যাদুগ্রস্ত ব্যক্তি ঘন ঘন অজ্ঞান হওয়ার কারণ ও খাদেম জ্বীনের ক্ষতিসমূহ সম্পর্কে

Waswasa-OCD · Hanafi

Question No: 6350
Questioner: Queen
Question Asked: 04 Oct 2026, 08:38 AM
Reviewed & Published: 04 Oct 2026, 09:04 AM
Views: 31
Tokens: 2,917
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম। অনেক যাদুগ্রস্থ ব্যক্তি ঘন ঘন অজ্ঞান কেন হয়? আর ঘন ঘন অজ্ঞান করার মাধ্যমে খাদেম জ্বীন যাদুগ্রস্থ ব্যক্তির কি কি ধরনের ক্ষতি করে?

Answer

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রশ্ন: অনেক যাদুগ্রস্ত ব্যক্তি ঘন ঘন অজ্ঞান কেন হয়? আর ঘন ঘন অজ্ঞান করার মাধ্যমে খাদেম জ্বীন যাদুগ্রস্ত ব্যক্তির কী কী ধরনের ক্ষতি করে?

উত্তর:

যাদু ও জ্বীনের আছর একটি বাস্তব বিষয়, যা কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত। আল্লাহ তা'আলা বলেন:

وَمِنْ شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِي الْعُقَدِ "আর গ্রন্থিতে ফুঁৎকার দিয়ে যাদু করে তাদের অনিষ্ট থেকে।" (সূরা আল-ফালাক: ৪)

আর জ্বীনের অস্তিত্ব ও মানুষের উপর তার প্রভাব সম্পর্কে আল্লাহ বলেন:

إِنَّهُ يَرَاكُمْ هُوَ وَقَبِيلُهُ مِنْ حَيْثُ لَا تَرَوْنَهُمْ "নিশ্চয়ই সে (শয়তান) এবং তার দলবল তোমাদেরকে এমন স্থান থেকে দেখে, যেখান থেকে তোমরা তাদেরকে দেখতে পাও না।" (সূরা আল-আ'রাফ: ২৭)

যাদুগ্রস্ত ব্যক্তির ঘন ঘন অজ্ঞান হওয়ার কারণ:

১. জ্বীনের আছর ও দখল: যাদুর মাধ্যমে প্রেরিত খাদেম জ্বীন যখন মানুষের শরীরে প্রবেশ করে বা তার উপর প্রভাব বিস্তার করে, তখন সে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের উপর চাপ সৃষ্টি করে। ফলে রক্তচাপ ও স্নায়ুর ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়ে ব্যক্তি অজ্ঞান হয়ে যায়। ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) তাঁর "যাদুল মা'আদ" গ্রন্থে জ্বীনের আছরের বিভিন্ন প্রকার ও লক্ষণ বর্ণনা করেছেন, যার মধ্যে অজ্ঞান হওয়া অন্যতম।

২. যাদুর প্রভাব: যাদুর গ্রন্থি (عقد) যখন শক্তভাবে বাঁধা থাকে, তখন যাদুগ্রস্ত ব্যক্তির উপর মানসিক ও শারীরিক চাপ বেড়ে যায়, ফলে মাঝে মাঝে অজ্ঞান হয়ে পড়ে।

৩. রুকইয়াহ বা ইলাজের সময়: রুকইয়াহ করার সময় জ্বীন যখন শরীর থেকে বের হতে চায় বা বের হতে বাধা পায়, তখনও ব্যক্তি অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে।

খাদেম জ্বীনের ক্ষতিসমূহ:

যাদুগ্রস্ত ব্যক্তির উপর খাদেম জ্বীন নিম্নলিখিত ক্ষতিসমূহ করে:

১. শারীরিক ক্ষতি: শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে ব্যথা, দুর্বলতা, মাথাব্যথা, বুক চেপে ধরা, শ্বাসকষ্ট, ঘন ঘন অজ্ঞান হওয়া, খিঁচুনি, হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়া ইত্যাদি।

২. মানসিক ক্ষতি: দুশ্চিন্তা, ভয়, বিষণ্নতা, হঠাৎ রাগ, পরিবার-পরিজন থেকে দূরে সরে যাওয়া, একাকী থাকার প্রবণতা, আত্মহত্যার চিন্তা, আল্লাহর যিকির থেকে বিমুখতা।

৩. ইবাদত থেকে বিরত রাখা: নামাজে মনোযোগ না থাকা, কুরআন তিলাওয়াত করতে না পারা, দ্বীনি কাজে অলসতা সৃষ্টি করা — এগুলো শয়তানের মূল লক্ষ্য।

৪. পারিবারিক ক্ষতি: স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা, সন্তান-সন্ততির প্রতি বিরূপতা, পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি করা।

৫. ঘুমের সমস্যা: দুঃস্বপ্ন দেখা, ঘুমের মধ্যে চাপ অনুভব করা, হঠাৎ জেগে ওঠা, ভয় পাওয়া।

চিকিৎসা ও প্রতিকার:

১. আয়াতুল কুরসি, সূরা ফালাক, সূরা নাস, সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত নিয়মিত পড়া ও সকাল-সন্ধ্যা তিনবার করে পড়া।

২. রুকইয়াহ শরিয়াহ করানো — অভিজ্ঞ ও আমলদার রাকীর মাধ্যমে।

৩. নামাজ পাঁচ ওয়াক্ত জামাতের সাথে আদায় করা, বিশেষ করে ফজরের নামাজ।

৪. সকাল-সন্ধ্যা রাসূল (সা.)-এর শেখানো যিকির ও দোয়া নিয়মিত পড়া।

৫. যাদুর গ্রন্থি খুঁজে বের করে তা ধ্বংস করা — যদি জানা যায় কোথায় রাখা হয়েছে।

৭. কুরআন-সুন্নাহর আলোকে চিকিৎসা করানো, জ্যোতিষী, গণক, তাবিজ-কবজ বিক্রেতার কাছে যাওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

مَنْ أَتَى عَرَّافًا فَسَأَلَهُ عَنْ شَيْءٍ لَمْ تُقْبَلْ لَهُ صَلَاةٌ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً "যে ব্যক্তি কোনো গণকের কাছে গিয়ে কিছু জিজ্ঞাসা করল, তার চল্লিশ দিনের নামাজ কবুল হবে না।" (সহীহ মুসলিম: ২২৩০)

আল্লাহ তা'আলাই সর্বোত্তম হেফাজতকারী। তিনি আমাদেরকে সব ধরনের জ্বীন ও যাদুর অনিষ্ট থেকে হেফাজত করুন। আমিন।

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.