ইসলামী শরীয়তে চাকরির সুপারিশ প্রতিরোধ করা কি কারো হক নষ্ট?

Family Life · Hanafi

Question No: 6496
Questioner: Shadek Hossain
Question Asked: 06 Oct 2026, 08:57 PM
Reviewed & Published: 06 Oct 2026, 11:18 PM
Views: 30
Tokens: 9,253
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আচ্ছা আমি যদি কারো যদি এরকম থাকে যে আমার বাবা হচ্ছে গিয়ে কাউকে কোন একটা চাকরিতে সুপারিশ করতে পারে চাইলে ঠিক আছে এখন বিষয় হচ্ছে আমি এটাকে বাধা দিয়েছি কারণ আমার বাবার ওই বন্ধুর কোম্পানি ছিল আর কি আমি এটাকে বাধা দিছি আমি দুইটা কারণে বাধা দিছি সেটা হচ্ছে গিয়ে আমার হচ্ছে গিয়ে আমি চাইনা যে শুধু শুধু আব্বা একটা ঝামেলা যাক ওই ছেলে যদি ওইখানে যাইয়া কোন রেপুটেশন খারাপ করে তাহলে এটা স্বাভাবিকভাবে আব্বার উপরে পড়বে প্লাস হচ্ছে গিয়ে ওই ছেলের একটু আমার পছন্দও না পছন্দ না সে নোংরা রাজনীতির সাথে জড়িত তারপরে অপরাধকে সমর্থন করে খুন টুন এগুলাকে সমর্থন করতেছে সে গণহত্যাকে সমর্থন করতেছে এটা একটা বিষয় আরেকটা বিষয় হচ্ছে গিয়ে আমি আমার মনে একটু চলে আসছে যে একটু হিংসা চলে আসছে আর কি যে আমি চিন্তা করছি যে হয়তো এই জায়গাতে আমি আমিও আমার হয়তো যাইতে পারব আর কি অথবা আমার জন্য হইতে পারে তো এটা হচ্ছে গিয়ে বিষয় আর কি অথবা চিন্তা করছি যে আমি যদি ও যদি আগে ঢোকে আমি পরে ঢুকলে ও আগে যাবে এরকম কিছু একটা এরকম একটা চিন্তা আসছে আর কি কিন্তু এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে গিয়ে আমি কি তার কোন হক নষ্ট করলাম কিনা ইসলামিক শরীয়ত অনুযায়ী আমার পয়েন্ট অফ ভিউ হচ্ছে গিয়ে যেহেতু এই ও চাকরিটা তার কোন যোগ মানে তার ওই চাকরিটা এমন না যে প্রাপ্য ছিল যে আমার বাবা চাইলে সুপারিশ করতে পারতো সেই ক্ষেত্রে সুপারিশ করে নাই অথবা আমি বাধা দিছি এটা তো এমন না যে তার হক নষ্ট হইছে ঠিক আছে আর আরেকটা বিষয় হচ্ছে গিয়ে আমি যদি তার ডিরেক্ট কোন হক নষ্ট করি তাহলে এখন আমার কি করণীয় আমার আসলে এখন মানে বিষয়টা যদি ওনাদের কাছে বলি অথবা ওর কাছে বলি তাহলে বিষয়টা একটু কেমন জানি হয়ে যায় অথবা আমার আব্বুর কাছে বললে বিষয়টা কেমন জানি হয়ে যায় আর আমি মূলত আরেকটা বিষয় হচ্ছে গিয়ে আমার মনে হয় যে মানে এই বিষয়গুলাতে আমার আব্বা ঝামেলা না যাক যে শুধু শুধু একটা ইয়ে করতে গেলে পরে যদি ওইখানে গিয়ে ও যদি কোন ঝামেলা ক্রিয়েট করে অথবা সমস্যা ক্রিয়েট করে তাহলে সেটা আমার আব্বার উপরে পড়বে আর কি এখন আমাকে একটু ক্লিয়ার কাট বিষয়টা বলো

Answer

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ ও বিশ্লেষণ

প্রশ্নে কয়েকটি দিক রয়েছে:

  1. বাবার সুপারিশ প্রতিরোধ করা — বাবা তার বন্ধুর কোম্পানিতে এক ছেলেকে চাকরিতে সুপারিশ করতে চেয়েছিলেন, আপনি বাধা দিয়েছেন।
  2. বাধা দেওয়ার কারণ:
    • (ক) ছেলেটি খারাপ রেপুটেশন তৈরি করলে তা বাবার উপর পড়বে।
    • (খ) ছেলেটি নোংরা রাজনীতি, অপরাধ, খুন, গণহত্যার সমর্থক — আপনার অপছন্দ।
    • (গ) মনে হিংসা/স্পর্শকাতরতা — হয়তো আপনি নিজেও সেই সুযোগ পেতে পারতেন।
  3. মূল প্রশ্ন: আপনি কি তার কোনো হক নষ্ট করেছেন? ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী আপনার করণীয় কী?

ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিতে বিধান

১. চাকরি বা সুপারিশ কি কারো "হক" (অধিকার)?

না। কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য কোনো চাকরি বা সুপারিশ পাওয়া শরীয়তগত হক (حق) নয়, যতক্ষণ না:

  • চাকরিদাতা ও কর্মপ্রার্থীর মধ্যে কোনো চুক্তি বা ওয়াদা হয়ে যায়,
  • অথবা প্রার্থী যোগ্যতা ও শর্ত পূরণ করে এবং নিয়োগকর্তা নির্দিষ্টভাবে তাকে নির্বাচন করে,
  • অথবা কোনো উত্তরাধিকার/অংশীদারিত্বের অধিকার থাকে।

আপনার বর্ণনায় এমন কিছু নেই। বরং আপনি বলেছেন: "চাকরিটা তার প্রাপ্য ছিল না, বাবা চাইলে সুপারিশ করতে পারতেন।" সুতরাং সুপারিশ না করা বা বাধা দেওয়া দ্বারা তার কোনো শরীয়তগত হক নষ্ট হয়নি।

ফিকহী মূলনীতি:
«لَا حَقَّ لِأَحَدٍ فِي مَالِ غَيْرِهِ أَوْ عَمَلِ غَيْرِهِ بِمُجَرَّدِ الرَّغْبَةِ»
— কারো সম্পদ বা অন্যের কাজে নিছক ইচ্ছা/আকাঙ্ক্ষা দ্বারা কারো হক সাব্যস্ত হয় না।
(ইবন আবিদীন, রাদ্দুল মুহতার, ৬/৩৮৫-এর কাছাকাছি মূলনীতি; আল-আশবাহ ওয়ান-নাযাইর)

২. সুপারিশ করা কি ওয়াজিব?

না। সুপারিশ করা সাধারণত মুবাহ (অনুমোদিত) বা কখনো মুস্তাহাব, যদি যোগ্য ও সৎ ব্যক্তির জন্য হয়। কিন্তু ওয়াজিব নয় — যতক্ষণ না কোনো ওয়াদা বা দায়িত্ব সৃষ্টি হয়।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
«إِذَا أَتَاكُمْ مَنْ تَرْضَوْنَ خُلُقَهُ وَدِينَهُ فَزَوِّجُوهُ...»
— তবে এটি বিবাহ সম্পর্কে; চাকরির ক্ষেত্রে সরাসরি ওয়াজিবের দলিল নেই।
(তিরমিযী, হাদীস নং ১০৮৪)

সুতরাং সুপারিশ না করা বা বাধা দেওয়া গুনাহ নয়, যদি না তা অন্যায়ভাবে কারো হক কেড়ে নেওয়া হয়।

৩. যদি ছেলেটি ফাসিক/অপরাধ সমর্থক হয়?

আপনার বর্ণনা অনুযায়ী সে খুন, গণহত্যা, অপরাধকে সমর্থন করে — এটি কবীরা গুনাহ ও জুলুমের সমর্থন। এমন ব্যক্তিকে সুপারিশ করা নিজেই গুনাহের সহযোগিতা হতে পারে।

আল্লাহ তা'আলা বলেন:
«وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ»
— "পাপ ও সীমালঙ্ঘনে একে অপরকে সহযোগিতা করো না।"
(সূরা মায়িদা: ২)

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
«مَنْ أَعَانَ عَلَى خُصُومَةٍ بِظُلْمٍ...»
— যে ব্যক্তি জুলুমের ব্যাপারে সহায়তা করে...
(আবু দাউদ, হাদীস নং ৩৫৯৭ — ইমাম তাহাবী ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন)

সুতরাং এমন ব্যক্তিকে সুপারিশ করা থেকে বিরত থাকা বা বাধা দেওয়া শরীয়তসম্মত, বরং প্রশংসনীয়।

৪. হিংসার দিকটি কী হবে?

আপনি স্বীকার করেছেন যে হিংসা/স্পর্শকাতরতা কাজ করেছে — "হয়তো আমিও যেতে পারতাম, অথবা আমার জন্য হতে পারে।" এটি নিজের অন্তরের রোগ। তবে:

  • হিংসা (حسد) হারাম — কিন্তু এখানে আপনার বাধা দেওয়ার প্রধান কারণ ছিল ছেলেটির চরিত্র ও বাবার ক্ষতি। হিংসা ছিল গৌণ/আবেগীয়।
  • যদি বাধা দেওয়ার একমাত্র কারণ হিংসা হতো, তবে তা গুনাহ হতো। কিন্তু আপনার বর্ণনায় বাস্তব ও শরীয়তসম্মত কারণ বিদ্যমান।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
«لَا تَحَاسَدُوا وَلَا تَنَاجَشُوا...»
— "তোমরা হিংসা করো না..."
(মুসলিম, হাদীস নং ২৫৬৩)

তওবা করুন হিংসার অনুভূতি থেকে, কিন্তু বাধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত যদি ছেলেটির অনৈতিকতা ও বাবার ক্ষতির ভয়ে হয়, তবে তা জায়েয।

৫. আপনি কি তার হক নষ্ট করেছেন?

