ইজাব কবুল ছাড়া শুধু সাইন দ্বারা বিবাহ হবে কিনা!
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
হুজুর, একটি জটিল বিষয়ে শরয়ী সমাধানের জন্য আপনাদের নিকট ফতোয়া জানতে চাচ্ছি।
একজন প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে ও একজন প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের মধ্যে আগে থেকেই সম্পর্ক ছিল। পরবর্তীতে তাদের পারিবারিকভাবে বিয়ের কথাবার্তাও চলছিল। কিন্তু বিয়ের পূর্বেই তারা একটি আবাসিক হোটেলে যায়।
হোটেলের রিসেপশনে থাকা দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির সামনে তারা নিজেদের স্বামী-স্ত্রী (হাজবেন্ড-ওয়াইফ) হিসেবে পরিচয় দেয়। রিসেপশনের লোকেরা তাদের কাছে কাবিননামা চাইলে তারা তা দেখাতে পারেনি।রিসিপশনে থাকা প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমান বুঝে যায় যে তারা অবিবাহিত।লোকদুইজন পরে তারা ভবিষ্যতে বিয়ে করবে বলে বিষয়টি মিটিয়ে নেয়।
এরপর হোটেলের ফর্ম/ডকুমেন্ট পূরণের সময় রিসেপশনের লোকেরা তাদের স্বামী-স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিতে বলে। তখন ছেলে হোটেলের কাগজে স্বামী ও স্ত্রীর নির্ধারিত ঘরে নিজেদের নাম লেখে এবং মেয়েটিকে সাইন করতে বলে। মেয়েটি কোনো কোন কথা না বলে সাইন করে দেয়। অন্যান্য হোটেল-ডকুমেন্টেও তারা নিজেদের স্বামী-স্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করে এবং সেগুলোতে স্বাক্ষর করে।
ঘটনাস্থলে রিসেপশনের ওই দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন এবং তারা ফর্ম পূরণে সহযোগিতা করছিলেন।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: ছেলে ও মেয়ে কেউই সেখানে মুখে/মৌখিকভাবে “আমি তোমাকে স্বামী হিসেবে গ্রহণ করলাম”, “আমি তোমাকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করলাম”, “বিয়ে করলাম” বা এ ধরনের কোনো ইজাব-কবুলের বাক্য বলেনি। ছেলে শুধু মেয়েটিকে সাইন করতে বলেছিল এবং মেয়েটি সাইন করেছিল।
হোটেলের কাগজে ঠিক এতটুকু নিশ্চিত যে তারা নিজেদের স্বামী-স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিল এবং স্বামী-স্ত্রীর ঘরে নিজেদের নাম লিখে স্বাক্ষর করেছিল।
পরবর্তীতে তারা কিছুদিন স্বামী-স্ত্রীর মতো অবস্থান করে এবং হারাম সম্পর্কে লিপ্ত হয়। বর্তমানে উভয়েই এ কাজের জন্য অত্যন্ত অনুতপ্ত এবং আল্লাহর কাছে তওবা করেছে।
এখন নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানতে চাই:
১। উপরোক্ত ঘটনার মাধ্যমে হানাফি মাযহাব অনুযায়ী তাদের মধ্যে কোনো বৈধ নিকাহ সংঘটিত হয়েছিল কি না?
২। দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির সামনে নিজেদের স্বামী-স্ত্রী হিসেবে মৌখিক পরিচয় দেওয়া এবং হোটেলের কাগজে স্বামী-স্ত্রীর ঘরে নিজেদের নাম লিখে স্বাক্ষর করার দ্বারা নিকাহ সংঘটিত হতে পারে কি?
৩। শুধু “স্বামী-স্ত্রী” হিসেবে পরিচয় দেওয়া—মৌখিকভাবে বা লিখিতভাবে—হানাফি ফিকহের দৃষ্টিতে কি ইজাব ও কবুল হিসেবে গণ্য হতে পারে?
