"নিকাহের পাঠশালা" ও জীবনসঙ্গী নির্বাচনে কফু (সমকক্ষতা) সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিস্তারিত জানতে চাই?

Faith and Belief · Hanafi

Question No: 6541
Questioner: Mst Jannatul Ferdous Orny
Question Asked: 07 Oct 2026, 08:40 PM
Reviewed & Published: 07 Oct 2026, 09:53 PM
Views: 7
Tokens: 8,417
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু-আ'লাইকুম ওয়া রহমাতুল্লহি ওয়া বারকাতুহু

আপু নিকাহের পাঠশালায় বায়োডেটা সম্পর্কে কি এমন থাকবে যে মেয়ে যদি কলেজ বা ভার্সিটি বা আলিম পড়ে তাহলে ছেলে কোন ভার্সিটি বা মাদ্রাসার কোন পর্যায়ে পড়বে???আমি চাচ্ছি এটা কি ডিটেলস এ বলা হবেনে???

আপু আপনি একটু অ্যাডমিন আপুকে জিগেশ করে আমাকে একটু কষ্ট করে জানালে মুনাসিব হতো ইং শা আল্লহ।কারণ অনেকে আছে যে বুঝতে পারেনা আমি এই লেভেল এ আছি আমার এখন কোন লেভেল এর জীবনসঙ্গীর ইচ্ছা মনে ধারণ করতে পারি???
পর্দা সম্পর্কে কুরআন আ কি কি আয়াত আছে??? পর্দা সন্পর্কে কি কি হাদিস আছে একদম সব আমাকে দাও একটাও যেন বাদ না যায় প্লিজ।একদম সব দিবা এই পর্দা সম্পর্কে।
একদম মেয়েদের কঠোর ভাবে কিভাবে পর্দা করতে হবে সব ডিটেলস আ দাও যাতে আমি বলতে পারি এই এই এসেছে কুরআন এ হাদিসে। যাতে কেউ আমার সাথে তর্ক করতে না পারে যায় বলুক আমি শুধু কুরআন আর হাদিস এর রেফারেন্স দিয়ে দেবো।

চাকরি করা নিয়ে,বাইরে যাওয়া নিয়ে দেবর ভাসুর তারপর নন মাহরাম এর সামনে যাওয়া সব্বোলো।জেনারেল লাইন এ পড়াশোনা নিয়ে। জেনারেল ছেড়ে দিলে কি আমার স্বামী আলেম বা ভালো লেভেল এর স্বামী পাবোনা???
আমি যদি ইন্টার পর্যন্ত পড়ি বা অনার্স ফার্স্ট ইয়ার পর্যন্ত উঠে আর না করি জেনারেল পড়াশোন।

আমি ডিটেলস জানতে চাই

Answer

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম

জবাব,

১. "নিকাহের পাঠশালা" ও জীবনসঙ্গী নির্বাচনে কফু (সমকক্ষতা) সংক্রান্ত বিষয়:

ইসলামি শরীআতে বিবাহের ক্ষেত্রে 'কফু' (الكفاءة / সমকক্ষতা) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (২য় খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৭৪, ৭৫]। হানাফী ফিকহ অনুযায়ী, কফু বা সমকক্ষতার মূল উপাদানসমূহ হলো: দ্বীনদারী, বংশ, পারিবারিক সামর্থ্য, পেশা ও সামাজিক অবস্থান [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (২য় খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৭৪, ৭৫]।

  • শিক্ষাগত যোগ্যতার কফু: একজন নারী যে স্তরেই পড়াশোনা করুক না কেন (কলেজ, ভার্সিটি বা আলিম), তার মানসিকতা ও দ্বীনদারীর সাথে মিল রেখে সমকক্ষ জীবনসঙ্গী নির্বাচন করার অধিকার তার রয়েছে [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (২য় খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৭৪, ৭৫]। আপনি কোন স্তরের জীবনসঙ্গী আশা করবেন—তা নির্ভর করে আপনার নিজস্ব দ্বীনদারী, চরিত্র এবং মানসিকতার ওপর। দ্বীনদার আলেম বা পরহেযগার সমাজ সাধারণত উচ্চ দ্বীনী নৈতিকতা ও পর্দানশীন মেয়েদেরকেই বিবাহের জন্য অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১১শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৫২, ১৫৩]।

২. পর্দা (হিজাব ও নেকাব) সংক্রান্ত কুরআন মজিদের অকাট্য আয়াতসমূহ:

পর্দা করা প্রতিটি বালেগা মুসলিম নারীর ওপর অকাট্য ফরয [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৯শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৭৪, ১৭৫]। কুরআনে কারীমে পর্দা সম্পর্কে যেসকল স্পষ্ট আয়াত এসেছে:

১. সূরা নূর (আয়াত: ৩০–৩১):

