শাহওয়াত ও কাপড়ের পুরুত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য না থাকলে শুধু সন্দেহের কারণে কি হুরমতে মুসাহারাত সাব্যস্ত হবে?
Family Life · Hanafi
Question
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
প্রায় ৭ বছর আগে আমার স্ত্রী ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা সময়ে আমার বাবা তার লজ্জাস্থানে সেলোয়ারের ওপর দিয়ে হাত দেন। হাত দেওয়ার কারণে আমার স্ত্রী জেগে ওঠেন। আমার বাবা ইচ্ছাকৃতভাবে কী উদ্দেশ্যে হাত দিয়েছিলেন এবং তখন তাঁর শাহওয়াত ছিল কি না—আমি নিশ্চিতভাবে জানি না। তবে পরিস্থিতি দেখে শাহওয়াত থাকার আশঙ্কা করি।
আমার স্ত্রী তখন ঘুমন্ত ছিলেন, তাpই তাঁর নিজের কোনো শাহওয়াত ছিল না। স্পর্শটি সরাসরি শরীরে হয়নি; সেলোয়ারের ওপর দিয়ে হয়েছিল। কিন্তু সেলোয়ারটি পাতলা না মোটা ছিল এবং শরীরের উষ্ণতা স্পর্শকারীর হাতে অনুভূত হয়েছিল কি না—আমার স্ত্রী নিশ্চিতভাবে বলতে পারেন না।
ঘটনার প্রায় ৭ বছর পর আমার বাবা ইন্তেকাল করেছেন। এ ঘটনার পর আমাদের ৩টি সন্তান হয়েছে। লোকলজ্জার কারণে এতদিন কাউকে বিষয়টি বলতে পারিনি।
প্রশ্ন:
১. হানাফি ফিকহ অনুযায়ী এই ঘটনায় হুরমতে মুসাহারাত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কি না?
২. শাহওয়াত ও কাপড়ের পুরুত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য না থাকলে শুধু সন্দেহের কারণে কি হুরমতে মুসাহারাত সাব্যস্ত হবে?
৩. আমার স্ত্রীর সঙ্গে আমার নিকাহ বর্তমানে বহাল আছে কি না?
৪. গত ৭ বছরে আমাদের দাম্পত্য সম্পর্ক ও সন্তানদের ব্যাপারে কোনো শরয়ি সমস্যা হয়েছে কি?
দয়া করে ফাতাওয়া হিন্দিয়া, রদ্দুল মুহতার ও অন্যান্য নির্ভরযোগ্য হানাফি কিতাবের আলোকে বিস্তারিত ফতোয়া প্রদান করবেন।
জাযাকুমুল্লাহু খাইরান। (বিঃদ্রঃ) দয়াকরে নাম গোপন করে উত্তর দিলে ভালো হয়।
Answer
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ
প্রিয় প্রশ্নকারী ভাই, প্রশ্নের বিবরণ মতে এক্ষেত্রে হুরমতে মুসাহারাত সাব্যস্ত হবে না। আপনাদের বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল রয়েছে।
হুরমতে মুসাহারাতের অর্থ হলো: কোনো পুরুষ যদি কোনো নারীর সঙ্গে এমনভাবে সম্পর্ক স্থাপন করে যা সাধারণত স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে হয়ে থাকে (যেমন: সহবাস, স্পর্শ, চুম্বন ইত্যাদি শাহওয়াতের সাথে), তাহলে সেই নারীর মা, দাদি, নানি, মেয়ে, নাতনি, পুত্রবধূ, সৎমা ইত্যাদি সেই পুরুষের জন্য চিরতরে হারাম হয়ে যায়। অনুরূপভাবে সেই নারীর স্বামীও তার (নারীটির) জন্য হারাম হয়ে যায় না, বরং নারীটির সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনকারী পুরুষের সঙ্গে তার (নারীর স্বামীর) সম্পর্ক হারাম হয়।
দলিল: আল্লাহ তা'আলা বলেন:
وَلَا تَنكِحُوا مَا نَكَحَ آبَاؤُكُم مِّنَ النِّسَاءِ "তোমাদের পিতারা যেসব নারীকে বিয়ে করেছে, তোমরা তাদের বিয়ে করো না।" (সূরা নিসা: ২২)
আরও ইরশাদ হয়েছে:
حُرِّمَتْ عَلَيْكُمْ أُمَّهَاتُكُمْ وَبَنَاتُكُمْ وَأَخَوَاتُكُمْ وَعَمَّاتُكُمْ وَخَالَاتُكُمْ وَبَنَاتُ الْأَخِ وَبَنَاتُ الْأُخْتِ وَأُمَّهَاتُكُمُ اللَّاتِي أَرْضَعْنَكُمْ وَأَخَوَاتُكُم مِّنَ الرَّضَاعَةِ وَأُمَّهَاتُ نِسَائِكُمْ "তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে তোমাদের মা, তোমাদের কন্যা, তোমাদের বোন, তোমাদের ফুফু, তোমাদের খালা, ভাইয়ের কন্যা, বোনের কন্যা, তোমাদের দুধমা, দুধবোন, তোমাদের স্ত্রীদের মা..." (সূরা নিসা: ২৩)
হানাফি ফিকহে মুসাহারাতের শর্তাবলি
ফাতাওয়া হিন্দিয়া ও রাদ্দুল মুহতার-এ উল্লেখ আছে:
وَالْمُصَاهَرَةُ تَثْبُتُ بِالْوَطْءِ وَبِمَا يُوجِبُ الْحُرْمَةَ مِنْ الْمُبَاشَرَةِ وَالنَّظَرِ إلَى الْفَرْجِ بِشَهْوَةٍ "মুসাহারাত প্রতিষ্ঠিত হয় সহবাস দ্বারা, আর যা হারাম করে এমন মেলামেশা (মুবাশারাত) দ্বারা এবং শাহওয়াতের সাথে লজ্জাস্থানের দিকে দৃষ্টিপাত দ্বারা।" (রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৩১)
আল-হিদায়া-তে ইমাম বুরহানুদ্দীন আল-মারগীনানী (রহ.) বলেন:
وَالْمُصَاهَرَةُ تَثْبُتُ بِالْوَطْءِ وَبِمَا يُوجِبُ الْحُرْمَةَ مِنْ الْمُبَاشَرَةِ "মুসাহারাত প্রতিষ্ঠিত হয় সহবাস দ্বারা এবং যা হারাম করে এমন মেলামেশা দ্বারা।" (আল-হিদায়া, কিতাবুন নিকাহ)