৪। ছেলে যদি দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির সামনে মেয়েকে শুধু “সাইন করো” বলে এবং মেয়েটি কোনো মৌখিক কথা না বলে সেই কাগজে স্বাক্ষর করে, তাহলে এটিকে ইজাব-কবুল হিসেবে গণ্য করে নিকাহ সংঘটিত হয়েছে বলা যাবে কি?
৫। উক্ত দুইজন ব্যক্তি উপস্থিত থেকে পুরো ঘটনা দেখছিলেন,তাদের এই উপস্থিতি কি নিকাহের সাক্ষিত্বের জন্য যথেষ্ট হবে?
৬। পরবর্তীতে ঝগড়ার সময় ছেলেটি মেয়েটিকে কিনায়া তালাকের বাক্য(অন্য কোন ছেলে দেখ) নিয়তসহ বলে ফেলেছিল, তার দ্বারা তালাক সংঘটিত হয়েছে কি না?
(সে বলছে, বাক্যটি বলার সময় তালাকের নিয়ত ছিল; তবে নিয়তের সংখ্যা সম্পর্কে সে নিশ্চিত নয়। একই ধরনের নিয়ত তার মনে একাধিকবার এসেছিল বাক্যটি বলার সময়।)
৭। আর যদি হোটেলের ওই ঘটনার মাধ্যমে কোনো নিকাহ সংঘটিত না হয়ে থাকে, তাহলে পরবর্তীতে উক্ত ছেলে কি সেই মেয়েকেই শরিয়তসম্মতভাবে নতুন করে নিকাহ করতে পারবে? পূর্বের হারাম সম্পর্ক ও হোটেলে একসঙ্গে থাকার কারণে ভবিষ্যতে তাদের বৈধ বিবাহে কোনো শরয়ী বাধা সৃষ্টি হবে কি?
৮। উভয়ে বর্তমানে তওবা করেছে। তারা যদি শরিয়তসম্মতভাবে নতুন করে নিকাহ করতে চায়, তাহলে পূর্বের ঘটনাটি বিবেচনায় রেখে কীভাবে নিকাহ করলে নিশ্চিতভাবে সহীহ হবে?
অনুগ্রহ করে হানাফি মাযহাবের আলোকে বিস্তারিত ফতোয়া প্রদান করার অনুরোধ করছি।
আমার পক্ষে স্থানীয় কোন মুফতির সাথে বর্তমানে যোগাযোগ করার সুযোগ নেই।আপনাদের দেওয়া সমাধান অনুযায়ী আমাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।আমার সারাজীবনের হালাল হারামের প্রশ্ন।তাই ব্যাপারটা আপনারা দয়া করে বিশেষ ভাবে দেখবেন আশা করি।
আল্লাহ তাআলা আপনাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন।
Answer
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ
প্রিয় প্রশ্নকারী ভাই, আপনার প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল। আল্লাহ তাআলা আপনার উভয়ের তওবা কবুল করুন এবং হালাল পথে জীবন গঠনের তাওফিক দান করুন। নিচে হানাফি মাযহাবের আলোকে ধাপে ধাপে বিস্তারিত উত্তর প্রদান করা হলো।
মূল নীতি: নিকাহর রুকন (স্তম্ভ)
হানাফি ফিকহ অনুযায়ী নিকাহ সংঘটিত হওয়ার জন্য দুটি মৌলিক রুকন (স্তম্ভ) অপরিহার্য:
১. ইজাব (প্রস্তাব) — পাত্রপক্ষের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে বিবাহের প্রস্তাব দেওয়া।
২. কবুল (গ্রহণ) — পাত্রীপক্ষের পক্ষ থেকে তা গ্রহণ করা।
আল-হিদায়া গ্রন্থে ইমাম বুরহানুদ্দীন আল-মারগীনানী (রহ.) বলেন: "النكاح ينعقد بالإيجاب والقبول" — "নিকাহ ইজাব ও কবুল দ্বারা সংঘটিত হয়।" (আল-হিদায়া, কিতাবুন নিকাহ, খণ্ড ১, পৃ. ২৩০)
ইজাব-কবুলের শর্ত:
- উভয় বাক্য একই মজলিসে (সভায়) হতে হবে।
- বাক্যগুলো নিকাহর অর্থে স্পষ্ট বা সুস্পষ্ট ইঙ্গিতবাহী হতে হবে।
- "বিয়ে", "নিকাহ", "স্বামী-স্ত্রী" ইত্যাদি শব্দ দ্ব্যর্থতাহীনভাবে নিকাহর অর্থে ব্যবহৃত হতে হবে।
রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন শামী রহ.)-এ উল্লেখ আছে: "يشترط في الإيجاب والقبول أن يكونا بلفظ يدل على النكاح دلالة ظاهرة" — "ইজাব ও কবুলে এমন শব্দ থাকতে হবে যা স্পষ্টভাবে নিকাহর উপর দলালত করে।" (রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৩, পৃ. ৯)
প্রশ্ন ১: উপরোক্ত ঘটনার মাধ্যমে হানাফি মাযহাব অনুযায়ী কোনো বৈধ নিকাহ সংঘটিত হয়েছিল কি?
