তাহলে ফুফার ভাগ্নেরা কত শতাংশ জমি পাবে ?

Family Life · Hanafi

Question No: 617
Questioner: SEO expert
Question Asked: 23 May 2026, 03:51 PM
Reviewed & Published: 23 May 2026, 04:19 PM
Views: 97
Tokens: 8,416
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমার ফুফু শাশুড়ীর ৩ মেয়ে | পুত্র নেই | ফুফার ৩ বোন ছাড়া আর কোনো ভাই নেই | সেই ৩ বোনের ঘরে ছেলে সন্তান আছে | বাজারের উপর ফুফার ১৫ শতাংশ জমি আছে | তাহলে তার মৃত্যুর পর কে কত টুকু জমি পাবে ? আর আমার স্বামীও তার বাবা মায়ের ১ মাত্র সন্তান | তাহলে আমাদের যদি আল্লাহ পুত্র না দিত তাহলে , যদি কেবল মেয়ে থাকতো বা নিঃসন্তান থাকতাম তাহলে আমার স্বামীর মৃত্যুর পর ওর সম্পদ কিভাবে বন্টন হতো ?

Answer

উত্তর:

আপনার প্রশ্ন দুটি অংশে বিভক্ত। প্রথম অংশে ফুফার (মৃত ব্যক্তি) সম্পদ বণ্টন এবং দ্বিতীয় অংশে আপনার স্বামীর সম্পদ বণ্টনের সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। নিম্নে প্রতিটি অংশের উত্তর কুরআন, হাদিস এবং হানাফি ফিকহের কিতাবের আলোকে উপস্থাপন করা হলো।


প্রথম অংশ: ফুফার সম্পদ বণ্টন

পরিস্থিতি:

  • মৃত ব্যক্তি (ফুফা) এর উত্তরাধিকারী:
    • স্ত্রী (আপনার ফুফু শাশুড়ী)
    • ৩ কন্যা (সন্তান)
    • ৩ বোন (ফুফার বোন)
  • মৃত ব্যক্তির পিতা-মাতা জীবিত নেই (উল্লেখ নেই), কোনো পুত্র নেই, কোনো ভাই নেই।
  • তিন বোনের পুত্র সন্তান থাকলেও তারা সরাসরি উত্তরাধিকারী নন (শুধু বোনেরাই অংশীদার হতে পারেন, তবে শর্তসাপেক্ষে)।

কুরআন ও হানাফি ফিকহের বিধান:

  1. স্ত্রীর অংশ:
    কুরআনে ইরশাদ হয়েছে:

    "তোমাদের স্ত্রীদের জন্যে তোমাদের পরিত্যক্ত সম্পত্তির এক-অষ্টমাংশ, যদি তোমাদের সন্তান থাকে..." (সূরা আন-নিসা ৪:১২)
    সুতরাং, স্ত্রী পাবেন ১/৮ (১২.৫%)

  2. কন্যার অংশ:
    তিন কন্যার জন্য কুরআনে নির্ধারিত অংশ:

    "যদি দু'এর অধিক স্ত্রী-সন্তান হয়, তবে তাদের জন্যে পরিত্যক্ত সম্পত্তির দুই-তৃতীয়াংশ।" (সূরা আন-নিসা ৪:১১)
    সুতরাং, তিন কন্যা সম্মিলিতভাবে পাবেন ২/৩ (৬৬.৬৭%), যা সমানভাবে ভাগ হবে (প্রত্যেকে ২/৯ বা ২২.২২%)।

  3. বোনের অংশ:
    কুরআনে বোনের অংশ শুধু তখনই নির্ধারিত, যখন মৃত ব্যক্তির মেয়ে সন্তান থাকবে। মৃত ব্যক্তির স্ত্রীকে অষ্টাংশ এবং তিন মেয়েকে দুই তৃতীয়াংশ দেয়ার পর অবশিষ্ট সম্পদ বোনেরা পেয়ে যাবে।

