স্বামীর নির্যাতন থেকে বাঁচার জন্য আত্মহত্যা করা যাবে?
Family Life · Hanafi
Question
আমি আগেও অনেক প্রশ্ন করেছি। আমার জীবন এমন পর্যায় গেছে যে আমার ইচ্ছে করছে আত্মহত্যা করি সেটাও এক না বাচ্চাকে নিয়ে। সবার জুলুম আর কত নিবো। বিয়ের ৩ বছর হয়নি স্বামীর মানসিক, শারিরীক নির্যাতন চলছেই। মা বাবা জোড় করে বিয়ে দিয়েছে একটা লেবাস ধারীর সাথে এখন তারা আমাকে মানাই নিতে চাপ দিচ্ছে। তাদের বাড়িতে থাকতে দেয় না মা নির্যাতন করে এইদিকে স্বামী,শাশুড়ি। আমি বাচ্চা নিয়ে আলাদা বাঁচতে চাই,নতুন করে জীবন টা শুরু করতে চাই। নিজে হালাল রিজিক এর ব্যবস্থা করে বাচ্চা নিয়ে বাঁচতে চাই। এখন সেটাও পারছি না। ছেলে বাচ্চা জন্য ওকে সবাই চায় আমাকে না। স্বামীর গালি, মাইর,ঠিক মত হক আদায় না করা,পরকীয়ার মিথ্যে অভিযোগ এনেছে শেষে। তার আগেও একবার ডিভোর্স হয়েছে তার পরকীয়ার কারণে,যা বিয়ের সময় লুকিয়েছে।এতো কিছুর পর আমার মা বাবার সম্মান আগে। তাদের কাছে গিয়ে থাকা অপশন নেই। আমার মা অনেক নির্যাতন করেন এমনকি এর আগে ২ বার মেরে ফেলার চেষ্টা করেছে। আমার ছেলে বাচ্চা জন্য তারাও ওকে চায় কেননা সে বড় হয়ে তাদের দেখবে আমাকে বলে কারো সাথে পালিয়ে যেতে। আমি বাচ্চা সহ আত্মহত্যা করব কারণ বাচ্চাকে এমন মানুষদের কাছে বাঁচিয়ে রাখব না। আমার হাতে ২ টা উপায় হয় বাচ্চা নিয়ে নতুন করে বাঁচার না হয় মরে যাওয়া। বিয়ের পর আস্তে আস্তে আমি আমার হেদায়েত টাও হারায় ফেলছি। আর কি আছে জীবনে। আত্মহত্যা করলে কি সারাজীবন আযাব ভুগতে হবে? আর আমার ছেলেকে ছাড়া আমি একা পাগল হয়ে বেঁচে থাকব তাই মরে যাব ওকে নিয়ে আমার সাথে যা হবে তাই ওর সাথে হবে। দয়া করে উত্তর দিবেন এতে আমাদের সারাজীবন আযাব পেতে হবে কি না? আল্লাহর উপর আমি ভরসা হারাচ্ছি আমার জীবনে শুরু থেকে আল্লাহ্ এতো কঠিন করে দিয়েছেন। সবাই আমাকে ঠকিয়ে এসেছে শুধু। আল্লাহর ফরজ হুকুম মেনে চলা অসম্ভব হয়ে গেছে এক রকম। আমি আলাদা কিভাবে বাচ্চা নিয়ে বাঁচতে পারি চারপাশের পরিবেশে? আর আত্মহত্যার বিষয় টা। আল্লাহ্ এখান থেকে আমার জীবন পাল্টে না দিলে আমাকে আত্মহত্যা করতে হবে।
Answer
আত্মহত্যা প্রসঙ্গে ইসলামের বিধান ও আপনার করণীয়
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ
প্রিয় বোন, আপনার কষ্টের কথা পড়ে হৃদয় ভারাক্রান্ত হলাম। আপনি যে অমানবিক নির্যাতনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তা নিঃসন্দেহে ভয়াবহ। তবে ইসলামের দৃষ্টিতে কিছু বিষয় স্পষ্ট করা জরুরি, কারণ আপনার প্রশ্নে দুটি গুরুতর বিষয় জড়িত — আত্মহত্যা এবং নিরপরাধ শিশুকে হত্যা।
১. আত্মহত্যা: ইসলামে কঠোর নিষিদ্ধ ও মহাপাপ
আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেন:
"আর তোমরা নিজেদের হত্যা করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু।" — (সূরা আন-নিসা: ২৯)
আরও ইরশাদ হয়েছে:
"আর যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আত্মহত্যা করবে, তার প্রতিদান হবে জাহান্নাম, যেখানে সে চিরকাল থাকবে।" — (সূরা আন-নিসা: ৯৩-এর আলোকে; তাফসীরে ইবনে কাসীর)
হাদীস শরীফে কঠোর সতর্কতা:
রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন:
"যে ব্যক্তি নিজেকে (পাহাড় থেকে) নিক্ষেপ করে আত্মহত্যা করবে, সে জাহান্নামে চিরকাল নিজেকে নিক্ষেপ করতে থাকবে। যে বিষ পান করে আত্মহত্যা করবে, সে জাহান্নামে বিষ পান করতে থাকবে। যে ছুরি দিয়ে আত্মহত্যা করবে, সে জাহান্নামে তা দিয়ে নিজেকে বিদ্ধ করতে থাকবে।" — (সহীহ বুখারী: ৫৭৭৮, সহীহ মুসলিম: ১০৯)