উত্তর: না, কোনো বৈধ নিকাহ সংঘটিত হয়নি।
কারণ:
- ছেলে ও মেয়ে কেউই মুখে ইজাব বা কবুলের বাক্য উচ্চারণ করেনি।
- "স্বামী-স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেওয়া" বা "হোটেলের ফর্মে স্বাক্ষর করা" — এগুলো নিকাহর ইজাব-কবুল হিসেবে গণ্য নয়।
- নিকাহর জন্য প্রয়োজনীয় স্পষ্ট ইজাব-কবুলের বাক্য অনুপস্থিত ছিল।
ফাতাওয়া আলমগিরি-তে আছে: "لا ينعقد النكاح بالكتابة ولا بالإشارة من القادر على الكلام" — "কথা বলতে সক্ষম ব্যক্তির লেখা বা ইশারায় নিকাহ সংঘটিত হয় না।" (ফাতাওয়া আলমগিরি, খণ্ড ১, পৃ. ২৭৮)
প্রশ্ন ২: দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির সামনে নিজেদের স্বামী-স্ত্রী হিসেবে মৌখিক পরিচয় দেওয়া এবং হোটেলের কাগজে স্বামী-স্ত্রীর ঘরে নিজেদের নাম লিখে স্বাক্ষর করার দ্বারা নিকাহ সংঘটিত হতে পারে কি?
উত্তর: না, এভাবে নিকাহ সংঘটিত হয় না।
কারণ:
- "আমরা স্বামী-স্ত্রী" — এটি একটি তথ্যমূলক বাক্য (ইখবার), ইজাব-কবুলের বাক্য (ইনশা) নয়।
- নিকাহ সংঘটিত হয় ইনশা (সৃষ্টিমূলক) বাক্য দ্বারা, যেমন: "আমি তোমাকে বিয়ে করলাম" বা "আমি তোমাকে গ্রহণ করলাম"।
- হোটেলের ফর্ম পূরণ করা একটি প্রশাসনিক কার্যক্রম, যা নিকাহর ইজাব-কবুল নয়।
ইমদাদুল ফাতাওয়া (মুফতি মুহাম্মদ শফি রহ.)-তে উল্লেখ আছে: "نكاح کے لیے ایجاب و قبول کا صریح الفاظ میں ہونا ضروری ہے، محض دعویٰ یا تحریر کافی نہیں" (ইমদাদুল ফাতাওয়া, খণ্ড ২, পৃ. ১৭০)
প্রশ্ন ৩: শুধু "স্বামী-স্ত্রী" হিসেবে পরিচয় দেওয়া—মৌখিকভাবে বা লিখিতভাবে—হানাফি ফিকহের দৃষ্টিতে কি ইজাব ও কবুল হিসেবে গণ্য হতে পারে?
