কোনো নফল রোজা রাখার ইচ্ছে করে যদি না থাকতে পারি বা দিনের মাঝে ছেড়ে দিতে হয় রোজা তাহলে কি ঐ রোযা পরবর্তীতে কাযা করতে হবে?
Siyam-Fasting · Hanafi
Question
Answer
নফল রোজা ভঙ্গ বা ছেড়ে দেওয়ার বিধান
প্রশ্ন
কোনো নফল রোজা রাখার ইচ্ছে করে যদি না থাকতে পারি বা দিনের মাঝে ছেড়ে দিতে হয়, তাহলে কি সেই রোজা পরে কাজা করতে হবে?
উত্তর
সংক্ষিপ্ত উত্তর
হ্যাঁ, নফল রোজা শুরু করার পর তা ভঙ্গ করলে বা ছেড়ে দিলে কাজা করা ওয়াজিব। তবে নফল রোজার নিয়ত না করে থাকলে কাজা লাগবে না।
বিস্তারিত আলোচনা
১. নফল রোজা শুরু করার পর তা পূর্ণ করা ওয়াজিব
ফিকহে হানাফির মূলনীতি হলো—নফল ইবাদত শুরু করার পর তা পূর্ণ করা ওয়াজিব হয়ে যায়। এ কারণেই নফল রোজা শুরু করার পর তা ভঙ্গ করলে বা ছেড়ে দিলে তার কাজা করা আবশ্যক।
দলিল:
হযরত আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন—একদিন নবী করীম (সাঃ) আমার কাছে এসে জিজ্ঞাসা করলেন, "তোমার কাছে কি (খাওয়ার) কিছু আছে?" আমি বললাম, "না।" তখন তিনি বললেন, "তাহলে আমি রোজা রাখব।" এরপর তিনি (সেদিন) রোজা রাখলেন। (সহীহ মুসলিম, হাদিস: ১১৫৪)
এই হাদিস থেকে প্রমাণিত হয় যে, নফল রোজার নিয়ত করার পর তা পূর্ণ করা কর্তব্য।
২. হানাফি মাযহাবের ফতোয়া
আল্লামা ইবনে আবিদীন শামী (রহঃ) লিখেন—
"নফল রোজা শুরু করার পর তা ভঙ্গ করা জায়েজ নয়; বরং তা পূর্ণ করা ওয়াজিব। আর যদি ভঙ্গ করে ফেলে, তবে কাজা করা ওয়াজিব হবে।"
— রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ৩৭৯
ফতোয়ায়ে আলমগিরিতে উল্লেখ আছে—
"নফল রোজার নিয়ত করার পর তা ভঙ্গ করলে কাজা ওয়াজিব হবে।"
— ফতোয়ায়ে আলমগিরি, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ২০৮
মুফতি তাকি উসমানি (দাঃবাঃ) বলেন—
"নফল রোজা শুরু করার পর তা ভঙ্গ করা জায়েজ নেই। যদি কেউ ভঙ্গ করে, তবে তার কাজা করতে হবে।"
— ফতোয়ায়ে উসমানি, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ১৪৫
৩. যদি নিয়ত না করে থাকে
যদি কেউ নফল রোজার নিয়তই না করে এবং সেদিন রোজা না রাখে, তাহলে তার উপর কোনো কাজা নেই। কারণ নফল রোজা নিয়ত করার আগে তা আবশ্যক হয় না।
ইমাম তাহতাবী (রহঃ) বলেন—
"নফল রোজা নিয়ত করার পর তা পূর্ণ করা ওয়াজিব। নিয়ত না করলে কোনো কিছু ওয়াজিব হয় না।"
— হাশিয়াতুত তাহতাবী আলা মারাকিল ফালাহ, পৃষ্ঠা: ৩২৯
৪. অসুস্থতা বা অতিরিক্ত কষ্টের কারণে ছেড়ে দিলে
যদি কেউ অসুস্থতা বা এমন কষ্টের সম্মুখীন হয় যা সহ্য করা কঠিন, তাহলে নফল রোজা ভঙ্গ করা জায়েজ আছে; তবে পরবর্তীতে কাজা করতে হবে।
আল্লামা আশরাফ আলী থানভী (রহঃ) বলেন—
"নফল রোজা ভঙ্গ করার অনুমতি আছে যদি কষ্টের আশঙ্কা হয়; কিন্তু কাজা করতে হবে।"
— বেহেশতী জেওর, পৃষ্ঠা: ৩৮৭
সারসংক্ষেপ
| অবস্থা | বিধান | |--------|--------| | নফল রোজার নিয়ত করার পর ভঙ্গ করলে | কাজা ওয়াজিব | | নফল রোজার নিয়ত করার পর ছেড়ে দিলে | কাজা ওয়াজিব | | নিয়ত না করে রোজা না রাখলে | কোনো কাজা নেই | | অসুস্থতায় ভঙ্গ করলে | কাজা ওয়াজিব |
সতর্কতা: নফল রোজা শুরু করার পর বিনা কারণে ভঙ্গ করা উচিত নয়; এটি গুনাহের কাজ। তবে যদি ভঙ্গ হয়ে যায়, তবে অবশ্যই কাজা করতে হবে।
আল্লাহ সর্বজ্ঞ।