হানাফী ফিকহের সিদ্ধান্ত:
ফাতাওয়া আলমগীরী-তে উল্লেখ আছে:
"আত্মহত্যাকারী ব্যক্তির জানাযা পড়া হবে (মুসলিম হলে), তবে সে কবীরা গুনাহগার। তবে কোনো ইমাম তার জানাযা না পড়লে তা জায়েয।" — (ফাতাওয়া আলমগীরী, কিতাবুল জানায়েয)
রাদ্দুল মুহতার-এ ইবনে আবিদীন শামী (রহ.) বলেন:
"আত্মহত্যা করা হারাম ও কবীরা গুনাহ। তবে আত্মহত্যাকারী কাফির নয়, বরং ফাসিক ও গুনাহগার মুসলিম।" — (রাদ্দুল মুহতার: ২/২২৮)
ফাতাওয়া উসমানী-তে মুফতি তাকী উসমানী (দা.বা.) বলেন:
"আত্মহত্যা কেবল নিষিদ্ধই নয়, বরং তা আল্লাহর কুদরত ও ফয়সালার উপর অসন্তুষ্টির প্রকাশ। এটি ঈমানের দুর্বলতার লক্ষণ।"
২. নিরপরাধ শিশুকে হত্যা: আরও ভয়াবহ জুলুম
আপনার সন্তানকে নিয়ে আত্মহত্যার চিন্তা — এটি দুইটি মহাপাপের সমন্বয়। কারণ:
"আর তোমরা নিজেদের সন্তানদেরকে দারিদ্র্যের ভয়ে হত্যা করো না। আমরাই তাদেরকে এবং তোমাদেরকে রিযিক দান করি।" — (সূরা আল-আনআম: ১৫১)
"নিশ্চয়ই তাদের হত্যা করা মহাপাপ।" — (সূরা আল-ইসরা: ৩১)
শিশুকে হত্যা করা মানে — তাকে জান্নাতের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা, তার হক নষ্ট করা, এবং তার রক্তের বোঝা আপনার উপর নেওয়া। কিয়ামতের দিন সেই শিশু আল্লাহর কাছে আপনার বিরুদ্ধে ফরিয়াদ করবে।
৩. আপনার কষ্টের সমাধান — আত্মহত্যা নয়
প্রিয় বোন, আপনার কষ্ট সত্য, কিন্তু আত্মহত্যা সমাধান নয়, বরং সমস্যার স্থায়ী রূপ। জাহান্নামের আযাব কোনো পার্থিব কষ্টের চেয়ে অসীম কঠিন।
কুরআনের সান্ত্বনা:
"আল্লাহ কারো উপর তার সামর্থ্যের বাইরে বোঝা চাপান না।" — (সূরা আল-বাকারা: ২৮৬)
"নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে স্বস্তি আছে। নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে স্বস্তি আছে।" — (সূরা আশ-শারহ: ৫-৬)
"আর যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য উত্তরণের পথ করে দেন।" — (সূরা আত-তালাক: ২)
হাদীসে কুদসীতে আল্লাহ বলেন:
"আমি আমার বান্দার ধারণা অনুযায়ী তার সাথে আচরণ করি।" — (সহীহ বুখারী: ৭৪০৫)
৪. আপনার করণীয় — ব্যবহারিক পদক্ষেপ
(ক) ফিকহী দিক:
-
খুলা (বিচ্ছেদ) চাওয়া: স্বামী যদি মানসিক-শারীরিক নির্যাতন করে, হক আদায় না করে, মিথ্যা অপবাদ দেয় — ইসলামে এগুলো খুলা নেওয়ার বৈধ কারণ। হানাফী মাযহাবে স্ত্রী কাজী/আদালতের মাধ্যমে খুলা নিতে পারে।
- রাদ্দুল মুহতার: ৩/৪৪৪ — স্বামীর দুর্ব্যবহার খুলার বৈধ কারণ।
-
নিরাপদ আশ্রয়: আপনার মা-বাবা নির্যাতন করলে তাদের কাছে যাওয়া বাধ্যতামূলক নয়। কোনো নির্ভরযোগ্য আত্মীয়, মুসলিম মহিলা সংগঠন, বা নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়া জায়েয।
-
হালাল রিযিক: আপনি হালাল উপায়ে নিজে রিযিকের ব্যবস্থা করতে পারেন — এটি ইসলামে অনুমোদিত। মহিলাদের ব্যবসা, চাকরি, হস্তশিল্প — সবই জায়েয (পর্দার বিধান রক্ষা করে)।
(খ) আত্মিক দিক:
- তাহাজ্জুদের দুআ: রাতের শেষ প্রহরে আল্লাহর কাছে কাঁদুন। তিনি আপনার কষ্ট শোনেন।
- ইস্তিগফার ও যিকির: "হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি'মাল ওয়াকীল" বেশি পড়ুন।
- কুরআন তিলাওয়াত: সূরা ইয়াসিন, সূরা আর-রাহমান, আয়াতুল কুরসী নিয়মিত পড়ুন।
- দুআ: "আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযান, ওয়াল আজযি ওয়াল কাসাল..."
