ওয়াসওয়াসা (শয়তানের কুমন্ত্রণা) বেশি হওয়ার সমাধান।

Waswasa-OCD · Ahle Hadith / Salafi

Question No: 6577
Questioner: Nadia 0696
Question Asked: 08 Oct 2026, 06:38 PM
Reviewed & Published: 08 Oct 2026, 06:43 PM
Views: 22
Tokens: 3,347
This answer is according to the 'Ahle Hadith / Salafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহু,,আমার ওয়াও ওয়াসা বেশি আমি এক কাজ বার বার করে ফেলি যেমন কুরআন ছুঁয়ে আল্লাহর কসম বলে বলি নামাজ ভাঙবোনা ভাঙলে 50 রোজা রাখবো 50 রাকাত নামাজ পড়বো অনেক কিছু বলি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনা এখন আমার করণীয় কী

Answer

ওয়াসওয়াসা (শয়তানের কুমন্ত্রণা) বেশি হওয়ার সমাধান

উত্তর:

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রিয় বোন, আপনার সমস্যাটি হলো ওয়াসওয়াসা (শয়তানের কুমন্ত্রণা) এবং বারবার কসম করা ও মানত করা। এটি একটি গুরুতর বিষয়, তবে এর সমাধান ইসলামে স্পষ্টভাবে বর্ণিত আছে। আসুন ধাপে ধাপে বুঝে নিই।


১. বারবার কসম করা ও মানত করা — এটা বন্ধ করুন

আল্লাহ তা'আলা কুরআনে বলেছেন:

"وَلَا تَجْعَلُوا اللَّهَ عُرْضَةً لِّأَيْمَانِكُمْ" "আর তোমরা আল্লাহকে তোমাদের শপথের লক্ষ্যবস্তু বানিও না।" — (সূরা আল-বাকারা: ২২৪)

আরও বলেছেন:

"وَاحْفَظُوا أَيْمَانَكُمْ" "আর তোমরা তোমাদের শপথসমূহ রক্ষা করো।" — (সূরা আল-মায়িদা: ৮৯)

ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.) বলেন: "বারবার কসম করা ও মানত করা শয়তানের পক্ষ থেকে একটি ফাঁদ, যার মাধ্যমে সে বান্দাকে বিভ্রান্ত করে।" — (মাজমুউল ফাতাওয়া)

ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) বলেছেন: "শয়তান মানুষকে বারবার কসম ও মানত করিয়ে ফেলে, যাতে সে নিজেকে কষ্টে ফেলে এবং দ্বীনের প্রতি বিরক্ত হয়ে যায়।" — (ইগাসাতুল লাহফান)


২. আপনি যা করেছেন তার বিধান

ক) কুরআন ছুঁয়ে কসম করা:

কুরআন ছুঁয়ে কসম করা জায়েয, তবে বারবার করা উচিত নয়। এটি কসমের শক্তির মধ্যে পড়ে।

খ) নামাজ ভাঙলে ৫০ রোজা / ৫০ রাকাত নামাজের মানত:

এটি একটি শর্তযুক্ত মানত (نذر معلق)। আপনি বলেছেন — "যদি নামাজ ভাঙি, তাহলে ৫০ রোজা রাখবো।"

★মানত পূরণ** — যদি আপনি সত্যিই নামাজ ভেঙে থাকেন, তা করা ওয়াজিব। কিন্তু ৫০ রোজা বা ৫০ রাকাত নামাজ — এত বেশি পরিমাণে মানত করা মাকরূহ এবং এটি ওয়াসওয়াসার লক্ষণ।

শাইখ ইবন বায (রহ.) বলেন: "মানত করা উত্তম নয়, কারণ নবী ﷺ বলেছেন: 'মানত কোনো ভালো কিছু আনে না, এটি শুধু কৃপণকে বের করে আনে।'" — (সহীহ বুখারী: ৬৬০৮)

শাইখ আল-আলবানী (রহ.) বলেছেন: "শর্তযুক্ত মানত পূরণ করা ওয়াজিব, তবে যদি তা মানুষের সামর্থ্যের বাইরে হয়, তাহলে কাফফারা দিতে হবে।"


৩. এখন আপনার করণীয়

ধাপ ১: তওবা করুন

আল্লাহর কাছে খাঁটি তওবা করুন — বারবার কসম করা ও মানত করার জন্য।

"وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَ الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ" "আর হে মুমিনগণ! তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তওবা করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।" — (সূরা আন-নূর: ৩১)

ধাপ ২: ভবিষ্যতে কসম ও মানত বন্ধ করুন

শাইখ ইবন উসাইমীন (রহ.) বলেন: "যে ব্যক্তি ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত, তার জন্য কসম ও মানত করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকা উচিত।" — (ফাতাওয়া নূরুন আলাদ দারব)

ধাপ ৩: ওয়াসওয়াসার চিকিৎসা

ক) আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া:

"وَقُل رَّبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ" "বলুন: হে আমার রব! আমি আপনার কাছে শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে আশ্রয় চাই।" — (সূরা আল-মুমিনুন: ৯৭)

খ) "আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম" বলা

গ) ওয়াসওয়াসাকে উপেক্ষা করা — এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শয়তান যখন দেখে আপনি তার কুমন্ত্রণায় কান দিচ্ছেন না, সে চলে যায়।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.) বলেন: "ওয়াসওয়াসার চিকিৎসা হলো — এর প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করা এবং আল্লাহর যিকিরে লিপ্ত থাকা।" — (মাজমুউল ফাতাওয়া: ১৪/১৪৭)

ঘ) নিয়মিত যিকির ও কুরআন তিলাওয়াত

ঙ) প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন — যদি ওয়াসওয়াসা অতিরিক্ত হয়, তবে মানসিক চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জায়েয।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.