স্বামী ভরণপোষণের নামে দেওয়া টাকা ফেরত চাইলে ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী করণীয় কী?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 6744
Questioner: Nowrin Nowal
Question Asked: 11 Oct 2026, 12:20 PM
Reviewed & Published: 11 Oct 2026, 12:45 PM
Views: 30
Tokens: 3,776
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

সামি আমার কাছে ভরনপোষণ এর নামে ২-৩ মাস টাকা পাঠায়। আবার আমার সাথে ঘুরতে যেতে চাই তাই টাকা জমা রেখেছিল ৫০ হাজার। এখন সে ঘুরতে যাবে না আর আমার কাছ থেকেও টাকা পয়সা সব ফেরত চেয়েছে। আমি ধার করে ৯ হাজার টাকা তার বোনের একাউন্টে দিয়ে দি। ব্যাংকে যে ৫০ হাজার টাকা আছে সেটা ১৬ তারিখের পর দিবে। আমার ভরনপোষণ এর নামে কি তাকে সব টাকা ফেরত দিতে হবে আমার? সে যদি টাকা চাই আমার থেকে? ১৬ তারিখের পর ৫০ হাজার টাকাও ফেরত দিতে চাচ্ছি।

Answer

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ:
স্বামী সামি স্ত্রীকে ভরণপোষণের নামে ২-৩ মাস টাকা পাঠিয়েছে। এছাড়া স্ত্রীর সাথে ঘুরতে যাওয়ার জন্য ৫০ হাজার টাকা জমা রেখেছিল। এখন স্বামী ঘুরতে যাবে না এবং স্ত্রীর কাছ থেকে সব টাকা ফেরত চাচ্ছে। স্ত্রী ধার করে ৯ হাজার টাকা স্বামীর বোনের অ্যাকাউন্টে দিয়ে দিয়েছে। ব্যাংকে থাকা ৫০ হাজার টাকা ১৬ তারিখের পর ফেরত দিতে চায়। প্রশ্ন: ভরণপোষণের নামে পাঠানো টাকা কি ফেরত দিতে হবে? স্বামী চাইলে কি সব টাকা ফেরত দিতে হবে?


উত্তর (হানাফি ফিকহ অনুযায়ী):

১. ভরণপোষণ (নফকা) হিসেবে পাঠানো টাকা:

  • ইসলামী শরীয়তে স্বামীর উপর স্ত্রীর ভরণপোষণ (খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান) প্রদান করা wajib (আবশ্যক)।
  • যদি স্বামী স্বেচ্ছায় ভরণপোষণের নামে টাকা পাঠায়, তবে তা স্ত্রীর হক হিসেবে পরিগণিত হয়। স্ত্রী তা নিজের প্রয়োজন ও ইচ্ছেমতো ব্যবহার করতে পারে।
  • এক্ষেত্রে ভরণপোষণের টাকা ফেরত দেওয়া স্ত্রীর উপর আবশ্যক নয়, কারণ এটি স্বামীর দায়িত্ব পালনের অংশ।
  • তবে যদি প্রমাণিত হয় যে, টাকাটি ভরণপোষণ হিসেবে নয়, বরং আমানত (অন্যায়ভাবে জমা) হিসেবে দেওয়া হয়েছিল, তাহলে তা ফেরত দিতে হবে। প্রশ্নে উল্লেখ আছে “ভরনপোষণ এর নামে” — অর্থাৎ তা নফকা হিসেবেই দেওয়া হয়েছে। সুতরাং নফকা হিসেবে পাঠানো ২-৩ মাসের টাকা ফেরত দেওয়া আবশ্যক নয়।

২. ঘুরতে যাওয়ার জন্য জমা রাখা ৫০ হাজার টাকা:

  • এটি ভরণপোষণ নয়, বরং একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে (ভ্রমণ) জমা রাখা আমানত।
  • যেহেতু ভ্রমণ বাতিল হয়ে গেছে এবং স্বামী টাকা ফেরত চাচ্ছে, তাই এই ৫০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া স্ত্রীর উপর আবশ্যক।
  • আপনি ১৬ তারিখের পর ফেরত দিতে চাইলে তা জায়েয, তবে বিলম্ব করা উচিত নয়; যত দ্রুত সম্ভব ফেরত দেওয়া উত্তম।

৩. ধার করে ৯ হাজার টাকা স্বামীর বোনের অ্যাকাউন্টে দেওয়া:

  • স্বামীর অনুমতিক্রমে এটি করে থাকলে এটি স্বামীর পাওনা পরিশোধের অংশ হিসেবে গণ্য হবে।

অন্যথায় ৯ হাজার টাকা স্বামীর বোন থেকে উত্তোলন করে স্বামীকে দিতে হবে।

৪. সারসংক্ষেপ:

  • ভরণপোষণের টাকা ফেরত দেওয়া আবশ্যক নয় (যদি তা সত্যিই নফকা হিসেবে দেওয়া হয়)।
  • ভ্রমণের জন্য জমা রাখা ৫০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া আবশ্যক।
  • ৯ হাজার টাকা স্বামীর বোন থেকে উত্তোলন করে স্বামীকে দিতে হবে।
  • স্বামী যদি ভরণপোষণের টাকাও ফেরত চায়, তবে শরীয়ত তাকে তা পাওয়ার অধিকার দেয় না; তবে পারিবারিক সমঝোতার স্বার্থে উভয়ের সম্মতিতে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

হানাফি কিতাবের রেফারেন্স:

  • রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন): “النفقة حق للزوجة، فإذا دفعها الزوج إليها ملكتها، وليس له استردادها” (স্ত্রীর ভরণপোষণ তার হক; স্বামী তা দিলে স্ত্রী তার মালিক হয়ে যায়, ফেরত চাওয়ার অধিকার স্বামীর নেই)।
  • ফাতাওয়া আলমগিরি: “إذا أنفق الزوج على زوجته نفقةً ثم أراد استردادها لم يملك ذلك” (স্বামী স্ত্রীর উপর ভরণপোষণ ব্যয় করার পর তা ফেরত চাইলে তা পাবে না)।
  • বাদায়েউস সানায়ে: “النفقة تمليك، فإذا قبضتها الزوجة صارت ملكًا لها” (ভরণপোষণ একটি মালিকানা প্রদান; স্ত্রী তা গ্রহণ করলে তা তার সম্পত্তি হয়ে যায়)।
  • আল-হিদায়া: “وليس للزوج أن يسترد ما أنفقه على زوجته” (স্বামী স্ত্রীর উপর যা ব্যয় করেছে তা ফেরত নিতে পারবে না)।

উপদেশ:
পরিবারে শান্তি ও সমঝোতা বজায় রাখতে উভয়ের মধ্যে আলোচনা করে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা উত্তম। ভরণপোষণের টাকা ফেরত চাওয়া শরীয়তসম্মত নয়; তবে ভ্রমণের জন্য জমা রাখা টাকা ফেরত দেওয়া আপনার দায়িত্ব।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.