(গ) সামাজিক দিক:
- বিশ্বস্ত আলেম/মুফতির সাথে সরাসরি পরামর্শ করুন।
- মুসলিম মহিলা সংগঠন বা নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি-র সহায়তা নিন।
- আইনি সহায়তা নিন — বাংলাদেশে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ আইন আছে।
৫. আপনার প্রশ্নের সরাসরি উত্তর
"আত্মহত্যা করলে কি সারাজীবন আযাব ভুগতে হবে?"
হ্যাঁ। হাদীসে স্পষ্ট — আত্মহত্যাকারী জাহান্নামে চিরস্থায়ী আযাবে থাকবে (যদি হালাল মনে করে করে)। আর যদি ঈমান থাকা সত্ত্বেও করে, তবে দীর্ঘ আযাবের পর মুক্তি পেতে পারে — তবে তা কত যুগ, কত শতাব্দী — আল্লাহই জানেন। কোনো পার্থিব কষ্টের বিনিময়ে জাহান্নামের আযাব কাম্য নয়।
"আমার ছেলেকে নিয়ে মরে যাব — এতে কি আযাব হবে?"
অবশ্যই। এটি দুইটি কবীরা গুনাহ — আত্মহত্যা + নিরপরাধ হত্যা। আপনার সন্তানের হক নষ্ট করা, তাকে জান্নাত থেকে বঞ্চিত করা — এর হিসাব কিয়ামতের দিন আপনাকে দিতে হবে। সন্তান আল্লাহর আমানত, আপনার সম্পত্তি নয়।
৬. শেষ কথা — হতাশা নয়, ধৈর্য
প্রিয় বোন, আল্লাহ আপনার কষ্ট দেখছেন। তিনি পরীক্ষা করছেন। আয়ুব (আ.)-এর ধৈর্য, ইউসুফ (আ.)-এর কষ্ট, মারইয়াম (আ.)-এর একাকী প্রসবের কষ্ট — সবই আল্লাহর পরীক্ষা ছিল, এবং শেষে ছিল মহা পুরস্কার।
"নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।" — (সূরা আল-বাকারা: ১৫৩)
আত্মহত্যা করবেন না। সন্তানকে হত্যা করবেন না। বরং আল্লাহর কাছে কাঁদুন, খুলার ব্যবস্থা করুন, নিরাপদ আশ্রয় খুঁজুন, হালাল রিযিকের পথ বের করুন। আল্লাহ অবশ্যই পথ দেখাবেন — তিনি কখনো তার বান্দাকে পরীক্ষার বাইরে ফেলেন না, এবং পরীক্ষার সাথে উত্তরণের পথও দেন।
★আত্মহত্যা কোনো ভাবেই সমাধান নয়। একটি আত্মহত্যা শুধু একটি জীবনকে শেষ করে দেয় না বরং একটি পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র এমনকি গোটা মানবজাতিকে হুমকির মধ্যে ফেলে দেয়।
প্রত্যেক আত্মহত্যায় চেষ্টাকারী ব্যাক্তির ফিকির করা উচিত, যে আত্মহত্যা করার পর তার পরিবারের উপর কি যন্ত্রণা যায়, কি চাপ যায়,কতটা কষ্ট পায় মা বাবা,আত্মীয় স্বজন।
আত্মহত্যা কারী ব্যাক্তি দুনিয়াও হারায়,আখেরাতও হারায়। সুতরাং এটি কোনো সমাধান হতেই পারেনা।
ইসলামী আইন ও বিধানে আত্মহত্যাকে হারাম করা হয়েছে এবং তার পরিণতিতে বলা হয়েছে, আত্মহত্যাকারী ব্যক্তির আত্মহত্যা করার পদ্ধতি অনুযায়ী তার যন্ত্রণাকে অব্যাহত রাখা হবে।
পবিত্র কুরআনে এ ব্যাপারে নির্দেশিত হয়েছে, ‘তোমরা তোমাদের নিজেদের হত্যা করো না। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের উপর করুণাময়।’ (সূরা আন-নিসা, ৪ : ২৯-৩০)
অন্য দিকে অনেক হাদিস আত্মহত্যা এবং এর শাস্তি সম্পর্কে আমাদের অবহিত করে। রাসূলুল্লাহ সা: আমাদের এ ব্যাপারে বিশেষভাবে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। আবু হুরায়রা রা: থেকে বর্ণিত
