যাদুগ্রস্ত ব্যক্তি ঘন ঘন অজ্ঞান হওয়ার কারণ ও খাদেম জ্বীনের ক্ষতিসমূহ সম্পর্কে
Waswasa-OCD · Hanafi
Question
Answer
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
প্রশ্ন: অনেক যাদুগ্রস্ত ব্যক্তি ঘন ঘন অজ্ঞান কেন হয়? আর ঘন ঘন অজ্ঞান করার মাধ্যমে খাদেম জ্বীন যাদুগ্রস্ত ব্যক্তির কী কী ধরনের ক্ষতি করে?
উত্তর:
যাদু ও জ্বীনের আছর একটি বাস্তব বিষয়, যা কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
وَمِنْ شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِي الْعُقَدِ "আর গ্রন্থিতে ফুঁৎকার দিয়ে যাদু করে তাদের অনিষ্ট থেকে।" (সূরা আল-ফালাক: ৪)
আর জ্বীনের অস্তিত্ব ও মানুষের উপর তার প্রভাব সম্পর্কে আল্লাহ বলেন:
إِنَّهُ يَرَاكُمْ هُوَ وَقَبِيلُهُ مِنْ حَيْثُ لَا تَرَوْنَهُمْ "নিশ্চয়ই সে (শয়তান) এবং তার দলবল তোমাদেরকে এমন স্থান থেকে দেখে, যেখান থেকে তোমরা তাদেরকে দেখতে পাও না।" (সূরা আল-আ'রাফ: ২৭)
যাদুগ্রস্ত ব্যক্তির ঘন ঘন অজ্ঞান হওয়ার কারণ:
১. জ্বীনের আছর ও দখল: যাদুর মাধ্যমে প্রেরিত খাদেম জ্বীন যখন মানুষের শরীরে প্রবেশ করে বা তার উপর প্রভাব বিস্তার করে, তখন সে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের উপর চাপ সৃষ্টি করে। ফলে রক্তচাপ ও স্নায়ুর ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়ে ব্যক্তি অজ্ঞান হয়ে যায়। ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) তাঁর "যাদুল মা'আদ" গ্রন্থে জ্বীনের আছরের বিভিন্ন প্রকার ও লক্ষণ বর্ণনা করেছেন, যার মধ্যে অজ্ঞান হওয়া অন্যতম।
২. যাদুর প্রভাব: যাদুর গ্রন্থি (عقد) যখন শক্তভাবে বাঁধা থাকে, তখন যাদুগ্রস্ত ব্যক্তির উপর মানসিক ও শারীরিক চাপ বেড়ে যায়, ফলে মাঝে মাঝে অজ্ঞান হয়ে পড়ে।
৩. রুকইয়াহ বা ইলাজের সময়: রুকইয়াহ করার সময় জ্বীন যখন শরীর থেকে বের হতে চায় বা বের হতে বাধা পায়, তখনও ব্যক্তি অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে।
খাদেম জ্বীনের ক্ষতিসমূহ:
যাদুগ্রস্ত ব্যক্তির উপর খাদেম জ্বীন নিম্নলিখিত ক্ষতিসমূহ করে:
১. শারীরিক ক্ষতি: শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে ব্যথা, দুর্বলতা, মাথাব্যথা, বুক চেপে ধরা, শ্বাসকষ্ট, ঘন ঘন অজ্ঞান হওয়া, খিঁচুনি, হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়া ইত্যাদি।
২. মানসিক ক্ষতি: দুশ্চিন্তা, ভয়, বিষণ্নতা, হঠাৎ রাগ, পরিবার-পরিজন থেকে দূরে সরে যাওয়া, একাকী থাকার প্রবণতা, আত্মহত্যার চিন্তা, আল্লাহর যিকির থেকে বিমুখতা।
৩. ইবাদত থেকে বিরত রাখা: নামাজে মনোযোগ না থাকা, কুরআন তিলাওয়াত করতে না পারা, দ্বীনি কাজে অলসতা সৃষ্টি করা — এগুলো শয়তানের মূল লক্ষ্য।
৪. পারিবারিক ক্ষতি: স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা, সন্তান-সন্ততির প্রতি বিরূপতা, পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি করা।
৫. ঘুমের সমস্যা: দুঃস্বপ্ন দেখা, ঘুমের মধ্যে চাপ অনুভব করা, হঠাৎ জেগে ওঠা, ভয় পাওয়া।
চিকিৎসা ও প্রতিকার:
১. আয়াতুল কুরসি, সূরা ফালাক, সূরা নাস, সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত নিয়মিত পড়া ও সকাল-সন্ধ্যা তিনবার করে পড়া।
২. রুকইয়াহ শরিয়াহ করানো — অভিজ্ঞ ও আমলদার রাকীর মাধ্যমে।
৩. নামাজ পাঁচ ওয়াক্ত জামাতের সাথে আদায় করা, বিশেষ করে ফজরের নামাজ।
৪. সকাল-সন্ধ্যা রাসূল (সা.)-এর শেখানো যিকির ও দোয়া নিয়মিত পড়া।
৫. যাদুর গ্রন্থি খুঁজে বের করে তা ধ্বংস করা — যদি জানা যায় কোথায় রাখা হয়েছে।
৭. কুরআন-সুন্নাহর আলোকে চিকিৎসা করানো, জ্যোতিষী, গণক, তাবিজ-কবজ বিক্রেতার কাছে যাওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
مَنْ أَتَى عَرَّافًا فَسَأَلَهُ عَنْ شَيْءٍ لَمْ تُقْبَلْ لَهُ صَلَاةٌ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً "যে ব্যক্তি কোনো গণকের কাছে গিয়ে কিছু জিজ্ঞাসা করল, তার চল্লিশ দিনের নামাজ কবুল হবে না।" (সহীহ মুসলিম: ২২৩০)
আল্লাহ তা'আলাই সর্বোত্তম হেফাজতকারী। তিনি আমাদেরকে সব ধরনের জ্বীন ও যাদুর অনিষ্ট থেকে হেফাজত করুন। আমিন।
والله أعلم بالصواب