সংক্ষেপে:

  • স্ত্রী = ভাগের এক ভাগ
  • তিন কন্যা = দুই তৃতীয়াংশ
  • তিন বোন ও তাদের পুত্র = অবশিষ্ট সম্পদ

দ্বিতীয় অংশ: আপনার স্বামীর সম্পদ বণ্টন (যদি পুত্র না থাকে)

পরিস্থিতি:

  • আপনার স্বামী তার পিতা-মাতার একমাত্র সন্তান (অর্থাৎ পিতা-মাতা জীবিত)।
  • আপনি (স্ত্রী) এবং স্বামীর পিতা-মাতা উত্তরাধিকারী।
  • আপনি দুটি সম্ভাবনা উল্লেখ করেছেন:
    • কেবল কন্যা সন্তান আছে (পুত্র নেই)
    • নিঃসন্তান (কোনো সন্তান নেই)

ক. কেবল কন্যা সন্তান থাকলে (এক বা একাধিক): কন্যা সন্তান একজন হলে অর্ধেক, একাধিক হলে দুই তৃতীয়াংশ আর কোনো ওযারিছ না থাকলে অবশিষ্ট সম্পদ তারা ঘুরেফিরে পাবে।

খ. নিঃসন্তান থাকলে:

উত্তরাধিকারী: স্ত্রী, পিতা, মাতা (স্বামীর কোনো সন্তান নেই)। সন্তান না থাকলে আপনার স্বামীর অন্যান্য ওয়ারিছরা পাবে। এবং আপনিও চতুর্থাংশ পাবেন।


সারসংক্ষেপ:

| পরিস্থিতি | উত্তরাধিকারী | অংশ | মন্তব্য | |-----------|--------------|------|---------| | ফুফার সম্পদ (স্ত্রী, ৩ কন্যা, ৩ বোন) | স্ত্রী = ১/৮, ৩ কন্যা = ৭/৮ (প্রত্যেকে ৭/২৪) | বোনেরা কিছু পাবে না | কন্যা থাকায় বোন বঞ্চিত; অবশিষ্ট কন্যারাই পায় (রাদ্দ) | | স্বামীর সম্পদ (শুধু কন্যা আছে, ১ কন্যা) | স্ত্রী ১/৮, কন্যা ১/২, পিতা ৫/২৪, মাতা ১/৬ | - | পিতা ‘আসাবা হিসেবে অবশিষ্ট পান | | স্বামীর সম্পদ (একাধিক কন্যা, যেমন ৩) | ‘আওল করে স্ত্রী ৩/২৭, কন্যা ১৬/২৭, পিতা ৪/২৭, মাতা ৪/২৭ | - | নির্ধারিত অংশ বেড়ে গেলে ‘আওল প্রয়োগ | | স্বামীর সম্পদ (নিঃসন্তান) | স্ত্রী ১/৪, মাতা ১/৩, পিতা ৫/১২ | - | পিতা ‘আসাবা হিসেবে পান |

নোট: উপরের সব বণ্টন হানাফি মাজহাব অনুযায়ী করা হয়েছে। অন্যান্য মাজহাবে ভিন্নতা থাকতে পারে।


হানাফি কিতাবের রেফারেন্স:

  • রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন)
  • ফাতাওয়া উসমানী (মুফতি মুহাম্মদ তাকী উসমানী)
  • আল-হিদায়া (মারগিনানী)
  • ফাতাওয়া আলমগীরী
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (আশরাফ আলী থানবী)
  • মাআরিফুল কুরআন (মুফতি মুহাম্মদ শফী)

যদি কোনো ক্ষেত্রে আপনার বাস্তব অবস্থা ভিন্ন হয় (যেমন পিতা-মাতা জীবিত নন, অথবা অন্য কোনো আত্মীয় আছে), তবে বিস্তারিত জানালে সঠিক বণ্টন জানানো সম্ভব। আল্লাহু আলাম।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.