সাদকায়ে জারিয়ার নিয়তে সংগৃহীত টাকা দিয়ে অন্য জিনিস কেনা কি বৈধ?
Family Life · Hanafi
Question
২।আর একটা প্রশ্ন হচ্ছে আমি একটা নিয়াত করেছিলাম যে আমার কাজের আত্মীয় দের থেকে ৫/১০ টাকা করে তুলে সাদকায়ে জারিয়ার নিয়াতে একটা কুরান,একটা জায়নামায আর একটা নামাযের হিজাব কিনবো।তো সবার থেকে যখন টাকা উঠিয়েছি তখন শুধু কুরানের কথা বলেছি যে একটা কুরান কিনবো অই ২ টার কথা উল্লেখ করা হয়নি।এখন কুরান কিনেও কিছু টাকা বেচে যাচ্ছে এই টাকা দিয়ে কি আমি এখন জায়নামায ,নামাযের হিজাব বা ইসলামিক বই এগুলা কিনতে পারবো? এগুলাও তো সাদকায়ে জারিয়ায় হবে!
Answer
প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন ১: স্বামীর মৃত্যুর পর পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলা বন্ধ করা
উত্তর:
প্রথমে সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। আপনার কাজিনের অবস্থা অত্যন্ত করুণ ও মানবিকভাবে বোধগম্য। তবে শরীয়তের দৃষ্টিতে বিষয়টি নিম্নরূপ:
১. আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা ফরজ
আল্লাহ তা'আলা কুরআনে বলেন:
وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ ۚ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا
"আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যার নামে তোমরা একে অপরের কাছে চাওয়া-পাওয়া কর এবং আত্মীয়তার সম্পর্কের ব্যাপারে সতর্ক থাক। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের উপর পর্যবেক্ষণকারী।" — (সূরা আন-নিসা: ১)
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
مَنْ أَحَبَّ أَنْ يُبْسَطَ لَهُ فِي رِزْقِهِ، وَيُنْسَأَ لَهُ فِي أَثَرِهِ، فَلْيَصِلْ رَحِمَهُ
"যে ব্যক্তি চায় তার রিযিক প্রশস্ত হোক এবং আয়ু বৃদ্ধি হোক, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে।" — (সহীহ বুখারী: ৫৯৮৬)
২. তবে মানসিক ক্ষতির ক্ষেত্রে ছাড় রয়েছে
ইসলামী শরীয়ত মানসিক ও শারীরিক ক্ষতির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েছে। যদি সত্যিই আত্মীয়দের সাথে কথা বললে তার মানসিক ট্রমা মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়, তাহলে সরাসরি যোগাযোগ কমানো বা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা জায়েয হতে পারে। কারণ ইসলামে নিজের ক্ষতি করা নিষিদ্ধ।
তবে শর্ত হলো:
- সম্পূর্ণ সম্পর্ক ছিন্ন করা যাবে না — অন্তত সালাম, দোয়া, বা কোনোভাবে খোঁজখবর রাখা উচিত।
- হৃদয়ে বিদ্বেষ বা শত্রুতা পোষণ করা যাবে না।
- যখন মানসিক অবস্থার উন্নতি হবে, তখন সম্পর্ক পুনরায় জোড়া দেওয়ার চেষ্টা করা উচিত।
৩. গুনাহ হবে কি না?
- যদি সে শুধু নিজের মানসিক সুরক্ষার জন্য সাময়িকভাবে দূরত্ব বজায় রাখে এবং হৃদয়ে কোনো বিদ্বেষ না থাকে, তবে ইনশাআল্লাহ গুনাহ হবে না।
- কিন্তু যদি সম্পূর্ণ সম্পর্ক ছিন্ন করে দেয় (কাটিং অফ) এবং তাদের কষ্ট দেওয়ার উদ্দেশ্য থাকে, তাহলে তা কবীরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ قَاطِعٌ
"সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।" — (সহীহ মুসলিম: ২৫৫৬)
পরামর্শ: আপনার কাজিন যেন অন্তত দোয়া ও সালামের মাধ্যমে সম্পর্ক বজায় রাখে, এবং মানসিক সুস্থতার জন্য প্রয়োজনে পরামর্শকের সহায়তা নেয়। যখনই সম্ভব হয়, সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করবে।
প্রশ্ন ২: সাদকায়ে জারিয়ার নিয়তে সংগৃহীত টাকা দিয়ে অন্য জিনিস কেনা
উত্তর:
১. মানত (নযর) ও সাদকায়ে জারিয়ার বিধান
আপনি যখন আত্মীয়দের কাছ থেকে টাকা তুলেছেন এবং শুধু কুরআন কেনার কথা বলেছেন, তখন তাদের দেওয়া টাকা কুরআন কেনার জন্যই নির্দিষ্ট হয়ে গেছে। এটি এক ধরনের মানত (নযর) হিসেবে গণ্য হবে।
ফিকহের মূলনীতি হলো:
الْمَنْذُورُ يَجِبُ الْوَفَاءُ بِهِ بِعَيْنِهِ
"মানতের বস্তু হুবহু পূরণ করা ওয়াজিব।"
আল্লাহ তা'আলা বলেন:
وَلْيُوفُوا نُذُورَهُمْ
"আর তারা যেন তাদের মানত পূরণ করে।" — (সূরা আল-হজ: ২৯)
২. অবশিষ্ট টাকার বিধান
যেহেতু আপনি শুধু কুরআনের কথা বলেছেন এবং দাতারা সেই নিয়তে টাকা দিয়েছেন, সেহেতু:
- অবশিষ্ট টাকা দিয়ে জায়নামায, নামাযের হিজাব বা ইসলামিক বই কেনা যাবে না — কারণ দাতাদের সম্মতি ছিল শুধু কুরআনের জন্য।
- অবশিষ্ট টাকা কুরআন কেনার জন্যই ব্যবহার করতে হবে (যেমন: আরও কুরআন কিনে বিতরণ করা, বা মসজিদ/মাদরাসায় কুরআন দেওয়া)।
- অথবা দাতাদের জানিয়ে তাদের সম্মতি নিয়ে অন্য জিনিস কেনা যাবে। যদি তারা সম্মতি দেয়, তাহলে জায়নামায, হিজাব বা ইসলামিক বই কেনা জায়েয হবে।