মোবাইল ডিলার বিক্রির আগে ওয়ারেন্টি অ্যাক্টিভ করে স্মার্টফোন বিক্রি করা কি জায়েজ?

Business and Job · Ahle Hadith / Salafi

Question No: 6799
Questioner: ALFAZ UDDIN
Question Asked: 12 Oct 2026, 05:24 PM
Reviewed & Published: 12 Oct 2026, 06:54 PM
Views: 16
Tokens: 3,535
This answer is according to the 'Ahle Hadith / Salafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

মোবাইল ডিলার যদি স্মার্টফোন কাস্টমারকে বিক্রির পূর্বে যদি ওয়ারেন্টি একটিভ করে আবার প্যাকেজিং করে কাস্টমারকে বিক্রি করা হয় সেটা কি জায়েজ হবে? যদি জায়েজ না হয় এমন ডিলারের আন্ডারে চাকরি করা কি জায়েজ হবে? ডিলারের এটি ছাড়াও ভিন্ন আয়ের উৎস আছে।

Answer

ওয়ারেন্টি অ্যাক্টিভ করে স্মার্টফোন বিক্রি এবং ডিলারের অধীনে চাকরির বিধান

প্রথম বিষয়: বিক্রির পূর্বে ওয়ারেন্টি অ্যাক্টিভ করা

** উত্তর:** এটি জায়েজ নয়, কারণ এতে ক্রেতার সাথে প্রতারণা করা হয়।

দলিল:

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

«مَنْ غَشَّنَا فَلَيْسَ مِنَّا»

"যে ব্যক্তি আমাদের সাথে প্রতারণা করে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।"

— সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ১০১; সহীহ ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ২২২৫

আরও ইরশাদ হয়েছে:

«الْمُسْلِمُونَ عَلَى شُرُوطِهِمْ»

"মুসলিমগণ তাদের শর্তের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে।"

— সহীহ সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৩৫৯৪; শাইখ আল-আলবানী সহীহ বলেছেন

সমস্যাটি কী?

ওয়ারেন্টি অ্যাক্টিভ করার মাধ্যমে কার্যত ওয়ারেন্টির মেয়াদ শুরু হয়ে যায়। ফলে:

১. ক্রেতা প্রতারিত হয় — সে মনে করে তার পূর্ণ ওয়ারেন্টি মেয়াদ আছে, অথচ প্রকৃতপক্ষে কিছুদিন/মাস ইতিমধ্যে কেটে গেছে।

২. প্রতারণা (গিশ) — ক্রেতাকে এমন পণ্য সম্পূর্ণ মূল্যে বিক্রি করা, যার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা (ওয়ারেন্টি) আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।

৩. শর্ত ভঙ্গ — কোম্পানির নীতিমালা অনুযায়ী ওয়ারেন্টি অ্যাক্টিভেশন মানে পণ্য বিক্রি হয়ে গেছে। এটি মিথ্যা তথ্য প্রদান।

শাইখ ইবনে উসাইমীনের বক্তব্য:

শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে সালিহ আল-উসাইমীন (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:

"প্রতারণা হারাম। আর প্রতারণা হলো — মানুষকে এমনভাবে দেখানো যা প্রকৃত অবস্থার বিপরীত।"

— শারহুল মুমতি', খণ্ড ৮, পৃ. ১৪৭


দ্বিতীয় বিষয়: এমন ডিলারের অধীনে চাকরি করা

মূলনীতি:

যদি ডিলারের প্রধান আয় হারাম হয়, তবে তার অধীনে চাকরি করা জায়েজ নয়। কিন্তু যদি তার বিভিন্ন হালাল আয়ের উৎস থাকে এবং হারাম কাজটি তার ব্যবসার ক্ষুদ্র অংশ হয়, তবে বিস্তারিত বিধান রয়েছে।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:

"যদি কোনো ব্যক্তির আয় হালাল ও হারাম মিশ্রিত হয়, তবে তার সাথে লেনদেন করা মাকরূহ, তবে হারাম নয় — যদি না হারামটাই প্রধান হয়।"

— মাজমূ'উল ফাতাওয়া, খণ্ড ২৯, পৃ. ২২৭

শাইখ ইবনে বায (রহিমাহুল্লাহ)-এর ফতোয়া:

শাইখ ইবনে বায (রহিমাহুল্লাহ)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল এমন ব্যক্তির সম্পর্কে যার আয়ে হারাম মিশ্রিত। তিনি উত্তর দেন:

"যদি তার আয়ের অধিকাংশ হারাম হয়, তবে তার সাথে লেনদেন করা জায়েজ নয়। আর যদি হালালই প্রধান হয় এবং হারাম সামান্য হয়, তবে অসুবিধা নেই।"

— মাজমূ'উ ফাতাওয়া ওয়া মাকালাত মুতানাওয়্যা, খণ্ড ১৯, পৃ. ৪১

আপনার প্রশ্নের প্রেক্ষিতে:

যেহেতু ডিলারের ভিন্ন আয়ের উৎস আছে (হালাল), সেহেতু তার অধীনে চাকরি করা জায়েজ হতে পারে, তবে শর্ত হলো:

১. আপনি সরাসরি প্রতারণায় অংশগ্রহণ করবেন না — অর্থাৎ ওয়ারেন্টি অ্যাক্টিভ করার কাজটি আপনি নিজে করবেন না।

২. আপনি প্রতারণায় সহায়তা করবেন না — কুরআনে আল্লাহ বলেন:

﴿وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ﴾

"আর তোমরা পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অপরকে সহায়তা করো না।"

— সূরা আল-মায়িদাহ: ২

৩. আপনি প্রতিবাদ করবেন — অন্তত অন্তর থেকে ঘৃণা করবেন এবং সম্ভব হলে মুখে নিষেধ করবেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

«مَنْ رَأَى مِنْكُمْ مُنْكَرًا فَلْيُغَيِّرْهُ بِيَدِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهِ، وَذَلِكَ أَضْعَفُ الْإِيمَانِ»

"তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কোনো মুনকার (খারাপ কাজ) দেখে, সে যেন তার হাত দ্বারা পরিবর্তন করে; যদি না পারে, তবে জিহ্বা দ্বারা; যদি না পারে, তবে অন্তর দ্বারা — আর এটাই ঈমানের সর্বনিম্ন স্তর।"

— সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ৪৯


তৃতীয় বিষয়: বিকল্প সমাধান

১. ডিলারকে সৎ পরামর্শ দিন — তাকে বুঝান যে এটি প্রতারণা এবং হারাম। আল্লাহ বলেন:

﴿وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى﴾

"আর তোমরা নেক কাজ ও তাকওয়ায় একে অপরকে সহায়তা করো।"

— সূরা আল-মায়িদাহ: ২

২. যদি ডিলার না মানে — তাহলে এমন কাজে সরাসরি জড়িত না থাকার শর্তে চাকরি চালিয়ে যেতে পারেন, তবে অন্য হালাল চাকরির সন্ধান করা উত্তম।

৩. সরাসরি ওয়ারেন্টি অ্যাক্টিভেশনের কাজ — যদি আপনার কাজের বিবরণেই এটি থাকে, তবে সেই কাজ করা জায়েজ নয়। শাইখ সালিহ আল-ফাওযান (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন:

"কোনো ব্যক্তির জন্য জায়েজ নয় এমন কাজে সহায়তা করা, যাতে পাপ রয়েছে।"

— আল-মুনতাকা মিন ফাতাওয়া আল-ফাওযান


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.