মানত নির্ধারিত সময়ে পূরণ না করলে কী হবে? জানুয়ারি মাসে ওমরার মানত করে পরে করলে গুনাহ হবে কি?

Faith and Belief · Hanafi

Question No: 6174
Questioner: ABdul Kadar RaFi
Question Asked: 01 Oct 2026, 01:46 AM
Reviewed & Published: 01 Oct 2026, 02:26 AM
Views: 11
Tokens: 2,628
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমি কোনো নির্ধারিত সময়ে মানত পূরনের জন্য মানত করলে ওইসময়ই এটা পূরন করতে হবে।যেমন আগামী জানুয়ারি মাসে ওমরার মানত করলাম এখন জানুয়ারি মাসেই পূরন করতে হবে।পরে করলে কোনো।অসুবিধা হবে?

Answer

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম

সংক্ষিপ্ত শরয়ী সিদ্ধান্ত:

১. নির্ধারিত সময়েই কি পূরণ করা বাধ্যতামূলক?
ফিকহে হানাফী অনুযায়ী, কোনো নির্দিষ্ট মাস বা সময়ে (যেমন: আগামী জানুয়ারি মাসে) ওমরাহ বা যেকোনো ইবাদত করার মানত (নযর) করলে, নির্দিষ্ট সেই মাসেই তা আদায় করা ফরজ বা বাধ্যতামূলক থাকে না [নূরুল ঈযাহ, পৃষ্ঠা: ১৯১; ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (৩য় খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৮৭]।

২. পরে আদায় করলে কোনো অসুবিধা হবে কি?
না, পরে আদায় করলেও কোনো অসুবিধা হবে না; আপনার মানত সম্পূর্ণরূপে আদায় হয়ে যাবে [নূরুল ঈযাহ, পৃষ্ঠা: ১৯১; ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৪শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৬৮]। এর জন্য কোনো গুনাহ হবে না এবং কোনো কাফফারাও দিতে হবে না।


বিস্তারিত ফিকহী ব্যাখ্যা:

  • সময় ও স্থান নির্ধারণের শরয়ী হুকুম (তওকীত ও তা'ঈন):
    ফিকহে হানাফীর সর্বসম্মত মূলনীতি অনুযায়ী, জিকির, সালাত, রোযা, ওমরাহ বা সাদকার মতো নফেল ইবাদতকে যখন মানতের মাধ্যমে ওয়াজিব করে নেওয়া হয়, তখন মানতকারী ব্যক্তি তার সাথে যে স্থান (যেমন: মক্কা বা নির্দিষ্ট কোনো স্থান), সময় (যেমন: জানুয়ারি মাস বা নির্দিষ্ট কোনো দিন) বা নির্দিষ্ট জিনিস যুক্ত করে, শরীআতের দৃষ্টিতে সেই সময় বা স্থান নির্ধারণের শর্তটি বাধ্যতামূলক থাকে না [নূরুল ঈযাহ, পৃষ্ঠা: ১৯১; ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (৩য় খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৮৭]।

  • মানতের মূল উদ্দেশ্য:
    মানতের মূল উদ্দেশ্য হলো উক্ত ইবাদতটি (আপনার ক্ষেত্রে 'ওমরাহ') সম্পন্ন করা। সময় নির্ধারণ কেবল মানতকারীর সুবিধার জন্য করা হয়, যা মূল ইবাদত আদায়ের আইনি শর্ত হিসেবে গণ্য হয় না [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৪শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৬৮]।

  • উত্তম নিয়ম ও পরবর্তী আদায়ের বিধান:
    যেহেতু আপনি জানুয়ারি মাসের নিয়ত করেছেন, তাই সুযোগ থাকলে জানুয়ারি মাসেই তা পূরণ করে নেওয়া উত্তম, যাতে ওয়াজিব আমল আদায়ে অনাবশ্যক বিলম্ব না হয় [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৪শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৬৮]। তবে যদি কোনো কারণে জানুয়ারি মাসে ওমরাহ পালন করা সম্ভব না হয় এবং পরবর্তীতে (যেমন: ফেব্রুয়ারি বা বছরের অন্য যেকোনো সুবিধাজনক সময়ে) ওমরাহ পালন করেন, তবে আপনার মানত সম্পূর্ণ শরয়ী নিয়মে আদায় হয়ে যাবে [নূরুল ঈযাহ, পৃষ্ঠা: ১৯১]।


সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:

১. নূরুল ঈযাহ:

  • পৃষ্ঠা: ১৯১: (অধ্যায়: কিতাবুস সাওম, মানতের বিবরণ — মানতের ক্ষেত্রে স্থান, কাল (সময়), পয়সা বা ব্যক্তি নির্ধারণ করা বাধ্যবাধকতা তৈরি করে না এবং সময়ের ব্যত্যয় ঘটিয়ে পরবর্তীতে তা আদায় করলেও মানত পূর্ণ হয়ে যাওয়ার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত) [নূরুল ঈযাহ, পৃষ্ঠা: ১৯১]।

২. ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (৩য় খণ্ড):

  • পৃষ্ঠা: ১৮৭: (অধ্যায়: কসম ও মানত, মানতের মাসায়েল — মানতে নির্দিষ্ট সময় বা স্থান নির্ধারণ করা লغو (অবাধ্যবাধক) হওয়া এবং অন্য সময় বা স্থানে আদায় করলেও মানত শুদ্ধ হওয়ার বিবরণ) [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (৩য় খন্ড), পৃষ্ঠা: ১৮৭]।

৩. ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৪শ খণ্ড):

  • পৃষ্ঠা: ৬৫ & ৬৮: (অধ্যায়: বাবুন নুযুর — নির্দিষ্ট মেয়াদে বা মাসে মানত করার পর তা পরবর্তীতে আদায় করার শরয়ী বৈধতা ও কিতাবী প্রমাণাদি) [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৪শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৬৫, ৬৮]।

আল্লাহ সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.