخَلْقَ فَمَنْ خَلَقَ اللَّهَ؟" — মানুষ প্রশ্ন করতে থাকবে, এমনকি বলবে: "আল্লাহ সবকিছু সৃষ্টি করেছেন, তাহলে আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছে?"

অন্য হাদিসে (সহিহ মুসলিম) আছে:

"إِذَا وَجَدَ أَحَدُكُمْ فِي بَطْنِهِ شَيْئًا فَأَشْكَلَ عَلَيْهِ أَخَرَجَ مِنْهُ شَيْءٌ أَمْ لَا؟ فَلَا يَخْرُجَنَّ مِنَ الْمَسْجِدِ حَتَّى يَسْمَعَ صَوْتًا أَوْ يَجِدَ رِيحًا" — "তোমাদের কেউ যদি তার পেটে কিছু অনুভব করে এবং সন্দেহ হয় যে কিছু বের হয়েছে কি না, তবে সে যেন (নামাজ/মসজিদ) না ছাড়ে যতক্ষণ না শব্দ শোনে বা গন্ধ পায়।"

ইমাম নববী (রহ.) এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন: "এটি ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি — সন্দেহের কারণে নিশ্চিত বিষয় বাতিল হয় না।"

৪. ফাতাওয়া আলমগিরি-র বক্তব্য

"وَلَا يَنْقُضُ الْوُضُوءَ الشَّكُّ فِي خُرُوجِ النَّجْسِ حَتَّى يَتَيَقَّنَ بِالْخُرُوجِ" — "নাপাক বস্তু নির্গমনে সন্দেহ অযু ভঙ্গ করে না, যতক্ষণ না নির্গমন নিশ্চিত হয়।"

৫. ব্যবহারিক সমাধান

| অবস্থা | অযুর হুকুম | |--------|-----------| | মূত্রনালির ভেতরে চিকচিক/ভেজা অনুভব | অযু বহাল | | ফোঁটা আকারে বাইরে গড়িয়ে পড়া | অযু ভাঙবে | | কাপড়ে দাগ/ভেজা দাগ দেখা | অযু ভাঙবে | | শুধু সন্দেহ/ওয়াসওয়াসা | অযু বহাল |

পরামর্শ:

  1. প্রস্রাবের পর ইস্তিনজা ভালোভাবে করুন (পানি দিয়ে ধুয়ে নিন)।
  2. কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে (৫-১০ মিনিট) হাঁটাচলা করুন যাতে অবশিষ্ট প্রস্রাব বের হয়ে যায়।
  3. এরপর অযু করুন।
  4. এরপর আর সন্দেহ করবেন না — সন্দেহকে উপেক্ষা করুন।
  5. টয়লেট টিস্যু বা কাপড় দিয়ে মূত্রনালির মুখ শুকিয়ে নিন — এতে চিকচিক ভাব চলে যাবে।

উপসংহার

আপনার বর্ণিত অবস্থায় — অর্থাৎ প্রস্রাবের পর মূত্রনালির সামনের অংশে পানির মতো চিকচিক ভাব থাকলেও ফোঁটা আকারে গড়িয়ে না পড়লে — অযু ভাঙবে না। এটি মূত্রনালির স্বাভাবিক আর্দ্রতা। আপনি নিশ্চিন্তে নামাজ পড়তে পারেন। শয়তানের ওয়াসওয়াসায় পড়বেন না।

ফাতাওয়া উসমানি (মুফতি তাকি উসমানি): "اگر قطرہ باہر نہ نکلے تو وضو باقی رہے گا، اندرونی نمی سے وضو نہیں ٹوٹتا۔"


রেফারেন্স:

  • আল-হিদায়া (মারগিনানি)
  • রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন শামি), কিতাবুত তাহারাত
  • ফাতাওয়া আলমগিরি (ফাতাওয়া হিন্দিয়া), কিতাবুত তাহারাত
  • ফাতাওয়া উসমানি (মুফতি তাকি উসমানি), খণ্ড ১
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (আশরাফ আলী থানভি)
  • সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম, কিতাবুল ওয়াদু
  • মা'আরিফুল কুরআন (মুফতি মুহাম্মদ শাফি)

আল্লাহ ভালো জানেন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.