অসুস্থতার কারণে ফরজ রোজা কি ভাঙা যাবে?
Siyam-Fasting · Hanafi
Question
এখন বাসা থেকে জোরাজুরি করছে রোজা ভাঙার জন্য, রোজা কি ভাঙতে পারবো?
Answer
অসুস্থতার কারণে ফরজ কাযা রোজা ভাঙা প্রসঙ্গে
প্রশ্নের সারসংক্ষেপ
একজন ব্যক্তি ফরজ কাযা রোজা রাখছেন। তাঁর রক্তচাপ একদম কমে গেছে (৮০/৬০)। পরিবার থেকে রোজা ভাঙার জন্য জোরাজুরি করা হচ্ছে। তিনি জানতে চান—এ অবস্থায় রোজা ভাঙা যাবে কি?
ফিকহি বিশ্লেষণ
১. অসুস্থতার কারণে রোজা ভাঙার বিধান
আল্লাহ তা'আলা কুরআনে বলেন:
فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضًا أَوْ عَلَىٰ سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ
"তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ হবে বা সফরে থাকবে, সে অন্য দিনে গণনা পূর্ণ করবে।" — (সূরা আল-বাকারা: ১৮৪)
২. হানাফি মাযহাবের মূলনীতি
আল-হিদায়া ও রাদ্দুল মুহতার-এ উল্লেখ আছে:
- যদি কোনো ব্যক্তির অসুস্থতা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, রোজা রাখলে জীবনের আশঙ্কা থাকে, অথবা রোগ মারাত্মকভাবে বেড়ে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা থাকে, তাহলে তার জন্য রোজা ভাঙা জায়েয।
- তবে শুধু কষ্ট বা দুর্বলতা থাকলেই রোজা ভাঙা যাবে না; বরং অভিজ্ঞ মুসলিম ডাক্তারের পরামর্শ বা প্রবল ধারণা থাকতে হবে যে, রোজা রাখলে ক্ষতি হবে।
ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মত হলো: অসুস্থতা যদি এমন হয় যে, রোজা রাখলে জানের ক্ষতি হবে বা রোগ বেড়ে যাবে—তাহলে রোজা ভাঙা জায়েয।
৩. রক্তচাপ ৮০/৬০ হওয়ার বিধান
রক্তচাপ ৮০/৬০ (লো ব্লাড প্রেসার) সাধারণত হাইপোটেনশন হিসেবে গণ্য হয়। যদি এর সাথে মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, দুর্বলতা, বমি বমি ভাব ইত্যাদি উপসর্গ থাকে, এবং ডাক্তার বলেন যে রোজা রাখা বিপজ্জনক—তাহলে রোজা ভাঙা জায়েয।
তবে শুধু পরিবারের জোরাজুরিতে রোজা ভাঙা যাবে না। ইসলামে ইবাদতের ব্যাপারে নিজের বিবেক ও শরীয়তের বিধান প্রাধান্য পাবে, পরিবারের চাপ নয়।
৪. ফরজ কাযা রোজার ক্ষেত্রে বিশেষ বিধান
ফরজ কাযা রোজা আদায় করা ফরজ। এটি নফল রোজার মতো নয়। তাই:
- বিনা কারণে ফরজ কাযা রোজা ভাঙা যাবে না।
- শরীয়তসম্মত ওজর (অসুস্থতা, সফর, ইত্যাদি) থাকলে ভাঙা যাবে, তবে পরে পুনরায় আদায় করতে হবে।
- যদি রোজা ভাঙেন, তাহলে কাফফারা লাগবে না (কাফফারা শুধু রমজানের রোজার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য), শুধু কাযা করতে হবে।
৫. করণীয়
১. অভিজ্ঞ মুসলিম ডাক্তারের পরামর্শ নিন—তিনি যদি বলেন রোজা রাখা আপনার জন্য বিপজ্জনক, তাহলে রোজা ভাঙতে পারেন। ২. যদি ডাক্তার অনুমতি দেন এবং আপনি রোজা রাখতে সক্ষম হন, তাহলে রোজা ভাঙবেন না—পরিবারের চাপে পড়ে ভাঙা ঠিক হবে না। ৩. যদি রোজা ভাঙেন, তাহলে পরে সুস্থ হয়ে পুনরায় রোযাটি আদায় করবেন। ৪. সেহরি ও ইফতারে পুষ্টিকর খাবার খাবেন, পর্যাপ্ত পানি পান করবেন, লবণ ও চিনিযুক্ত খাবার পরিমিত খাবেন—যাতে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। ৫. সাহরি দেরিতে খাবেন এবং ইফতার দ্রুত করবেন।