গরুর ভুরি খাওয়া প্রসঙ্গে

Faith and Belief · Hanafi

Question No: 6247
Questioner: Fahmida Habiba
Question Asked: 02 Oct 2026, 03:04 PM
Reviewed & Published: 02 Oct 2026, 03:41 PM
Views: 35
Tokens: 3,231
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম।গরুর ভুরি থেকে ময়লা আলাদা করে গরম পানি দিয়ে পরিষ্কার করা হয়। যদি ও ময়লা ফেলে দেয় তাও ভাজে ভাজে কিছু ময়লা লেগে থাকে এর সাথেই গরম পানি ঢেলে দিয়ে পরিষ্কার করা হয়। তাছাড়া সাথে যে চর্বি থাকে এটার মধ্যে কিছু ময়লা লেগে থাকে, পানি দিয়ে ধুইলেও পুরোপুরি যায় না। এমনি পানি দিয়ে ধুয়ে পরে রান্না করে।এই অবস্থায় ভুরি খাওয়া কি ঠিক হবে।

Answer

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

উত্তর:

প্রশ্নে বর্ণিত পদ্ধতিতে গরুর ভুরি পরিষ্কার করে খাওয়া জায়েজ আছে, তবে কিছু শর্তসাপেক্ষে। বিস্তারিত নিচে দেওয়া হলো:


১. মূলনীতি: নাজাসাত (অপবিত্রতা) দূর করা

ইসলামী শরীয়তে খাওয়ার আগে নাজাসাত (অপবিত্র বস্তু) দূর করা ফরজ। গরুর ভুরি মূলত পাক (হালাল প্রাণীর ভেতরের অংশ), কিন্তু তাতে ময়লা-নাজাসাত লেগে যায়। তাই তা পরিষ্কার করা আবশ্যক।

আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَيُحِلُّ لَهُمُ الطَّيِّبَاتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ الْخَبَائِثَ "তিনি তাদের জন্য পবিত্র বস্তু হালাল করেন এবং অপবিত্র বস্তু হারাম করেন।" (সূরা আল-আরাফ: ১৫৭)


২. নাজাসাত দূর করার পদ্ধতি

হানাফি মাজহাবে নাজাসাত দূর করার জন্য তিনবার ধোয়া সুন্নত/মুস্তাহাব, তবে একবার ধোয়ার পর যদি নাজাসাতের চিহ্ন (রং, গন্ধ, স্বাদ) দূর হয়ে যায় এবং মনে غالب গুমান হয় যে পরিষ্কার হয়ে গেছে, তাহলে তা পাক হয়ে যায়।

আল-হিদায়া ও রাদ্দুল মুহতার-এ উল্লেখ আছে:

"নাজাসাত দূর করার জন্য তিনবার ধোয়া উত্তম, তবে একবারেই যদি নাজাসাত দূর হয়ে যায় তবে তা যথেষ্ট।" (রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ১, পৃ. ৩১৬)


৩. প্রশ্নের নির্দিষ্ট অবস্থা

আপনি বলেছেন:

  • ময়লা আলাদা করে গরম পানি দিয়ে পরিষ্কার করা হয়।
  • ভাজে ভাজে কিছু ময়লা লেগে থাকে।
  • চর্বির মধ্যে কিছু ময়লা লেগে থাকে, পানি দিয়ে ধুলেও পুরোপুরি যায় না।
  • এরপর রান্না করা হয়।

এখানে বিবেচ্য বিষয়:

(ক) যদি ময়লা-নাজাসাতের চিহ্ন (রং, গন্ধ, স্বাদ) দূর হয়ে যায় এবং মনে غالب গুমান হয় যে পরিষ্কার হয়েছে — তবে খাওয়া জায়েজ।

(খ) যদি নাজাসাতের চিহ্ন (গন্ধ, রং, স্বাদ) থেকে যায় — তবে তা পাক নয়, এবং এ অবস্থায় খাওয়া জায়েজ নয়।

(গ) চর্বির ভেতরে ময়লা লেগে থাকা: যদি চর্বির ভেতরের ময়লা বের করা কঠিন হয়, তবে গরম পানি দিয়ে ভালোভাবে ধোয়ার পর যদি নাজাসাতের কোনো চিহ্ন না থাকে, তবে তা পাক। কারণ নাজাসাত দূর করার মানদণ্ড হলো নাজাসাতের চিহ্ন দূর হওয়া, সম্পূর্ণভাবে প্রতিটি অণু বের হওয়া নয়।

ফাতাওয়া উসমানি-তে উল্লেখ আছে:

"নাজাসাত দূর করার জন্য নাজাসাতের চিহ্ন (রং, গন্ধ, স্বাদ) দূর হওয়াই যথেষ্ট। যদি চিহ্ন দূর হয়ে যায় তবে পাক হয়ে যায়।" (ফাতাওয়া উসমানি, খণ্ড ১, পৃ. ১৩০)


৪. সতর্কতা

  • যদি নিশ্চিত না হন যে নাজাসাত দূর হয়েছে, তবে সন্দেহের কারণে খাওয়া থেকে বিরত থাকাই উত্তম।
  • রান্নার পর যদি গন্ধ বা স্বাদে নাজাসাতের প্রভাব থাকে, তবে খাওয়া যাবে না।
  • সাধারণত যেহেতু গরম পানি দিয়ে ভালোভাবে ধোয়া হয় এবং রান্না করা হয়, তাই নাজাসাতের চিহ্ন দূর হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি — এ অবস্থায় খাওয়া জায়েজ।

৫. সারসংক্ষেপ

| অবস্থা | হুকুম | |--------|-------| | নাজাসাতের চিহ্ন (রং, গন্ধ, স্বাদ) দূর হয়েছে | জায়েজ | | নাজাসাতের চিহ্ন থেকে গেছে | জায়েজ নয় | | সন্দেহ আছে | বিরত থাকাই উত্তম |

** আপনি যদি গরম পানি দিয়ে ভালোভাবে ধোয়ার পর নাজাসাতের কোনো চিহ্ন (গন্ধ, রং, স্বাদ) না পান, তবে ভুরি খাওয়া জায়েজ। তবে সন্দেহ থাকলে খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।


والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.