নফল রোজার নিয়ত ফজরের পর করা যাবে কি? জানাবাতের অবস্থায় রোজা রাখা কি সহিহ?
Siyam-Fasting · Hanafi
Question
Answer
নফল রোজার নিয়ত ও জানাবাতের অবস্থায় গোসল—বিস্তারিত ফিকহি বিধান
প্রশ্নের সারসংক্ষেপ
প্রশ্নকারী ভেবেছিলেন নফল রোজা রাখবেন। কিন্তু রাতে ঘুমিয়ে পড়েন এবং জানাবাতের (স্বপ্নদোষের) কারণে গোসল ফরজ হয়ে যায়। তিনি সাহরি খেতেও পারেননি। ৫টায় ঘুম থেকে উঠে দেখেন, ফজরের ওয়াক্ত শুরু হয়েছে ৪টা ৩০ মিনিটে। তিনি উঠে সাথে সাথে কুলি করেন এবং জানাবাতের গোসল সম্পন্ন করেন। এই অবস্থায় তার নফল রোজা রাখা যাবে কি?
এক্ষেত্রে যদি আপনার গলার মধ্যে পানি চলে গিয়ে থাকে তাহলে আপনার নফল রোজা আদায় হবে না।
আর যদি আপনি নিশ্চিত হন যে আপনার গলার মধ্যে পানি চলে যায়নি,সেক্ষেত্রে নফল রোযা রাখা যাবে। এমতাবস্থায় অর্ধদিনের আগেই উক্ত নফল রোজার নিয়ত করা আবশ্যক।
হাদিস: রাসূলুল্লাহ ﷺ একদিন হযরত আয়েশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলেন, "তোমার কাছে কিছু খাবার আছে কি?" তিনি বললেন, "না।" তখন নবী ﷺ বললেন, "তাহলে আমি আজ রোজা রাখব।"
— সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১১৫৪; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ২৪৫৫
জানাবাত (স্বপ্নদোষ বা সহবাসের কারণে গোসল ফরজ হওয়া) রোজা ভঙ্গের কারণ নয়। বরং জানাবাতের অবস্থায় ফজর হয়ে গেলেও রোজা সহিহ হয়, তবে গোসল করা ফরজ।
কুরআন: "তোমাদের জন্য রাতের বেলা স্ত্রীদের সাথে মিলিত হওয়া হালাল করা হয়েছে... অতএব এখন তাদের সাথে মিলিত হও এবং আল্লাহ তোমাদের জন্য যা লিখে দিয়েছেন তা অন্বেষণ কর। আর খাও ও পান কর যতক্ষণ না ফজরের সাদা রেখা কালো রেখা থেকে স্পষ্ট হয়ে যায়। তারপর রাত পর্যন্ত রোজা পূর্ণ কর।"
— সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১৮৭
হাদিস: হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেন, "রাসূলুল্লাহ ﷺ জানাবাতের অবস্থায় ফজর করতেন (অর্থাৎ ভোর হয়ে যেত), রমজানে, তারপর তিনি গোসল করতেন এবং রোজা রাখতেন।"
— সহিহ বুখারি, হাদিস নং ১৯২৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১১০৯
রাদ্দুল মুহতার (২/৩৯৮)-এ ইবনে আবিদিন (রহ.) বলেন: "জানাবাতের অবস্থায় ফজর হয়ে গেলে রোজা সহিহ হয়, গোসল পরে করলেও কোনো ক্ষতি নেই।"
বাহিশতী জেওর (রোজার মাসায়েল)-এ উল্লেখ আছে:
- কুলি করা সুন্নত, কিন্তু গড়গড় করে কুলি করা রোজার জন্য মাকরুহ, কারণ পানি গলায় চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
- যদি পানি গলায় চলে যায় এবং তা জানা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়, তবে রোজা ভেঙে যাবে।
- তবে যদি ভুলে পানি গলায় চলে যায়, তবে রোজা ভঙ্গ হবে না।