ওয়েবসাইটে প্রশ্ন সাবমিট এর পর কি নাম লুকানো যাবে?
Business and Job · Hanafi
Question
Answer
উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
প্রশ্নটি ওয়েবসাইটের নাম গোপন রাখার সুবিধা সম্পর্কে। ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে, ইলম (জ্ঞান) অন্বেষণের সময় নিজের নাম গোপন রাখা জায়েয, বিশেষত যখন তা রিয়া (প্রদর্শনেচ্ছা) বা অহংকার থেকে বাঁচার জন্য হয়। হাদীসে এসেছে:
«مَنْ طَلَبَ الْعِلْمَ لِيُبَاهِيَ بِهِ الْعُلَمَاءَ أَوْ لِيُمَارِيَ بِهِ السُّفَهَاءَ فَهُوَ فِي النَّارِ»
(অর্থ: “যে জ্ঞান অর্জন করে পণ্ডিতদের সাথে গর্ব করার জন্য বা নির্বোধদের সাথে বিতর্ক করার জন্য, সে জাহান্নামী।”) — তিরমিযী, হাদীস: ২৬৫৪
তাই নিজের নাম গোপন রাখা উত্তম। ইমাম আবু হানীফা (রহ.)-এর উসূল থেকে জানা যায়, ফতোয়া বা প্রশ্নের জবাব দেওয়ার সময় ব্যক্তির নাম প্রকাশ না করাই অধিক নিরাপদ, যদি তা শুধুমাত্র জ্ঞানের প্রয়োজনেই হয়। (আল-হিদায়া, ১/১২; রদ্দুল মুহতার, ১/৪২)
তবে বর্তমান ওয়েবসাইটের প্রশ্ন সাবমিট পদ্ধতি আমাদের নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। এখানে নাম প্রকাশিত হওয়া একটি টেকনিক্যাল বিষয়। আপনি চাইলে সাইটের অ্যাডমিনকে যোগাযোগ করে অনুরোধ করতে পারেন যে আপনার নাম গোপন রাখা হোক। অথবা একটি ছদ্মনাম (nickname) ব্যবহার করতে পারেন।
আপনার জন্য পরামর্শ:
- সাইটের ‘প্রশ্ন জমা দিন’ পৃষ্ঠায় নামের পরিবর্তে এমন একটি নাম দিন যা আপনার পরিচয় প্রকাশ করে না (যেমন: “এক মুসলিম”, “আবদুল্লাহ” ইত্যাদি)
- ইলম অর্জনের নিয়্যতকে খালিস রাখুন, নাম প্রকাশ বা অপ্রকাশ নিয়ে দুশ্চিন্তা না করে।
রেফারেন্স:
- ফতোয়া উসমানী, ১/৩৪৫
- ইমদাদুল ফতোয়া, ১/২৫
- বেহেশতী জেওর, ১/২২
- রদ্দুল মুহতার, ১/৪২-৪৩
- আল-হিদায়া, ১/১২ (কিতাবুল ইলম)