জমি কিনে মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারগণ ভোগ করলে কি সওয়াব হবে?

Family Life · Hanafi

Question No: 6585
Questioner: Santona
Question Asked: 08 Oct 2026, 09:36 PM
Reviewed & Published: 08 Oct 2026, 09:57 PM
Views: 11
Tokens: 3,400
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম।। আমার প্রশ্ন হলো আমি যদি কষ্ট করে টাকা জমিয়ে সেই টাকা দিয়ে জমি কিনি।জমিটা আমার নামে কিনব।।আমি যখন মারা যাব যদি আমি জীবনদশশায় জমি বিক্রি না করি আর সেই জমি আমার ছেলে মেয়ে বা যারা উত্তরাধিকার সুত্রে পাবে।তারা ভোগ করবে।

এখন আমি জানতে চাই এই যে আমি জমি কিনলাম আর সেই জমি আমি দুনিয়াতে না থাকলে যারা ভোগ করবে।এতে কি আমি কোন সওয়াব পাব?এইটা কি সদকায়ে জারিয়া হবে?

Answer

**উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين، أما بعد:

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ: আপনি কষ্ট করে টাকা জমিয়ে জমি কিনেছেন, জমি আপনার নামে। মৃত্যুর পর যদি জীবদ্দশায় বিক্রি না করেন, তবে উত্তরাধিকারগণ (ছেলে-মেয়ে) তা ভোগ করবে। জানতে চান—এতে আপনি সওয়াব পাবেন কি? এটি কি সদকায়ে জারিয়া হবে?

উত্তর:

আপনি যে জমি কষ্টার্জিত হালাল টাকায় কিনেছেন এবং তা আপনার নামে মালিকানায় রয়েছে—এটি সম্পূর্ণ বৈধ। মৃত্যুর পর আপনার উত্তরাধিকারগণ শরীয়তসম্মতভাবে সেই জমির মালিক হবে এবং ভোগ করবে। এটি ইসলামী উত্তরাধিকার আইন (ইলমুল ফারায়েজ) অনুযায়ী তাদের হক। তবে শুধু উত্তরাধিকারগণ ভোগ করবে—এই উদ্দেশ্যে জমি রেখে যাওয়াকে সদকায়ে জারিয়া বলা যাবে না।

কারণ সদকায়ে জারিয়ার সংজ্ঞা হলো: এমন স্থায়ী নেক কাজ, যার উপকারিতা মৃত্যুর পরও অব্যাহত থাকে এবং যা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ওয়াকফ বা দান করা হয়। উত্তরাধিকারগণ পাওয়া সম্পদ তাদের নিজস্ব মালিকানা—এটি দান বা ওয়াকফ নয়; বরং এটি মীরাস (উত্তরাধিকার), যা তাদের শরীয়তপ্রাপ্ত হক।

দলিল:

আল্লাহ তাআলা বলেন:

"তোমাদের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করে এবং স্ত্রী রেখে যায়, তারা যেন নিজেদের সম্পত্তি থেকে এক বছরের খোরাক ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করে যায়..." (সূরা বাকারা: ২৪০)

আরও ইরশাদ:

"নারী-পুরুষের জন্য পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়দের রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে নির্ধারিত অংশ রয়েছে..." (সূরা নিসা: ৭)

হাদিসে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:

"তোমরা নিজেদের মধ্যে ফারায়েজ (উত্তরাধিকার) অনুযায়ী সম্পদ বণ্টন করো।" (সহিহ বুখারি: ৬৭৩২, সহিহ মুসলিম: ১৬১৫)

সদকায়ে জারিয়ার হাদিস:

"মানুষ মৃত্যুবরণ করলে তার আমল বন্ধ হয়ে যায়, তবে তিনটি আমল ছাড়া: সদকায়ে জারিয়া, এমন ইলম যা দ্বারা উপকার হয়, এবং নেক সন্তান যে তার জন্য দুআ করে।" (সহিহ মুসলিম: ১৬৩১)

ব্যাখ্যা: এখানে সদকায়ে জারিয়া বলতে ওয়াকফকৃত সম্পত্তি বা স্থায়ী দান বোঝানো হয়েছে, যা আল্লাহর রাস্তায় দান করা হয় এবং তার উপকারিতা সাধারণভাবে মানুষের জন্য অব্যাহত থাকে। উত্তরাধিকারগণ পাওয়া সম্পদ তাদের নিজস্ব মালিকানায় আসে; তারা তা ভোগ করলে মৃত ব্যক্তির জন্য সওয়াব হয় না—যদি না তারা মৃতের জন্য দুআ করে বা নেক সন্তান হিসেবে দুআ করে। তবে উত্তরাধিকারগণ যদি মৃতের সম্পদ থেকে নিজ ইচ্ছায় দান-সদকা করে, তাহলে মৃত ব্যক্তি সওয়াব পাবে (যদি মৃতের পক্ষ থেকে ওসিয়ত থাকে বা তারা স্বেচ্ছায় করে)।

সারসংক্ষেপ:

  1. জমি আপনার নামে থাকলে তা আপনার মালিকানা; মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারগণ শরীয়ত অনুযায়ী মালিক হবে।
  2. শুধু উত্তরাধিকারগণ ভোগ করবে—এটি সদকায়ে জারিয়া নয়; বরং মীরাস।
  3. আপনি জীবদ্দশায় জমি আল্লাহর রাস্তায় ওয়াকফ করলে বা সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দান করলে সওয়াব পাবেন।
  4. উত্তরাধিকারগণ আপনার জন্য দুআ করলে বা আপনার পক্ষ থেকে সদকা করলে আপনি সওয়াব পাবেন।
  5. জমি বিক্রি না করে রেখে যাওয়া জায়েজ; তবে উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টন শরীয়ত অনুযায়ী হতে হবে।

হানাফি কিতাবের রেফারেন্স:

  • রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদিন): খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ৭৫৯—ফারায়েজ অধ্যায়।
  • ফাতাওয়া আলমগিরি: খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ৪৪৮—মীরাস বণ্টন।
  • ফাতাওয়া উসমানি: খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩৩৫—সদকায়ে জারিয়া ও ওয়াকফ।
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া: খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ২৬৮—ওয়াকফ ও মীরাসের পার্থক্য।
  • বাহিশতী জেওর: পৃষ্ঠা ৫৯০—উত্তরাধিকার ও সদকা।

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.