শশুর-শাশুড়িকে আব্বা-আম্মা ডাকা যাবে কি?
Family Life · Hanafi
Question
Answer
প্রশ্ন: শশুর-শাশুড়িকে আব্বা-আম্মা ডাকা যাবে কি?
উত্তর:
হ্যাঁ, শশুর-শাশুড়িকে সম্মানসূচকভাবে "আব্বা-আম্মা" বা "বাবা-মা" ডাকা জায়েজ ও বৈধ। এতে কোনো শরয়ি বাধা নেই। বরং এভাবে ডাকা সম্মান ও সৌজন্যের অন্তর্ভুক্ত, যা ইসলামে প্রশংসনীয়।
তবে এটি আবশ্যক নয়,কেউ চাইলে আন্টি আংকেল বলেও ডাকতে পারবে।
দলিল:
আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَقَضَىٰ رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا "তোমার প্রতিপালক নির্দেশ দিয়েছেন যে, তোমরা তিনি ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করো না এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো।" (সূরা বনী ইসরাইল: ২৩)
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
إِنَّ مِنْ إِجْلَالِ اللَّهِ إِكْرَامَ ذِي الشَّيْبَةِ الْمُسْلِمِ "নিশ্চয়ই আল্লাহর সম্মান করার অন্তর্ভুক্ত হলো মুসলিম বৃদ্ধ ব্যক্তিকে সম্মান করা।" (সুনানে আবু দাউদ: ৪৮৪৩)
ফিকহি ব্যাখ্যা:
১. শশুর-শাশুড়ি স্ত্রীর পিতা-মাতা। তাদেরকে "আব্বা-আম্মা" ডাকা শুধু বৈধই নয়, বরং আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা ও পারিবারিক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য উত্তম।
২. ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) "রাদ্দুল মুহতার"-এ উল্লেখ করেছেন যে, আত্মীয়-স্বজনকে সম্মানসূচক সম্বোধন করা মুস্তাহাব, এবং এতে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। (রাদ্দুল মুহতার: ৬/৪২১)
৩. মুফতি তাকি উসমানি (দা.বা.) "ফাতাওয়া উসমানি"-তে বলেন, শ্বশুর-শাশুড়িকে পিতা-মাতার মতো সম্মান করা উচিত এবং তাদেরকে "আব্বা-আম্মা" ডাকাতে কোনো সমস্যা নেই। (ফাতাওয়া উসমানি: ২/৩৩০)
৪. তবে মনে রাখতে হবে—এটি শুধু সম্বোধনগত বিষয়; এতে কেউ প্রকৃত পিতা-মাতা হয়ে যায় না, এবং উত্তরাধিকার বা মাহরাম সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন হয় না।
উপসংহার:
শশুর-শাশুড়িকে "আব্বা-আম্মা" ডাকা সম্পূর্ণ জায়েজ। এটি পারিবারিক সম্পর্ক মজবুত করে এবং ইসলামি আদবের অন্তর্ভুক্ত। তবে সম্বোধনের এই বিষয়টি আকিদা বা শরয়ি বিধানের সাথে সম্পর্কিত নয়, বরং এটি সামাজিক সৌজন্যের বিষয়।