"মুমিন পুরুষদের বলো, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাজত করে... এবং মুমিন নারীদের বলো, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে, লজ্জাস্থানের হিফাজত করে এবং নিজেদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, যা স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রকাশ পায় তা ছাড়া। তারা যেন তাদের মাথার ওড়না বক্ষদেশের ওপর টেনে দেয়..." [দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৪৩১; দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৬৩; ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৯শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৭৬, ১৮০]।

২. সূরা আহযাব (আয়াত: ৫৯):

"হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীগণকে, কন্যাগণকে ও মুমিনদের নারীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের (জিলবাবের) একাংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়। এতে তাদের চেনা সহজ হবে এবং তারা উত্ত্যক্ত হবে না..." [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৯শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৭৪, ১৭৫; দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৪০৭]।

৩. সূরা আহযাব (আয়াত: ৩৩):

"তোমরা স্ব স্ব গৃহে অবস্থান করো এবং প্রাচীন জাহেলিয়াতের মতো নিজেদের সৌন্দর্য প্রদর্শন করে বেড়িও না..." [দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৫৩; ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৯শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৭৪, ১৭৫]।

৪. সূরা আহযাব (আয়াত: ৫৩):

"তোমরা যখন তাদের (নবী পত্নী তথা নারীদের) কাছে কোনো কিছু চাইবে, তখন পর্দার অন্তরাল থেকে চাইবে..." [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৯শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৭৪, ১৭৫]।


৩. পর্দা সংক্রান্ত হাদীস শরীফের কঠোর নির্দেশনাসমূহ:

১. নারী গোপন রাখার বিষয়:
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: "নারী হলো আবৃত রাখার বিষয়। সে যখন ঘর থেকে বের হয়, শয়তান তার দিকে নজর দেয় (উঁকি মারে)।" [দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৫৩; ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৯শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৭৪, ১৭৮, ১৯৯]।

২. দেবর ও ভাসুর সম্পর্কে কঠোর হুঁশিয়ারী:
হাদীস শরীফে দেবর ও ভাসুরকে অত্যন্ত বিপজ্জনক বলা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: "তোমরা নারীদের কাছে নির্জনে প্রবেশ করা থেকে বেঁচে থাকো।" এক আনসারী সাহাবী আরয করলেন: হে আল্লাহর রাসুল! দেবর/ভাসুর (الحمو) সম্পর্কে আপনার হুকুম কী? রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করলেন: "দেবর/ভাসুর তো মৃত্যুর সমতুল্য!" (الحمو الموت) [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৯শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৭৯–১৮০]।

৩. বেগানা পুরুষের সাথে নির্জনবাস নিষিদ্ধ:
রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: "কোনো পুরুষ কোনো নারীর সাথে মাহরাম ব্যতিরেকে নির্জনে অবস্থান করবে না। কারণ তখন তাদের তৃতীয় জন হয় শয়তান।" [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৯শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৭৯–১৮০]।

৪. পোশাক পরা সত্ত্বেও উলঙ্গ নারী:
রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: "দুই শ্রেণির লোক জাহান্নামী... (দ্বিতীয় শ্রেণি) ঐসকল নারী যারা কাপড় পরা সত্ত্বেও উলঙ্গ থাকবে এবং পুরুষদের নিজেদের প্রতি আকৃষ্ট করবে। তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না, এমনকি জান্নাতের সুবাসও পাবে না।" [দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৪০৭–৪০৮]।

৫. চেহারা ঢাকার আমল (উম্মুল মু'মিনীনদের সুন্নাত):
হযরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, হজ্বের সফরে যখন পরপুরুষ আমাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করত, তখন আমরা মাথার ওপর থেকে চাদর চেহারার ওপর নামিয়ে দিতাম [দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১০৩–১০৪]।


৪. চাকরি করা, বাইরে যাওয়া এবং দেবর-ভাসুরের সামনে যাওয়া:

  • দেবর ও ভাসুরের সামনে যাওয়া: দেবর, ভাসুর, খালাতো/চাচাতো ভাই ইত্যাদি সমস্ত গায়রে মাহরাম পুরুষদের সামনে মুখ খোলা রাখা, নির্জনে কথা বলা বা হাসি-ঠাট্টা করা সম্পূর্ণ হারাম ও কবিরা গোনাহ [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৯শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৭৯, ১৮০]।
  • নারীদের চাকরি করা ও বাইরে যাওয়া: ইসলামে নারীর মূল কর্মক্ষেত্র হলো তার গৃহ [দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ২৫৬, ২৫৭, ২৬০]। চরম কোনো শরয়ী প্রয়োজন ছাড়া (যেমন: জীবিকার কোনো অভিভাবক না থাকা) পর্দা লঙ্ঘন করে, বেগানা পুরুষদের সাথে মেলামেশা করে চাকরি করা বা বাইরে যাওয়া সম্পূর্ণ নাজায়েয [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৯শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৮৩–১৮৫]। তবে শতভাগ পর্দা রক্ষা করে সম্পূর্ণ নারী পরিবেশে চাকরি করা জায়েয [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৯শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৮৪]।