না। কারণ:

| দিক | বিধান | |---|---| | চাকরি পাওয়া তার হক ছিল? | না, কারণ কোনো চুক্তি/ওয়াদা/যোগ্যতা-নির্দিষ্ট নির্বাচন ছিল না | | সুপারিশ করা বাবার ওয়াজিব ছিল? | না | | বাধা দেওয়া কি জুলুম? | না, যদি ছেলেটি ফাসিক/অপরাধ সমর্থক হয় | | হিংসার প্রভাব? | তওবা করুন, তবে সিদ্ধান্ত বৈধ |

সিদ্ধান্ত: আপনি তার শরীয়তগত কোনো হক নষ্ট করেননি।

৬. এখন আপনার করণীয়

  1. তওবা করুন — অন্তরের হিংসা/স্পর্শকাতরতার জন্য।

    «وَأَعِدُّوا...» — না, বরং:
    «قَدْ أَفْلَحَ مَنْ زَكَّاهَا» — "সে সফল হয়েছে যে নিজেকে পবিত্র করেছে।" (সূরা শামস: ৯)

  2. বাবাকে সম্মানের সাথে বুঝান — যদি ছেলেটি সত্যিই অপরাধ সমর্থক হয়, তবে বাবার রেপুটেশন রক্ষার স্বার্থে বাধা দেওয়া সন্তানের দায়িত্ব।

    রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
    «مَنْ رَأَى مِنْكُمْ مُنْكَرًا فَلْيُغَيِّرْهُ...»
    — "তোমাদের মধ্যে যে মুনকার দেখে, সে যেন তা পরিবর্তন করে..."
    (মুসলিম, হাদীস নং ৪৯)

  3. কাউকে কিছু বলার দরকার নেই — যেহেতু হক নষ্ট হয়নি, তাই ছেলেটিকে বা বাবাকে "ক্ষমা চাওয়া" বা "বিষয়টা বলা" আবশ্যক নয়। বরং অপ্রয়োজনীয় ঝামেলা এড়িয়ে চলুন।

  4. ভবিষ্যতে সতর্ক থাকুন — যদি কখনো প্রকৃত হক নষ্ট হয় (যেমন: কারো প্রাপ্য টাকা আটকে রাখা, ওয়াদা ভঙ্গ করা), তবে তা ফিরিয়ে দেওয়া ও ক্ষমা চাওয়া ওয়াজিব।

  5. নিজের রিযিকের জন্য দুআ করুন — হিংসার পরিবর্তে আল্লাহর কাছে চাকরি/রিযিক চান।

    «اللَّهُمَّ اكْفِنِي بِحَلَالِكَ عَنْ حَرَامِكَ...»
    (তিরমিযী, হাদীস নং ৩৫৬৩)


চূড়ান্ত ফতোয়া

আপনি তার কোনো শরীয়তগত হক নষ্ট করেননি। কারণ চাকরি বা সুপারিশ পাওয়া তার শরীয়তগত হক ছিল না। বরং ছেলেটি যদি সত্যিই অপরাধ/গণহত্যা সমর্থক হয়, তবে তাকে সুপারিশ করা থেকে বিরত থাকা বা বাধা দেওয়া শরীয়তসম্মত। তবে অন্তরের হিংসা থেকে তওবা করুন এবং বাবাকে সম্মানের সাথে বিষয়টি বুঝান। কারো কাছে কিছু বলার বা ক্ষমা চাওয়ার প্রয়োজন নেই, যেহেতু হক নষ্ট হয়নি। আল্লাহ সর্বজ্ঞ।


রেফারেন্স:

  • ইবন আবিদীন, রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৬, কিতাবুল হজর/আদবুল কাযী
  • ফাতাওয়া আলমগীরী, কিতাবুল কারাহিয়্যাহ
  • আল-হিদায়া, কিতাবুল কারাহিয়্যাহ
  • মুফতি তাকী উসমানী, ফাতাওয়া উসমানী, খণ্ড ৩
  • আশরাফ আলী থানভী, বাহিশতী যেওর, বিবাহ ও মুআমালাত অধ্যায়
  • মুফতি মুহাম্মদ শফী, মাআরিফুল কুরআন, সূরা মায়িদা: ২-এর তাফসীর
  • শরহু মাআনিল আসার, ইমাম তাহাবী
  • উসূলুশ শাশী, ফিকহী মূলনীতি

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.