উত্তর: না, এটি ইজাব-কবুল হিসেবে গণ্য নয়।
কারণ:
- ইজাব-কবুল হলো ইনশাইয়া বাক্য (সৃষ্টিমূলক), যা নিকাহর নতুন সম্পর্ক স্থাপন করে।
- "স্বামী-স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেওয়া" হলো ইখবারিয়া বাক্য (তথ্যমূলক), যা বিদ্যমান সম্পর্কের কথা বলে।
- হানাফি ফিকহে নিকাহর জন্য স্পষ্ট ইনশাইয়া বাক্য অপরিহার্য।
আল-হিদায়া-তে ইমাম মারগীনানী (রহ.) বলেন: "وينعقد بلفظ النكاح والتزويج" — "নিকাহ 'নিকাহ' ও 'তাযবীজ' শব্দ দ্বারা সংঘটিত হয়।" (আল-হিদায়া, খণ্ড ১, পৃ. ২৩১)
প্রশ্ন ৪: ছেলে যদি দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির সামনে মেয়েকে শুধু "সাইন করো" বলে এবং মেয়েটি কোনো মৌখিক কথা না বলে সেই কাগজে স্বাক্ষর করে, তাহলে এটিকে ইজাব-কবুল হিসেবে গণ্য করে নিকাহ সংঘটিত হয়েছে বলা যাবে কি?
উত্তর: না, এটিকে ইজাব-কবুল হিসেবে গণ্য করা যাবে না।
কারণ:
- "সাইন করো" — এটি নিকাহর ইজাব নয়, বরং একটি নির্দেশনা।
- মেয়েটির নীরব স্বাক্ষর — এটি কবুলের বাক্য নয়।
- নিকাহর জন্য উভয় পক্ষের স্পষ্ট মৌখিক ইজাব-কবুল অপরিহার্য।
রাদ্দুল মুহতার-এ ইবনে আবিদীন (রহ.) বলেন: "ولا ينعقد النكاح بالسكوت ولا بالكتابة مع القدرة على النطق" — "নীরবতা বা লেখার দ্বারা নিকাহ সংঘটিত হয় না, যখন কথা বলার সামর্থ্য আছে।" (রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৩, পৃ. ১০)
প্রশ্ন ৫: উক্ত দুইজন ব্যক্তি উপস্থিত থেকে পুরো ঘটনা দেখছিলেন, তাদের এই উপস্থিতি কি নিকাহের সাক্ষিত্বের জন্য যথেষ্ট হবে?
উত্তর: না, তাদের উপস্থিতি নিকাহের সাক্ষিত্বের জন্য যথেষ্ট নয়।
কারণ:
- সাক্ষিত্বের পূর্বশর্ত হলো প্রথমে বৈধ ইজাব-কবুল সংঘটিত হওয়া।
- যেহেতু এখানে কোনো ইজাব-কবুলই হয়নি, তাই সাক্ষীদের উপস্থিতি অর্থহীন।
- সাক্ষী শুধু সংঘটিত নিকাহর সাক্ষ্য দেয়, নিকাহ সৃষ্টি করে না।
ফাতাওয়া উসমানি (মুফতি তাকি উসমানি দা.বা.)-তে উল্লেখ আছে: "نکاح کے لیے گواہوں کی موجودگی شرط ہے، لیکن گواہ ایجاب و قبول کے قائم مقام نہیں ہو سکتے" (ফাতাওয়া উসমানি, খণ্ড ২, পৃ. ২২৫)
প্রশ্ন ৬: পরবর্তীতে ঝগড়ার সময় ছেলেটি মেয়েটিকে কিনায়া তালাকের বাক্য (অন্য কোন ছেলে দেখ) নিয়তসহ বলে ফেলেছিল, তার দ্বারা তালাক সংঘটিত হয়েছে কি না?
