গর্ভপাতের বিধান: কুরআন, সুন্নাহ ও হানাফি ফিকহের আলোকে একটি বিশ্লেষণ।

Family Life · Hanafi

Question No: 6151
Questioner: nusrat azim
Question Asked: 30 Sep 2026, 01:15 PM
Reviewed & Published: 30 Sep 2026, 02:12 PM
Views: 33
Tokens: 14,168
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আপনার বক্তব্যের মূল বিষয়টি হলো—আপনি সন্তানের প্রতি অনাগ্রহী নন; বরং বর্তমান তিনটি ছোট সন্তানের হক, তারবিয়ত ও যত্ন রক্ষা করতে না পারার গভীর উদ্বেগে আছেন। সেটি স্পষ্ট রেখে নিচের মতো করে লেখা যেতে পারে।

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।

হুজুর, আমার বয়স ৩০ বছর। আলহামদুলিল্লাহ, আমার তিনটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। বড় মেয়ের বয়স ৫ বছর, মেজো মেয়ের বয়স ৩ বছর ১০ মাস এবং ছোট মেয়ের বয়স মাত্র ১৬ মাস। আলহামদুলিল্লাহ, পাঁচ বছরের মধ্যেই আমার তিনটি সন্তানের জন্ম হয়েছে এবং তিনজনেরই নরমাল ডেলিভারি হয়েছে।

আজ পরীক্ষা করে জানতে পারলাম, আমি আবার গর্ভবতী। আমার মাসিক মাত্র ৪–৫ দিন বন্ধ হয়েছে। এই খবর জানার পর থেকেই আমি ভীষণ মানসিক অস্থিরতার মধ্যে আছি। কারণ, আমি বর্তমানে শারীরিক, মানসিক এবং পারিবারিক—কোনো দিক থেকেই আরেকটি সন্তানের দায়িত্ব নেওয়ার মতো অবস্থায় নেই।

আমার ছোট মেয়েটি এখনও বুকের দুধ পান করে। সে খুবই চঞ্চল এবং সারাক্ষণ আমাকে প্রয়োজন হয়। বড় দুই সন্তানও এখনও অনেক ছোট এবং তারাও খুব চঞ্চল। আমার স্বামী জীবিকার প্রয়োজনে দিনের বেশির ভাগ সময় বাইরে থাকেন। সন্তানদের দেখাশোনা, খাওয়ানো, গোসল করানো, ঘুম পাড়ানো, অসুস্থ হলে সেবা করা, শিক্ষা, আদব-আখলাক ও তারবিয়ত—সবকিছুর দায়িত্ব একাই আমাকে পালন করতে হয়। আমার পাশে এমন কেউ নেই, যে নিয়মিতভাবে আমাকে সাহায্য করতে পারে।

হুজুর, হয়তো পৃথিবীর কোনো ভাষায় আমার ঘরের বাস্তব অবস্থা পুরোপুরি প্রকাশ করা সম্ভব নয়। কেউ যদি অন্তত একটি দিন আমার বাসায় থেকে দেখতেন, তাহলে বুঝতে পারতেন আমি প্রতিদিন কত বড় শারীরিক ও মানসিক পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। ঘরে এক মুহূর্তও নিশ্চিন্তে বসার সুযোগ হয় না। তিনটি ছোট সন্তানকে একসঙ্গে সামলাতে সামলাতে আমি মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ক্লান্ত ও ভেঙে পড়েছি।

আমার সবচেয়ে বড় কষ্ট হলো, পরপর সন্তান হওয়ার কারণে আমি আমার বড় দুই সন্তানকেও তাদের প্রাপ্য সময়, মনোযোগ ও সঠিক তারবিয়ত দিতে পারিনি। ছোট সন্তানকে সামলাতেই অধিকাংশ সময় চলে যায়। ফলে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া, মারামারি, কাড়াকাড়ি ও অস্থিরতা লেগে থাকে। আমি অনুভব করি, আমার বর্তমান তিনটি সন্তানই আমার সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের প্রাপ্য যত্ন ও তারবিয়ত থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। একজন মা হিসেবে এই কষ্ট আমাকে প্রতিনিয়ত ভেতর থেকে ভেঙে দিচ্ছে।

এই অবস্থায় যদি আরও একটি সন্তান আসে, তাহলে আমি আশঙ্কা করছি যে বর্তমান তিনটি সন্তানের হক আরও বেশি নষ্ট হবে। আমি কোনো সন্তানের প্রতি অবিচার করতে চাই না। বরং আমার ভয় হচ্ছে, আমার সামর্থ্যের বাইরে দায়িত্ব বেড়ে গেলে চারজন সন্তানেরই যথাযথ হক আদায় করতে ব্যর্থ হব। এই আশঙ্কাই আমাকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিচ্ছে।

তাই আমার প্রশ্ন হলো, ইসলামের দৃষ্টিতে এমন পরিস্থিতিতে—যেখানে গর্ভধারণের একেবারে প্রাথমিক পর্যায়, আমি শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি, আমার ১৬ মাসের শিশু এখনও বুকের দুধ পান করে এবং বর্তমান তিনটি ছোট সন্তানের যথাযথ লালন-পালন ও তারবিয়তই আমার জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে—এ অবস্থায় গর্ভপাতের ব্যাপারে শরিয়তের বিধান কী? এমন বাস্তব অবস্থাকে শরিয়ত কীভাবে মূল্যায়ন করে? কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে দয়া করে সঠিক মাসআলাটি জানিয়ে উপকৃত করবেন।

