হায়েজ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা

Faith and Belief · Hanafi

Question No: 6819
Questioner: Rokaiya Khatun 0241
Question Asked: 12 Oct 2026, 11:24 PM
Reviewed & Published: 13 Oct 2026, 01:03 AM
Views: 22
Tokens: 2,943
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম।
আমি জানতে চাই মাসিক শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ আগে সামান্য রক্ত অর্থাৎ একশ ভাগের ১০ ভাগ রক্ত আর বাকিটা সাদা স্রাব এবং সেই রক্ত পরিষ্কার করার পর সবটাই যদি সাদা স্রাব থাকে তাহলে কি স্বামীর সাথে সহবাস করা যাবে?? যদিও পুরোপুরি ভাবে আমার মাসিক শুরু হয়নি!!

Answer

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম

ওয়ালাইকুম আসসালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

উত্তর


১. মূল শরয়ী সিদ্ধান্ত:

মাসিক বা হায়েজ শুরু হওয়ার ঠিক পূর্ব মুহূর্তে সামান্য রক্ত বা রক্তমিশ্রিত স্রাব দেখা গেলে স্বামীর সাথে সহবাস করা সম্পূর্ণ হারাম ও নাজায়েয।

রক্ত পরিষ্কার করার পর সাময়িকভাবে শুধু সাদা স্রাব দেখা গেলেও, যেহেতু কিছুক্ষণের মধ্যেই আপনার পূর্ণাঙ্গ মাসিক শুরু হয়ে যায়, তাই ওই সময়টিকে হায়েজেরই সূচনালগ্ন বা অংশ হিসেবে গণ্য করা হবে।


২. ফিকহী কারণ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা:

  • ক) হায়েজের রক্তের প্রকাশ ও সূচনা:
    হানাফী ফিকহের মূলনীতি অনুযায়ী, সাধারণ পবিত্রতার মেয়াদ (সর্বনিম্ন ১৫ দিন) পার হওয়ার পর জরায়ু থেকে সামান্য পরিমাণ রক্ত বা রক্তমিশ্রিত দাগ/আভা (যেমন: লাল, গোলাপি, বাদামী বা ঘোলাটে রং) লজ্জাস্থানের বাহিরে প্রকাশ পাওয়া মাত্রই যাহিরীভাবে হায়েজ বা মাসিক শুরু হয়ে গেছে বলে গণ্য হয়।

  • খ) সাদা স্রাবের সংমিশ্রণ ও রক্ত পরিষ্কার করা:
    স্বচ্ছ ও খাঁটি সাদা স্রাব হলো পবিত্রতার প্রতীক। কিন্তু যদি সাদা স্রাবের সাথে সামান্যতম (১০% বা তার কমও) রক্তের উপস্থিতি থাকে, তবে তা আর পবিত্র সাদা স্রাব থাকে না; বরং তা হায়েজের রক্ত হিসেবেই ধরা হবে। আর প্রাথমিক সেই রক্ত পরিষ্কার করে ফেলার পর কিছুক্ষণ সাদা স্রাব দেখা গেলেও, যেহেতু একটু পরেই আপনার স্বাভাবিক মাসিক শুরু হয়ে যায়, তাই এই সাময়িক বিরতিকে পবিত্রতা ধরা যাবে না; বরং এটি হায়েজেরই সূচনাকাল।

  • গ) হায়েজের সময়ে সহবাসের অকাট্য নিষেধাজ্ঞা:
    পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা'আলা হায়েজের সময় স্ত্রীদের থেকে শারীরিক মিলন বা সহবাস সম্পূর্ণ পৃথক রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। রক্ত দেখা দেওয়া মাত্রই সহবাস হারাম হয়ে যায়। রক্ত সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গোসল বা পূর্ণাঙ্গ পবিত্রতা অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত সহবাসে লিপ্ত হওয়া সগীরা বা কবীরা গোনাহ।


৩. আপনার জন্য করণীয়:

মাসিকের পূর্বে যখনই সামান্য রক্তের আভা বা দাগ নজরে আসবে, তখন থেকেই সহবাস এবং সালাত-সিয়াম বন্ধ রাখতে হবে। যদি পরবর্তীতে আর কোনো রক্তই না আসত (অর্থাৎ ৩ দিনের মধ্যে আর কোনো রক্ত না দেখা যেত), তবেই কেবল অতীতে দেখা দেওয়া দাগটিকে 'ইস্তিহাযা' (রোগজনিত রক্ত) গণ্য করা যেত। কিন্তু যেহেতু আপনার ক্ষেত্রে এটি দিয়ে মাসিকের সূচনা ঘটে, তাই রক্ত দেখা মাত্রই সহবাস থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকা আবশ্যক।


সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:

১. ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড):

  • পৃষ্ঠা: ১১৩: (অধ্যায়: কিতাবুত তাহারাত, ৬ষ্ঠ পরিচ্ছেদ: মহিলাদের (খাস) রক্তসমূহের বিবরণ, ১ম অনুচ্ছেদ: হায়েজের বিবরণ — রক্ত দেখা দেওয়া মাত্রই হায়েজ শুরু হওয়া এবং রক্তের বিভিন্ন রঙের শরয়ী বিধান)।
  • পৃষ্ঠা: ১১৪ & ১১৭: (অধ্যায়: কিতাবুত তাহারাত, ৩য় অনুচ্ছেদ: হায়েজ ও নিফাসের আহকাম — হায়েজের সময় স্ত্রী সহবাস অকাট্যভাবে হারাম হওয়া এবং গোসল বা পূর্ণ পবিত্রতা অর্জনের পূর্বে সহবাস নিষিদ্ধ থাকা)।

২. নূরুল ঈযাহ:

  • পৃষ্ঠা: ৩৭ & ৪৪: (পরিচ্ছেদ: হায়েজ, নেফাস ও ইস্তেহাযা — হায়েজ অবস্থায় সহবাস করা হারাম হওয়ার বিবরণ)।

৩. ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (৫ম খণ্ড):

  • পৃষ্ঠা: ১৯৬ & ১৯৮: (অধ্যায়: বাবুল হায়েয ওয়াল ইস্তিহাযাহ — মাসিকের সূচনা মুহূর্তে রক্তের দাগ দেখা গেলে সালাত ও সহবাস নিষিদ্ধ হওয়া সংক্রান্ত ফতোয়া)।

আল্লাহ সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.