**উত্তর: যেহেতু বিবাহই হয়নি,তাই তালাকের তো কোনো প্রশ্ন-ই উঠেনা।
প্রশ্ন ৭: যদি হোটেলের ওই ঘটনার মাধ্যমে কোনো নিকাহ সংঘটিত না হয়ে থাকে, তাহলে পরবর্তীতে উক্ত ছেলে কি সেই মেয়েকেই শরিয়তসম্মতভাবে নতুন করে নিকাহ করতে পারবে? পূর্বের হারাম সম্পর্ক ও হোটেলে একসঙ্গে থাকার কারণে ভবিষ্যতে তাদের বৈধ বিবাহে কোনো শরয়ী বাধা সৃষ্টি হবে কি?
**উত্তর: পরবর্তীতে উক্ত ছেলে কি সেই মেয়েকেই শরিয়তসম্মতভাবে নতুন করে নিকাহ করতে পারবে ভবিষ্যতে তাদের বৈধ বিবাহে কোনো শরয়ী বাধা সৃষ্টি হবেনা।
প্রশ্ন ৮: উভয়ে বর্তমানে তওবা করেছে। তারা যদি শরিয়তসম্মতভাবে নতুন করে নিকাহ করতে চায়, তাহলে পূর্বের ঘটনাটি বিবেচনায় রেখে কীভাবে নিকাহ করলে নিশ্চিতভাবে সহীহ হবে?
উত্তর: নিশ্চিতভাবে সহীহ নিকাহর জন্য নিম্নলিখিত পদক্ষেপ গ্রহণ করুন:
১. খাঁটি তওবা:
- উভয়ে আল্লাহর কাছে খাঁটি তওবা করুন।
- ভবিষ্যতে এমন হারাম কাজ থেকে বিরত থাকার দৃঢ় সংকল্প করুন।
- প্রয়োজনে ইস্তেগফার ও নফল ইবাদত বাড়ান।
২. শরিয়তসম্মত নিকাহর পদ্ধতি:
ক) ওয়ালি (অভিভাবক) এর উপস্থিতি:
- হানাফি মাযহাব অনুযায়ী প্রাপ্তবয়স্কা মেয়ে নিজের সম্মতিতে নিকাহ করতে পারে, তবে ওয়ালির উপস্থিতি সুন্নত ও উত্তম।
- পারিবারিকভাবে সম্মতি থাকলে অভিভাবকের মাধ্যমে করাই সর্বোত্তম।
খ) ইজাব-কবুল স্পষ্টভাবে:
- ছেলে বলবে: "আমি তোমাকে আমার স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করলাম" (أنا تزوجتك / আমি তোমাকে বিয়ে করলাম)।
- মেয়ে বলবে: "আমি তোমাকে আমার স্বামী হিসেবে গ্রহণ করলাম" (أنا قبلت نكاحك / আমি তোমাকে স্বামী হিসেবে গ্রহণ করলাম)।
- অথবা ওয়ালি বলবে: "আমি আমার মেয়েকে তোমার সাথে বিয়ে দিলাম" এবং ছেলে বলবে: "আমি কবুল করলাম"।
গ) দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম সাক্ষী:
- দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক, বুদ্ধিমান, মুসলিম পুরুষ সাক্ষী উপস্থিত থাকতে হবে।
- সাক্ষীরা ইজাব-কবুল শুনবে ও বুঝবে।
ঘ) একই মজলিস:
- ইজাব ও কবুল একই সভায় হতে হবে।
ঙ) মোহর নির্ধারণ:
- মোহর নির্ধারণ করা ওয়াজিব। কমপক্ষে ১০ দিরহাম (আনুমানিক ৩০.৬১৮ গ্রাম রূপা) বা তার সমমূল্য।
- মোহর নির্ধারণ না করলেও নিকাহ সহীহ হবে, তবে মোহরে মিসল (সমপর্যায়ের মোহর) ধার্য হবে।
চ) ঘোষণা ও প্রকাশ:
- নিকাহর ঘোষণা দেওয়া সুন্নত। গোপনীয়ভাবে নিকাহ করা মাকরূহ।
- ওয়ালিমা করা সুন্নত।