নামাজ বলতে গিয়ে অনেকে নামাজ টামাজ এমন বলেন চবার সিজদাহ্ টিজদাহ বলেন (আলাগফিররুল্লাহ) এমন কি বলা

Faith and Belief · Hanafi

Question No: 6167
Questioner: Tahmina Akter
Question Asked: 30 Sep 2026, 10:43 PM
Reviewed & Published: 30 Sep 2026, 11:08 PM
Views: 29
Tokens: 3,785
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

নামাজ বলতে গিয়ে অনেকে নামাজ টামাজ এমন বলেন চবার সিজদাহ্ টিজদাহ বলেন (আলাগফিররুল্লাহ) এমন কি বলা যাবে

Answer

নামাজকে "টামাজ", সিজদাকে "টিজদাহ" বলা এবং "চবার সিজদাহ" বলার বিধান

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয়েছে—নামাজ বলার সময় অনেকে "নামাজ টামাজ", "চবার সিজদাহ টিজদাহ" ইত্যাদি বিকৃত উচ্চারণে বলে থাকেন। শরীয়তের দৃষ্টিতে এমন বলা কি জায়েজ? এতে নামাজের কোনো ক্ষতি হবে কি?

বিস্তারিত উত্তর

১. মূলনীতি: ইবাদতের নাম বিকৃত করা বা ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা কুফরি

নামাজ, রোজা, সিজদা, রুকু—এগুলো ইসলামের মৌলিক ইবাদতের নাম। এগুলোর নাম নিয়ে ঠাট্টা-মশকরা করা, বিকৃত উচ্চারণে বলা বা হাসি-তামাশার উদ্দেশ্যে "টামাজ", "টিজদাহ" ইত্যাদি বলা সম্পূর্ণ নাজায়েজ ও গুরুতর গুনাহ। যদি কেউ ইবাদতকে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে বা ঠাট্টা করে এমন বলে, তাহলে তা কুফরি পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে।

আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَلَئِن سَأَلْتَهُمْ لَيَقُولُنَّ إِنَّمَا كُنَّا نَخُوضُ وَنَلْعَبُ ۚ قُلْ أَبِاللَّهِ وَآيَاتِهِ وَرَسُولِهِ كُنتُمْ تَسْتَهْزِئُونَ

"আর আপনি যদি তাদের জিজ্ঞাসা করেন, তারা অবশ্যই বলবে—'আমরা তো শুধু আলাপ-আলোচনা ও খেল-তামাশা করছিলাম।' বলুন, 'তোমরা কি আল্লাহ, তাঁর আয়াতসমূহ ও তাঁর রাসূলকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করছিলে?'"

(সূরা তাওবা: ৬৫)

لَا تَعْتَذِرُوا قَدْ كَفَرْتُم بَعْدَ إِيمَانِكُمْ

"তোমরা ওজর পেশ করো না; তোমরা তো ঈমান আনার পর কুফরি করে ফেলেছ।"

(সূরা তাওবা: ৬৬)

২. নামাজের নাম বিকৃত করা প্রসঙ্গে ফকীহগণের বক্তব্য

ইমাম ইবনে আবিদীন শামী (রহ.) রাদ্দুল মুহতার-এ উল্লেখ করেন যে, দ্বীনের কোনো মৌলিক বিষয় বা ইবাদতকে হালকাভাবে নেওয়া, ঠাট্টা করা বা অবজ্ঞা করা কুফরির অন্তর্ভুক্ত। তিনি বলেন:

"من استخف بشيء من الشرائع أو استهزأ بها كفر"

"যে ব্যক্তি শরীয়তের কোনো বিধানকে হালকা মনে করে বা ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে, সে কাফির হয়ে যায়।"

(রাদ্দুল মুহতার, কিতাবুল জিহাদ, খণ্ড ৪)

ফতোয়ায়ে আলমগিরিতে এসেছে:

"ولو قال رجل لرجل: يا كافر، أو قال: أنا كافر، كفر"

"যদি কোনো ব্যক্তি কাউকে 'হে কাফির' বলে বা নিজে বলে 'আমি কাফির', তবে সে কাফির হয়ে যায়।"

(ফতোয়ায়ে আলমগিরি, খণ্ড ২, কিতাবুল ফাতাওয়া)

৩. "চবার সিজদাহ" বলা প্রসঙ্গে

নামাজে প্রতি রাকাতে দুইটি সিজদা হয়। চার রাকাত ফরজ নামাজে মোট আটটি সিজদা হয়। কেউ যদি "চবার সিজদাহ" বলে, তবে তা ভুল ও বিকৃত। তবে এখানে লক্ষণীয় বিষয় হলো—