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করবে, জাহান্নামেও তার সেই যন্ত্রণাকে অব্যাহত রাখা হবে। আর যে ব্যক্তি ধারালো কোনো কিছু দিয়ে আত্মহত্যা করবে, তার সেই যন্ত্রণাকেও জাহান্নামে অব্যাহত রাখা হবে।’ (সহিহ বুখারি, খণ্ড ২, হাদিস নং ৪৪৬)
এখন যারা ইসলামী অনুশাসনে বিশ্বাসী এবং সে আলোকে নিজেদের জীবন পরিচালনা করেন, তারা কখনো আত্মহত্যা করে নিজেদের পরকালীন জীবনকে জাহান্নামে নিশ্চিত করতে চাইবে না এটাই স্বাভাবিক।
★আত্মহত্যা থেকে বাঁচার জন্য তাক্বদীরে বিশ্বাস মযবুত করা জরূরী ।
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘মুমিনের বিষয়টি বিস্ময়কর। যখন সে কল্যাণপ্রাপ্ত হয়, তখন আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে। আবার যখন বিপদগ্রস্ত হয়, তখন ছবর করে। উভয় অবস্থায় সে আল্লাহর নিকট পুরস্কারপ্রাপ্ত হয়’ (মুসলিম)।
★সর্বাবস্থায় আল্লাহর উপর ভরসা করা জরুরী । আল্লাহ বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে, তিনিই তার জন্য যথেষ্ট হন’ (তালাক ৬৫/৩)।
★হতাশা থেকে বাঁচতে হবে,হতাশ হওয়া যাবেনা। আল্লাহ বলেন, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না’ (যুমার ৩৯/৫৩)। অতএব মুমিন কখনো হতাশায় ভোগে না।
আত্মহত্যা মহাপাপ। এরপরেও মানুষ আত্মহত্যা করে।
কোন মুমিন আত্মহত্যা করতে পারে না। কেননা এটা করলে সে ইহকাল ও পরকাল দু’টিই হারাবে। তাকে এ বিশ্বাস রাখতে হবে যে, উপায়-উপাদানের মালিক আল্লাহ।
নিরুপায় মানুষ আল্লাহর উপর একান্ত ভরসা করে বৈধ পন্থায় চেষ্টা করে গেলে আল্লাহ অবশ্যই তার জন্য উত্তম পথ বের করে দিবেন।
এ ব্যাপারে তিনি তার অনুগত বান্দাদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, তার জন্য তিনি উপায় বের করে দেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রূযী দেন, যা সে কল্পনাও করেনি’ (তালাক ৬৫/২-৩)।
তিনি বলেন ‘যারা আমাদের পথে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায়, অবশ্যই আমরা তাদেরকে আমাদের পথসমূহে পরিচালিত করব। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মশীলদের সাথে থাকেন’ (আনকাবূত ২৯/৬৯)
★প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন, আখেরাতের শাস্তির তুলনায় দুনিয়ার জিন্দেগীর এ শাস্তি কিছু নয়। ধৈর্য করে আল্লাহর উপর ভরসা করে ঈমান আমল নিয়ে চললে আখেরাতে আল্লাহ তায়ালা আপনাকে উত্তম জাযা দিবেন। শুধুমাত্র আল্লাহকে আপন মনে করুন।
★প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন, শুধুমাত্র স্বামীর জন্য কেনো আত্মহত্যা করবেন? অথচ যিনি আপনাকে সৃষ্টি করলেন, রিযিক দিলেন,এতো লক্ষ কোটি নিয়ামত দ্বারা ভরপুর করলেন,সেই মহান সত্তার কথা ভাববেননা? সুতরাং আপনি হতাশ হবেননা। , যে যে পরামর্শ দেয়া হলো,আমল করুন,সমাধান মিলবে,ইনশাআল্লাহ।
আপনার জন্য দুআ করছি। আপনি একা নন — আল্লাহ আপনার সাথে আছেন।