পোর্ট্রেট স্কেচ সম্পর্কে ইসলামের বিধান।

Faith and Belief · Hanafi

Question No: 6855
Questioner: Ri Tu
Question Asked: 13 Oct 2026, 06:41 PM
Reviewed & Published: 13 Oct 2026, 08:38 PM
Views: 13
Tokens: 2,610
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আগে পোর্ট্রেট স্কেচ করতাম। এখন ছেড়ে দিয়েছি। আগের স্কেচগুলো নিয়ে ইসলামের বিধান কী?

Answer

প্রশ্ন: আগে পোর্ট্রেট স্কেচ করতাম। এখন ছেড়ে দিয়েছি। আগের স্কেচগুলো নিয়ে ইসলামের বিধান কী?

উত্তর: প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনি খালেছ দিলে তওবা করে ফিরে আসুন, পূর্বের এ সমস্ত ছবিগুলোকে অপসারণ করার চেষ্টা করুন এবং এ পদ্ধতিতে আপনি যত ইনকাম করেছেন তাহা সব নিয়ত ছাড়া গরিব মিসকিনদের মাঝে দান করে দিন।

বিস্তারিতঃ- সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তাআলার, যিনি ছবি নির্মাণকারীদের ব্যাপারে কঠোর সতর্কবাণী দিয়েছেন। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক প্রিয় নবী মুহাম্মাদ ﷺ-এর উপর, যিনি বলেছেন—

إِنَّ أَشَدَّ النَّاسِ عَذَابًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ الْمُصَوِّرُونَ

"কিয়ামতের দিন সবচেয়ে কঠিন শাস্তি ভোগ করবে ছবি নির্মাণকারীরা।" — সহীহ বুখারী: ৫৯৫০; সহীহ মুসলিম: ২১০৯

আরও ইরশাদ হয়েছে—

كُلُّ مُصَوِّرٍ فِي النَّارِ، يُجْعَلُ لَهُ بِكُلِّ صُورَةٍ صَوَّرَهَا نَفْسٌ فَيُعَذَّبُ بِهَا فِي جَهَنَّمَ

"প্রত্যেক ছবি নির্মাণকারী জাহান্নামে যাবে। তার প্রতিটি নির্মিত ছবির জন্য একটি প্রাণ সৃষ্টি করা হবে, যা দ্বারা তাকে জাহান্নামে শাস্তি দেওয়া হবে।" — সহীহ মুসলিম: ২১১০

ফিকহী বিধান:

হানাফী মাযহাব অনুযায়ী, জীবন্ত প্রাণীর (ইনসান বা পশু-পাখির) ছবি আঁকা—যা পূর্ণাঙ্গ ও স্পষ্ট হয়—নাজায়েয ও হারাম। তবে শর্ত হলো, ছবিটি যদি এমন হয় যে, তাতে প্রাণ সঞ্চারের চেষ্টা বোঝা যায় বা মুখমণ্ডল স্পষ্ট থাকে। পোর্ট্রেট স্কেচ সাধারণত এই ধরনেরই হয়ে থাকে, তাই তা হারামের অন্তর্ভুক্ত।

আপনার পূর্বের স্কেচগুলোর বিধান:

১. আপনি তাওবা করেছেন — আলহামদুলিল্লাহ। শরীয়তের নিয়ম হলো—

إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ

"নিশ্চয়ই নেক আমলসমূহ গুনাহসমূহ মুছে দেয়।" — সূরা হুদ: ১১৪

তাই আন্তরিক তাওবা করলে আল্লাহ তাআলা ক্ষমা করে দেন। তাওবার শর্ত তিনটি: (ক) গুনাহ ছেড়ে দেওয়া, (খ) গুনাহের উপর অনুতপ্ত হওয়া, (গ) ভবিষ্যতে না করার দৃঢ় সংকল্প করা। আপনি যেহেতু ছেড়ে দিয়েছেন, তাই তাওবা সহীহ হয়েছে বলে আশা করা যায়।

২. পূর্বের স্কেচগুলোর ব্যাপারে করণীয়:

  • যদি সেগুলো আপনার কাছে সংরক্ষিত থাকে (কাগজে, মোবাইলে, কম্পিউটারে, সোশ্যাল মিডিয়ায়), তবে সেগুলো মুছে ফেলা বা ধ্বংস করা আপনার দায়িত্ব। কারণ এগুলো রেখে দেওয়া গুনাহের উপর বহাল থাকার শামিল।
  • যদি সেগুলো অন্যের কাছে চলে যায় বা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে এবং আপনার হাতে মুছে ফেলার ক্ষমতা না থাকে, তবে সেগুলোর জন্য আপনার উপর কোনো গুনাহ নেই; বরং আপনি দায়মুক্ত। তবে সামর্থ্য থাকলে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মে রিপোর্ট করে অপসারণের চেষ্টা করুন।
  • যদি সেগুলো বিক্রি করে উপার্জন করে থাকেন, তবে সেই অর্থ হালাল নয়; তা সদকা করে দেওয়া বা ফেরত দেওয়া কর্তব্য। (রাদ্দুল মুহতার: ৬/৩৯১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ৫/৩৬৩)

৩. ছবি আঁকার ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম: গাছ-পালা, নদী, পাহাড়, নির্জীব বস্তু বা এমন ছবি যা আঁকা হয় কিন্তু মুখমণ্ডল অস্পষ্ট বা প্রাণহীন—এসব আঁকা জায়েয। (ফাতাওয়া উসমানী: ৩/৬০৫; ইমদাদুল ফাতাওয়া: ৪/২৩০)

উপদেশ: আপনি যেহেতু এই কাজ ছেড়ে দিয়েছেন, এটি আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা ও ভয়ের প্রমাণ। এই সংকল্পে অটল থাকুন এবং বেশি বেশি ইস্তিগফার করুন। আল্লাহ তাআলা আপনার পূর্বের গুনাহ ক্ষমা করুন এবং ভবিষ্যতে হেফাজত করুন। আমীন।

সারসংক্ষেপ: পূর্বের পোর্ট্রেট স্কেচ আঁকা গুনাহ ছিল, কিন্তু তাওবা করলে আল্লাহ ক্ষমা করেন। সংরক্ষিত থাকলে মুছে ফেলুন; বিক্রির অর্থ হালাল নয়, সদকা করুন। ভবিষ্যতে জীবন্ত প্রাণীর ছবি আঁকা থেকে বিরত থাকুন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.