ওয়াসওয়াসা থেকে বাঁচার উপায় ইসলামে

Waswasa-OCD · Ahle Hadith / Salafi

Question No: 6425
Questioner: Nadia 0696
Question Asked: 05 Oct 2026, 03:26 PM
Reviewed & Published: 05 Oct 2026, 04:19 PM
Views: 25
Tokens: 4,042
This answer is according to the 'Ahle Hadith / Salafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহী ওয়া বারকাতুহু। আমার ওয়াস ওয়াসা অনেক বেশি আমার নিয়ন্ত্রণ ও থাকেনা অনেক সময় ইচ্ছে করে না করলেও ওয়াস ওয়াসা দেয়,,যদি কুরআন ছুঁয়ে কসম করে বলি যে আমি নামাজ ভাঙবোনা আর যদি ভাঙি তাহলে আমি মুসলমান না কিন্তু নামাজ ভেঙে পেললে করণীয় কী? ওয়াসা ওয়াসা আমাকে দুর্বল করে দিচ্ছে কী করবো আল্লাহুম্মাগফিরলি অনেক সময় মনেও থাকেনা অনেক কিছু।

Answer

ওয়াসওয়াসা নিয়ন্ত্রণ ও কসম ভঙ্গের বিধান

প্রথম কথা: ওয়াসওয়াসা কী এবং কে দেয়?

ওয়াসওয়াসা শয়তানের পক্ষ থেকে আসে। আল্লাহ তা'আলা বলেন:

"নিশ্চয়ই শয়তান মানুষের মনে কুমন্ত্রণা দেয়।" (সূরা আন-নাস: ৪)

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

"শয়তান আদম সন্তানের অন্তরে আসে এবং কুমন্ত্রণা দেয়।" (মুসলিম: ২৮১৪)

শয়তানের মূল লক্ষ্য হলো তোমাকে কষ্ট দেওয়া, বিভ্রান্ত করা এবং দ্বীন থেকে দূরে সরানো। সে তোমার দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে বারবার আক্রমণ করছে।

দ্বিতীয় কথা: নামাজ ভেঙে ফেললে করণীয়

১. ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ ভাঙা

ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ ভাঙা হারাম। তবে ওয়াসওয়াসার কারণে যদি ভেঙে ফেলো, তাহলে:

  • তওবা করা — আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া
  • নামাজ পুনরায় পড়া — যেহেতু ফরজ নামাজ সময়ের মধ্যে আবার পড়তে হবে
  • কসমের কাফফারা দেওয়া — যদি কসম করে থাকো

২. ওয়াসওয়াসার কারণে নামাজ ভাঙা

শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ (রহ.) বলেন: "ওয়াসওয়াসা যদি এতটাই প্রবল হয় যে মানুষ নিজের ইচ্ছা ছাড়াই নামাজ ভেঙে ফেলে, তবে তার উপর গুনাহ নেই।" (মাজমুউল ফাতাওয়া: ২২/৬০৮)

শাইখ ইবন বায (রহ.) বলেন: "ওয়াসওয়াসা থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও এবং নামাজ চালিয়ে যাও। শয়তান তোমাকে পরাজিত করতে পারবে না।" (ফাতাওয়া নূরুন আলাদ-দারব: ৯/৪০৩)


শেষ কথা: ওয়াসওয়াসা থেকে বাঁচার উপায়

১. আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া

নামাজে দাঁড়িয়ে শয়তানের কুমন্ত্রণা এলে বলো:

"আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম"

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "শয়তান যখন তোমার কাছে আসে, তখন আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও এবং তার থেকে দূরে সরে যাও।" (মুসলিম: ২২০৩)

২. ওয়াসওয়াসাকে উপেক্ষা করা

শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ (রহ.) বলেন: "ওয়াসওয়াসার চিকিৎসা হলো এটি উপেক্ষা করা এবং আল্লাহর যিকিরে লিপ্ত থাকা।" (মাজমুউল ফাতাওয়া: ১৪/৩৮)

শাইখ ইবন উসাইমীন (রহ.) বলেন: "ওয়াসওয়াসা যতই আসুক, তুমি নামাজ চালিয়ে যাও। শয়তান তখনই পালায় যখন তুমি তার কথা না শোনো।" (ফাতাওয়া নূরুন আলাদ-দারব: ৯/৪০৩)

৩. কুরআন ও যিকির বেশি করা

আল্লাহ তা'আলা বলেন:

"জেনে রাখো, আল্লাহর যিকিরেই অন্তর প্রশান্তি লাভ করে।" (সূরা আর-রাদ: ২৮)

৪. কসম না করা

ভবিষ্যতে কুরআন ছুঁয়ে বা আল্লাহর নামে কসম করে এমন কথা বলো না যা তুমি পালন করতে পারবে না। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

"যে ব্যক্তি অনেক কসম করে, সে আল্লাহর কাছে লাঞ্ছিত হয়।" (মুসলিম: ১৬৪৫)

৫. ডাক্তারি পরামর্শ

যদি ওয়াসওয়াসা এতটাই প্রবল হয় যে তোমার দৈনন্দিন জীবন অতিষ্ঠ হয়ে যায়, তবে বিশ্বস্ত মুসলিম ডাক্তার/মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া। এটি দ্বীনের সাথে সাংঘর্ষিক নয়।


পঞ্চম কথা: "আল্লাহুম্মাগফিরলি" বলা

তুমি বলেছ "আল্লাহুম্মাগফিরলি" — এটা খুব ভালো। আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও। তিনি ক্ষমাশীল।

"নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।" (সূরা আয-যুমার: ৫৩)


সারসংক্ষেপ

| বিষয় | বিধান | |------|-------| | ওয়াসওয়াসা | শয়তানের পক্ষ থেকে, উপেক্ষা করো | | নামাজ ভাঙা | তওবা করো, পুনরায় পড়ো | | "মুসলমান না" বলা | হারাম, তওবা করো | | ওয়াসওয়াসার চিকিৎসা | যিকির, কুরআন, উপেক্ষা, ডাক্তারি পরামর্শ |


আল্লাহ তা'আলা তোমাকে শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে হেফাজত করুন এবং তোমার অন্তরকে প্রশান্তি দান করুন। আমিন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.