ওয়াসওয়াসার কারণে কুরআন ছুঁয়ে কসম করে নামাজ না ভাঙার শপথ

Waswasa-OCD · Ahle Hadith / Salafi

Question No: 6436
Questioner: Nadia 0696
Question Asked: 05 Oct 2026, 06:05 PM
Reviewed & Published: 05 Oct 2026, 06:33 PM
Views: 7
Tokens: 3,167
This answer is according to the 'Ahle Hadith / Salafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহী ওয়া বারকাতুহু। আমার ওয়াস ওয়াসা।,,যদি কুরআন ছুয়ে আল্লাহর কসম করে বলি যে আমি নামাজ ভাঙবোনা আর যদি ভাঙি তাহলে আমি মুসলমান না কিন্তু পরবর্তীতে নামাজ ভেঙে পেললে করণীয় কী?

Answer

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته।

সংক্ষিপ্ত উত্তর

আপনার কসম (শপথ) ভঙ্গ হলে তার জন্য কাফফারা দিতে হবে, তবে আপনি মুসলমানই আছেন — কুফর হয়নি। আর নামাজ ভেঙে ফেলার কারণে শুধু সেই নামাজটি পুনরায় পড়ে নিলেই হবে (যদি তা ফরজ হয়)। এ ধরনের কসম করা এবং "মুসলমান না" বলা — এটি শয়তানের ওয়াসওয়াসার অংশ, যা আপনার উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।


বিস্তারিত দলিলসহ আলোচনা

১. "যদি ভাঙি তাহলে আমি মুসলমান না" — এ কথায় কি কুফর হয়?

না, কুফর হয় না। কারণ:

  • কুফর হলো অন্তরের বিশ্বাস ও অস্বীকারের বিষয়, মুখের কথায় নয়। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

«إِنَّ اللَّهَ تَجَاوَزَ لِي عَنْ أُمَّتِي مَا حَدَّثَتْ بِهِ أَنْفُسُهَا، مَا لَمْ تَتَكَلَّمْ بِهِ أَوْ تَعْمَلْ بِهِ»

"নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উম্মতের অন্তরের কুমন্ত্রণা ক্ষমা করেছেন, যতক্ষণ না সে তা বলে বা করে।" — সহীহ বুখারী (৫২৬৯), সহীহ মুসলিম (১২৭)

  • শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ (রহ.) বলেন: "কেউ যদি বলে 'আমি মুসলমান না' — এটা শুধু মুখের কথা, যা তার প্রকৃত অবস্থা পরিবর্তন করে না; বরং সে মুসলমানই থাকে।" (মাজমুউল ফাতাওয়া)

  • ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) "ইগাসাতুল লাহফান"-এ বলেন: শপথ ও কসমের ক্ষেত্রে শয়তান মানুষকে ধোঁকা দেয়, যাতে সে ভাবে তার ঈমান চলে গেছে — অথচ তা নয়।

সুতরাং: আপনি মুসলমান আছেন, আলহামদুলিল্লাহ। শুধু কসম ভঙ্গ হয়েছে।


২. কসম ভঙ্গের কাফফারা

আল্লাহ তা'আলা বলেন:

«لَا يُؤَاخِذُكُمُ اللَّهُ بِاللَّغْوِ فِي أَيْمَانِكُمْ وَلَٰكِن يُؤَاخِذُكُم بِمَا عَقَّدتُّمُ الْأَيْمَانَ ۖ فَكَفَّارَتُهُ إِطْعَامُ عَشَرَةِ مَسَاكِينَ مِنْ أَوْسَطِ مَا تُطْعِمُونَ أَهْلِيكُمْ أَوْ كِسْوَتُهُمْ أَوْ تَحْرِيرُ رَقَبَةٍ ۖ فَمَن لَّمْ يَجِدْ فَصِيَامُ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ»

"আল্লাহ তোমাদেরকে নিরর্থক শপথের জন্য পাকড়াও করেন না, কিন্তু তিনি পাকড়াও করেন সেই শপথের জন্য যা তোমরা দৃঢ়ভাবে করো। তার কাফফারা হলো দশজন মিসকিনকে মধ্যম মানের খাবার খাওয়ানো, অথবা তাদের বস্ত্র দান, অথবা একটি দাস মুক্ত করা। যে তা পায় না, সে তিন দিন রোজা রাখবে।" — সূরা আল-মায়িদা: ৮৯

কাফফারার ধারাবাহিকতা:

  1. দশজন মিসকিনকে খাবার খাওয়ানো, অথবা
  2. দশজনকে বস্ত্র দান, অথবা
  3. একটি দাস মুক্ত করা।
  4. এগুলোর সামর্থ্য না থাকলে — তিন দিন রোজা।

৩. নামাজ ভেঙে ফেললে করণীয়

  • যদি ফরজ নামাজ হয় → সেই নামাজটি পুনরায় পড়ে নিন। এটাই যথেষ্ট।
  • যদি নফল নামাজ হয় → পুনরায় পড়া আবশ্যক নয় (তবে পড়লে সওয়াব)।
  • নামাজ ভাঙার কারণে আলাদা কোনো কাফফারা নেই।

৪. ওয়াসওয়াসার চিকিৎসা (গুরুত্বপূর্ণ)

শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ (রহ.) ও ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) ওয়াসওয়াসার ব্যাপারে বলেন:

  • ওয়াসওয়াসা শয়তানের পক্ষ থেকে আসে, ঈমানের দুর্বলতা নয়।
  • রাসূল ﷺ বলেছেন:

«ذَاكَ صَرِيحُ الْإِيمَانِ»

"এটাই ঈমানের প্রমাণ" — অর্থাৎ শয়তান যখন ওয়াসওয়াসা দেয়, তখন বান্দা তা অপছন্দ করে — এটাই খাঁটি ঈমানের আলামত। — সহীহ মুসলিম (১৩২)

করণীয়:

  1. কুরআন ছুঁয়ে কসম করা বন্ধ করুন — এ ধরনের কসম করা ওয়াসওয়াসাকে বাড়িয়ে দেয়।
  2. "মুসলমান না" — এ ধরনের কথা বলা বন্ধ করুন। এটি শয়তানের ফাঁদ।
  3. ওয়াসওয়াসা এলে আউযুবিল্লাহ পড়ুন এবং নামাজ চালিয়ে যান।
  4. শাইখ ইবন উসাইমীন (রহ.) বলেন: ওয়াসওয়াসা দূর করার সর্বোত্তম উপায় হলো — তার দিকে ভ্রুক্ষেপ না করা, আল্লাহর যিকির করা এবং ইস্তিগফার করা।

সারসংক্ষেপ

| বিষয় | বিধান | |---|---| | কসম ভঙ্গে কুফর হয়? | না, আপনি মুসলমান | | কসম ভঙ্গের কাফফারা | ১০ মিসকিনকে খাবার/বস্ত্র, বা ৩ রোজা | | নামাজ ভেঙে ফেললে | শুধু নামাজ পুনরায় পড়ুন | | ওয়াসওয়াসার সমাধান | কসম করা বন্ধ, যিকির, আউযুবিল্লাহ, ভ্রুক্ষেপ না করা |

আল্লাহ আপনার ওয়াসওয়াসা দূর করুন এবং আপনার ঈমানকে মজবুত করুন। আমীন।


আল্লাহ সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.