স্বামী ভরণপোষণের নামে দেওয়া টাকা ফেরত চাইলে ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী করণীয় কী?
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
Answer
প্রশ্নের সারসংক্ষেপ:
স্বামী সামি স্ত্রীকে ভরণপোষণের নামে ২-৩ মাস টাকা পাঠিয়েছে। এছাড়া স্ত্রীর সাথে ঘুরতে যাওয়ার জন্য ৫০ হাজার টাকা জমা রেখেছিল। এখন স্বামী ঘুরতে যাবে না এবং স্ত্রীর কাছ থেকে সব টাকা ফেরত চাচ্ছে। স্ত্রী ধার করে ৯ হাজার টাকা স্বামীর বোনের অ্যাকাউন্টে দিয়ে দিয়েছে। ব্যাংকে থাকা ৫০ হাজার টাকা ১৬ তারিখের পর ফেরত দিতে চায়। প্রশ্ন: ভরণপোষণের নামে পাঠানো টাকা কি ফেরত দিতে হবে? স্বামী চাইলে কি সব টাকা ফেরত দিতে হবে?
উত্তর (হানাফি ফিকহ অনুযায়ী):
১. ভরণপোষণ (নফকা) হিসেবে পাঠানো টাকা:
- ইসলামী শরীয়তে স্বামীর উপর স্ত্রীর ভরণপোষণ (খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান) প্রদান করা wajib (আবশ্যক)।
- যদি স্বামী স্বেচ্ছায় ভরণপোষণের নামে টাকা পাঠায়, তবে তা স্ত্রীর হক হিসেবে পরিগণিত হয়। স্ত্রী তা নিজের প্রয়োজন ও ইচ্ছেমতো ব্যবহার করতে পারে।
- এক্ষেত্রে ভরণপোষণের টাকা ফেরত দেওয়া স্ত্রীর উপর আবশ্যক নয়, কারণ এটি স্বামীর দায়িত্ব পালনের অংশ।
- তবে যদি প্রমাণিত হয় যে, টাকাটি ভরণপোষণ হিসেবে নয়, বরং আমানত (অন্যায়ভাবে জমা) হিসেবে দেওয়া হয়েছিল, তাহলে তা ফেরত দিতে হবে। প্রশ্নে উল্লেখ আছে “ভরনপোষণ এর নামে” — অর্থাৎ তা নফকা হিসেবেই দেওয়া হয়েছে। সুতরাং নফকা হিসেবে পাঠানো ২-৩ মাসের টাকা ফেরত দেওয়া আবশ্যক নয়।
২. ঘুরতে যাওয়ার জন্য জমা রাখা ৫০ হাজার টাকা:
- এটি ভরণপোষণ নয়, বরং একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে (ভ্রমণ) জমা রাখা আমানত।
- যেহেতু ভ্রমণ বাতিল হয়ে গেছে এবং স্বামী টাকা ফেরত চাচ্ছে, তাই এই ৫০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া স্ত্রীর উপর আবশ্যক।
- আপনি ১৬ তারিখের পর ফেরত দিতে চাইলে তা জায়েয, তবে বিলম্ব করা উচিত নয়; যত দ্রুত সম্ভব ফেরত দেওয়া উত্তম।
৩. ধার করে ৯ হাজার টাকা স্বামীর বোনের অ্যাকাউন্টে দেওয়া:
- স্বামীর অনুমতিক্রমে এটি করে থাকলে এটি স্বামীর পাওনা পরিশোধের অংশ হিসেবে গণ্য হবে।
অন্যথায় ৯ হাজার টাকা স্বামীর বোন থেকে উত্তোলন করে স্বামীকে দিতে হবে।
৪. সারসংক্ষেপ:
- ভরণপোষণের টাকা ফেরত দেওয়া আবশ্যক নয় (যদি তা সত্যিই নফকা হিসেবে দেওয়া হয়)।
- ভ্রমণের জন্য জমা রাখা ৫০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া আবশ্যক।
- ৯ হাজার টাকা স্বামীর বোন থেকে উত্তোলন করে স্বামীকে দিতে হবে।
- স্বামী যদি ভরণপোষণের টাকাও ফেরত চায়, তবে শরীয়ত তাকে তা পাওয়ার অধিকার দেয় না; তবে পারিবারিক সমঝোতার স্বার্থে উভয়ের সম্মতিতে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
হানাফি কিতাবের রেফারেন্স:
- রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন): “النفقة حق للزوجة، فإذا دفعها الزوج إليها ملكتها، وليس له استردادها” (স্ত্রীর ভরণপোষণ তার হক; স্বামী তা দিলে স্ত্রী তার মালিক হয়ে যায়, ফেরত চাওয়ার অধিকার স্বামীর নেই)।
- ফাতাওয়া আলমগিরি: “إذا أنفق الزوج على زوجته نفقةً ثم أراد استردادها لم يملك ذلك” (স্বামী স্ত্রীর উপর ভরণপোষণ ব্যয় করার পর তা ফেরত চাইলে তা পাবে না)।
- বাদায়েউস সানায়ে: “النفقة تمليك، فإذا قبضتها الزوجة صارت ملكًا لها” (ভরণপোষণ একটি মালিকানা প্রদান; স্ত্রী তা গ্রহণ করলে তা তার সম্পত্তি হয়ে যায়)।
- আল-হিদায়া: “وليس للزوج أن يسترد ما أنفقه على زوجته” (স্বামী স্ত্রীর উপর যা ব্যয় করেছে তা ফেরত নিতে পারবে না)।
উপদেশ:
পরিবারে শান্তি ও সমঝোতা বজায় রাখতে উভয়ের মধ্যে আলোচনা করে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা উত্তম। ভরণপোষণের টাকা ফেরত চাওয়া শরীয়তসম্মত নয়; তবে ভ্রমণের জন্য জমা রাখা টাকা ফেরত দেওয়া আপনার দায়িত্ব।