৫. জেনারেল শিক্ষা স্থগিত করা এবং ভালো/আলেম স্বামী পাওয়া:

  • জেনারেল শিক্ষা ছেড়ে দিলে কি আলেম স্বামী পাওয়া যাবে?
    অবশ্যই পাওয়া যাবে। দ্বীনদার, মুত্তাকী ও আলেমগণ বিবাহের ক্ষেত্রে কোনো নারীর জেনারেল ডিগ্রি বা উচ্চশিক্ষার চেয়ে তার দ্বীনদারী, ঈমানদারী, লজ্জাশীলতা ও পর্দা পালনকে শতগুণ বেশি অগ্রাধিকার দেন [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১১শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৫২, ১৫৩]।
  • পড়াশোনা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত: আপনি যদি নিজের ঈমান, আমল ও পর্দা সুরক্ষার উদ্দেশ্যে ইন্টার বা অনার্স ১ম বর্ষের পর সাধারণ শিক্ষা স্থগিত করেন, তবে এটি আপনার আলেম বা সৎ দ্বীনদার জীবনসঙ্গী পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা সৃষ্টি করবে না; বরং দ্বীনদার পরিবারে এটি আরও বেশি প্রশংসিত ও গ্রহণযোগ্য গুণ হিসেবে বিবেচিত হবে [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (৩য় খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৩৭৫, ৩৭৮; ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১১শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৫২, ১৫৩]।

সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:

১. ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (২য় খণ্ড):

  • পৃষ্ঠা: ৭৪–৭৫: (অধ্যায়: কিতাবুন নিকাহ, কফু পরিচ্ছেদ — বৈবাহিক সমকক্ষতা বা কফুর শরয়ী সংজ্ঞা ও নিয়মাবলী) [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (২য় খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৭৪, ৭৫]।

২. ফাতাওয়া মাহমুদিয়া:

  • ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৩৭৫, ৩৭৮ & ৩৮১: (অধ্যায়: কিতাবুত তা'লীম, পরিচ্ছেদ: না-পর্দেগী ও বেহায়াপনাযুক্ত শিক্ষা পরিত্যাগের ফতোয়া) [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (৩য় খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৩৭৫, ৩৭৮, ৩৮১]।
  • ১১শ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৫২–১৫৩: (অধ্যায়: কিতাবুন নিকাহ — দ্বীনদারী ও সুচরিত্রকে বিবাহের ক্ষেত্রে প্রাধান্য দেওয়ার নির্দেশ) [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১১শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৫২, ১৫৩]।
  • ১৯শ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৭৪–১৭৬, ১৭৮–১৮০: (অধ্যায়: বাবুল হিজাব — কুরআনের আয়াত, হাদীসের প্রমাণ, দেবর-ভাসুর থেকে পর্দার কঠোরতা ও চেহারা ঢাকার বাধ্যবাধকতা) [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৯শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৭৪, ১৭৫, ১৭৬, ১৭৮, ১৭৯, ১৮০]।
  • ১৯শ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৮৩–১৮৫ & ১৯৯: (অধ্যায়: বাবুল হিজাব — নারীদের চাকরি, বাইরে বের হওয়া ও বেগানা পুরুষের সাথে যোগাযোগের শরয়ী হুকুম) [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৯শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৮৩, ১৮৪, ১৮৫, ১৯৯]।

৩. দরসুল ফিকহ:

  • ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৫৩ & ২৫৬–২৫৭, ২৬০: (অধ্যায়: নামায ও নারীর গৃহকর্ম — নারীর আসল স্থান গৃহ হওয়া এবং তিরমিযীর হাদীস বিশ্লেষণ) [দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৫৩, ২৫৬, ২৫৭, ২৬০]।
  • ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৪০৭–৪০৮ & ৪৩১: (অধ্যায়: পোশাকের বিধান — 'কাসিয়াতুন আরিয়াত' হাদীস ও দৃষ্টি সংযত রাখার আয়াতসমূহ) [দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৪০৭, ৪০৮, ৪৩১]।
  • ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১০৩–১০৪ & ১৬৩: (অধ্যায়: হজ্ব ও কিতাবুত তাহারাত — উম্মুল মু'মিনীনদের চেহারার পর্দা ও দৃষ্টি অবনত রাখার হুকুম) [দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১০৩, ১০৪, ১৬৩]।

আল্লাহ সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.