শর্ত তুলে নেওয়ার নিয়ম ও তালাক সংঘটিত হওয়ার বিধান।
Family Life · Hanafi
Question
হযরত মুফতি সাহেব, আমার একটি পারিবারিক মাসআলা সম্পর্কে শরিয়তসম্মত সমাধান জানতে চাই।
আমি রাগের মাথায় আমার স্ত্রীকে বলেছিলাম, **“তুমি ফেসবুক চালালে আমার বউ থাকবে না।”** কথাটি বলার সময় আমার উদ্দেশ্য ছিল স্ত্রীকে ফেসবুক ব্যবহার করা থেকে বিরত রাখা এবং ভয় দেখানো। তালাক দেওয়ার উদ্দেশ্যে কথাটি বলিনি। আমি সরাসরি তালাক শব্দও ব্যবহার করিনি।
আমার কথা শোনার পর আমার স্ত্রী আর ফেসবুক ব্যবহার করেনি। এখন আমি আমার দেওয়া শর্তটি তুলে নিতে চাই এবং স্ত্রীকে স্বাভাবিকভাবে ফেসবুক ব্যবহারের অনুমতি দিতে চাই।
আমার জানার বিষয়গুলো হলো:
১. আমার বলা কথাটির কারণে কি শরিয়ত অনুযায়ী তালাক সংঘটিত হয়েছে?
২. যেহেতু আমার তালাক দেওয়ার নিয়ত ছিল না এবং উদ্দেশ্য ছিল শুধু ভয় দেখানো, সে ক্ষেত্রে শরিয়তের বিধান কী?
৩. আমি কি এখন আমার শর্তটি প্রত্যাহার করে স্ত্রীকে ফেসবুক ব্যবহার করার অনুমতি দিতে পারব?
৪. শর্তটি প্রত্যাহার করলে ভবিষ্যতে স্ত্রী ফেসবুক ব্যবহার করলেও কি তালাকের কোনো আশঙ্কা থাকবে?
৫. এ ক্ষেত্রে আমাদের দাম্পত্য সম্পর্কের শরিয়তসম্মত অবস্থা কী?
হুজুরের কাছে অনুরোধ, কুরআন-সুন্নাহ ও নির্ভরযোগ্য ফিকহের আলোকে বিস্তারিত মাসআলাটি জানিয়ে বাধিত করবেন।
**জাযাকুমুল্লাহু খাইরান।**
Answer
بسم الله الرحمن الرحيم
হামদ ও সালাতের পর:
আপনার প্রশ্ন গুলি হলো:
১. আমার বলা কথাটির কারণে কি শরিয়ত অনুযায়ী তালাক সংঘটিত হয়েছে?
জবাবঃ- প্রশ্নের বিবরন মতে উক্ত বাক্য বলার সময় তালাকের নিয়ত না থাকায় এক্ষেত্রে তালাক পতিত হয়নি।
২. যেহেতু আমার তালাক দেওয়ার নিয়ত ছিল না এবং উদ্দেশ্য ছিল শুধু ভয় দেখানো, সে ক্ষেত্রে শরিয়তের বিধান কী?
জবাবঃ- উক্ত বাক্য বলার সময় তালাকের নিয়ত না থাকায় এক্ষেত্রে তালাক পতিত হয়নি।
৩. আমি কি এখন আমার শর্তটি প্রত্যাহার করে স্ত্রীকে ফেসবুক ব্যবহার করার অনুমতি দিতে পারব?
জবাবঃ- সেটি আপনার ব্যাক্তিগত বিষয়।
৪. শর্তটি প্রত্যাহার করলে ভবিষ্যতে স্ত্রী ফেসবুক ব্যবহার করলেও কি তালাকের কোনো আশঙ্কা থাকবে?
জবাবঃ- উক্ত বাক্য বলার সময় তালাকের নিয়ত না থাকায় এখনও তালাকের শংকা নেই,পরবর্তীতেও থাকবেনা।
৫. এ ক্ষেত্রে আমাদের দাম্পত্য সম্পর্কের শরিয়তসম্মত অবস্থা কী?
জবাবঃ- উক্ত বাক্য বলার সময় তালাকের নিয়ত না থাকায় আপনাদের দাম্পত্য সম্পর্ক এখনো বহাল রয়েছে।
হানাফি ফিকহ অনুযায়ী তালাকের শব্দ দুই প্রকার:
(ক) সরীহ (স্পষ্ট) শব্দ: যেমন—"তালাক", "তালাক দিলাম", "তুমি তালাকপ্রাপ্তা" ইত্যাদি। এসব শব্দে নিয়ত ছাড়াই তালাক পতিত হয়।
(খ) কিনায়া (ইঙ্গিতবাহী) শব্দ: যেমন—"তুমি আমার বউ থাকবে না", "তোমাকে ছেড়ে দিলাম", "তুমি আমার জন্য হারাম" ইত্যাদি। এসব শব্দে নিয়ত ছাড়া তালাক পতিত হয় না।
আল-হিদায়া ও রাদ্দুল মুহতার-এ উল্লেখ আছে: "وَالْكِنَايَاتُ لَا يَقَعُ بِهَا الطَّلَاقُ إِلَّا بِالنِّيَّةِ أَوْ دَلَالَةِ الْحَالِ" (কিনায়া শব্দ দ্বারা নিয়ত বা অবস্থার প্রমাণ ছাড়া তালাক পতিত হয় না।) — রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৩, পৃ. ৩০০