  • যদি কেউ অজ্ঞতাবশত বা মুখের অভ্যাসবশত ভুল উচ্চারণ করে, কিন্তু ইবাদতকে হেয় করার উদ্দেশ্য না থাকে, তবে তা গুনাহ হলেও কুফরি নয়। তবে তাওবা করা ও উচ্চারণ শুদ্ধ করা জরুরি।
  • আর যদি ঠাট্টা-বিদ্রূপ বা অবজ্ঞার উদ্দেশ্যে বলে, তবে তা কুফরি ও ঈমান বিনষ্টকারী।

৪. মুফতি তাকি উসমানি (দা.বা.)-এর বক্তব্য

মুফতি তাকি উসমানি সাহেব ফতোয়ায়ে উসমানি-তে উল্লেখ করেন যে, দ্বীনের মৌলিক বিষয় নিয়ে ঠাট্টা-মশকরা ঈমান ভঙ্গের কারণ। তিনি বলেন:

"دین کے بنیادی مسائل میں سے کسی چیز کا مذاق اڑانا یا اسے حقیر سمجھنا کفر ہے"

"দ্বীনের মৌলিক বিষয়গুলোর কোনো একটি নিয়ে মশকরা করা বা তুচ্ছ মনে করা কুফরি।"

(ফতোয়ায়ে উসমানি, খণ্ড ১, কিতাবুল ঈমান)

৫. মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.)-এর বক্তব্য

মুফতি মুহাম্মদ শফি সাহেব মাআরিফুল কুরআন-এ সূরা তাওবার ৬৫-৬৬ নম্বর আয়াতের তাফসিরে বলেন:

"منافقین نے رسول اللہ صلی اللہ علیہ وسلم اور صحابہ کرام کی آمد پر طعن و تشنیع کی، جس پر یہ آیات نازل ہوئیں کہ دین کے ساتھ استہزاء کرنا کفر ہے"

"মুনাফিকরা রাসূলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবায়ে কেরামের আগমন নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করেছিল, যার পরিপ্রেক্ষিতে এই আয়াত নাজিল হয় যে, দ্বীনের সাথে ঠাট্টা করা কুফরি।"

(মাআরিফুল কুরআন, সূরা তাওবা, আয়াত ৬৫-৬৬)

৬. হাদিসের আলোকে

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

مَنْ حَلَفَ بِاللَّاتِ وَالْعُزَّى فَلْيَقُلْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ

"যে ব্যক্তি লাত ও উযযার কসম খায়, সে যেন 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলে।"

(সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪৮৬০; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৬৪৭)

এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, কুফরির কোনো কথা মুখ থেকে বেরিয়ে গেলে সাথে সাথে কালিমা পড়ে ঈমান নবায়ন করতে হবে।

৭. সারসংক্ষেপ ও করণীয়

| বিষয় | বিধান | |------|-------| | ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে "টামাজ", "টিজদাহ" বলা | কুফরি, ঈমান বিনষ্ট | | অজ্ঞতাবশত বা অভ্যাসবশত ভুল উচ্চারণ | গুনাহ, তবে কুফরি নয়; তাওবা জরুরি | | ইবাদতের নাম বিকৃত করা | নাজায়েজ, পরিহার্য | | কেউ এমন করলে তাকে সদুপদেশ দেওয়া | কর্তব্য | | নিজে কখনো এমন বলে ফেললে | সাথে সাথে তাওবা ও কালিমা পড়া |

করণীয়:

  1. নামাজ, সিজদা, রুকু ইত্যাদি ইবাদতের নাম সর্বদা শুদ্ধভাবে উচ্চারণ করুন।
  2. কেউ ভুল উচ্চারণ করলে তাকে ভদ্রভাবে সংশোধন করুন।
  3. ঠাট্টা-মশকরা করে এমন কেউ হলে তাকে কঠোরভাবে নিষেধ করুন এবং ঈমান নবায়নের জন্য বলুন।
  4. নিজের মুখ থেকে কখনো এমন বেরিয়ে গেলে সাথে সাথে তাওবা করুন এবং "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ" পড়ে ঈমান নবায়ন করুন।

উত্তর প্রদানে: ফিকহ বিভাগ, হানাফি মাজহাব রেফারেন্স: সূরা তাওবা ৬৫-৬৬; সহিহ বুখারি ৪৮৬০; সহিহ মুসলিম ১৬৪৭; রাদ্দুল মুহতার; ফতোয়ায়ে আলমগিরি; ফতোয়ায়ে উসমানি; মাআরিফুল কুরআন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.