জাযাকুমুল্লাহু খাইরান।

Answer

গর্ভপাতের বিধান: কুরআন, সুন্নাহ ও হানাফি ফিকহের আলোকে একটি বিশ্লেষণ


ভূমিকা

বোন, আপনার পত্রটি পড়ে আমরা গভীরভাবে সহানুভূতিশীল। আপনি যে শারীরিক, মানসিক ও পারিবারিক পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়েছেন, তা নিঃসন্দেহে অত্যন্ত কঠিন। ইসলাম আপনার এই কষ্টকে অস্বীকার করে না; বরং ইসলাম মায়ের মর্যাদা, সন্তানের হক এবং পারিবারিক দায়িত্বের ভারসাম্যকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। তবে গর্ভপাতের মাসআলা অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও গুরুত্বপূর্ণ। নিচে কুরআন, সুন্নাহ ও হানাফি ফিকহের মূল দলিলগুলোর আলোকে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।


১. ইসলামে জীবন রক্ষার মূলনীতি

আল্লাহ তা'আলা কুরআনে বলেন:

وَلَا تَقْتُلُوا النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالْحَقِّ "আর যে প্রাণকে আল্লাহ হারাম করেছেন, তা হত্যা করো না—তবে ন্যায়সঙ্গত কারণে।" — (সূরা আল-আনআম: ১৫১; সূরা আল-ইসরা: ৩৩)

وَلَا تَقْتُلُوا أَوْلَادَكُمْ خَشْيَةَ إِمْلَاقٍ ۖ نَحْنُ نَرْزُقُهُمْ وَإِيَّاكُمْ "আর তোমরা দারিদ্র্যের ভয়ে তোমাদের সন্তানদের হত্যা করো না; আমরাই তাদের রিযিক দিই এবং তোমাদেরও।" — (সূরা আল-ইসরা: ৩১)

وَلَا تَقْتُلُوا أَوْلَادَكُمْ مِنْ إِمْلَاقٍ ۖ نَحْنُ نَرْزُقُكُمْ وَإِيَّاهُمْ "আর তোমরা তোমাদের সন্তানদের হত্যা করো না দারিদ্র্যের কারণে; আমরাই তোমাদের এবং তাদের রিযিক দিই।" — (সূরা আল-আনআম: ১৫১)

এই আয়াতগুলো স্পষ্ট করে যে, সন্তানের জীবন আল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া আমানত। ভয় বা দুশ্চিন্তার কারণে সন্তান হত্যা করা ইসলামে নিষিদ্ধ।


২. গর্ভপাতের হুকুম: হানাফি ফিকহের অবস্থান

হানাফি মাযহাবের ফুকাহায়ে কেরাম গর্ভপাতকে নিষিদ্ধ (হারাম) বলেছেন, তবে কিছু নির্দিষ্ট শর্তে প্রাথমিক পর্যায়ে অনুমতির কথা উল্লেখ করেছেন। বিস্তারিত নিচে:

(ক) ১২০ দিনের আগে (রূহ ফুঁকানোর আগে)

হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, গর্ভের প্রথম ১২০ দিন পর্যন্ত ভ্রূণকে "মুদগা" (মাংসপিণ্ড) ও "আলাকা" (জমাট রক্ত) বলা হয়; এই সময়ে রূহ ফুঁকানো হয় না। হাদিসে এসেছে:

إِنَّ أَحَدَكُمْ يُجْمَعُ خَلْقُهُ فِي بَطْنِ أُمِّهِ أَرْبَعِينَ يَوْمًا نُطْفَةً، ثُمَّ يَكُونُ عَلَقَةً مِثْلَ ذَلِكَ، ثُمَّ يَكُونُ مُضْغَةً مِثْلَ ذَلِكَ، ثُمَّ يُرْسَلُ إِلَيْهِ الْمَلَكُ فَيَنْفُخُ فِيهِ الرُّوحَ "নিশ্চয়ই তোমাদের প্রত্যেককে তার মায়ের গর্ভে চল্লিশ দিন নুতফা (শুক্রবিন্দু) হিসেবে জমা রাখা হয়, তারপর অনুরূপ চল্লিশ দিন আলাকা (জমাট রক্ত) হিসেবে, তারপর অনুরূপ চল্লিশ দিন মুদগা (মাংসপিণ্ড) হিসেবে। এরপর ফেরেশতা পাঠানো হয় এবং তাতে রূহ ফুঁকে দেওয়া হয়।" — (সহিহ বুখারি: ৩২০৮; সহিহ মুসলিম: ২৬৪৩)

হানাফি ফুকাহার মত:

  • ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) "রাদ্দুল মুহতার" গ্রন্থে বলেন: ১২০ দিনের আগে গর্ভপাত করা জায়েয নয়; তবে যদি কোনো প্রকৃত শরয়ি ওজর (যেমন: মায়ের জীবননাশের আশঙ্কা, বা দুধপানকারী শিশুর জীবননাশের আশঙ্কা) থাকে, তাহলে অনুমতি আছে। (রাদ্দুল মুহতার: ৩/১৭৬)

  • ফতোয়ায়ে আলমগিরি-তে উল্লেখ আছে: "যদি গর্ভের কারণে মায়ের প্রাণনাশের আশঙ্কা হয়, তাহলে ১২০ দিনের আগে ঔষধ প্রয়োগ করে গর্ভপাত করা জায়েয।" (ফতোয়ায়ে আলমগিরি: ৫/৩৫৪)

  • মুফতি তাকি উসমানি (দা.বা.) "ফতোয়ায়ে উসমানি" গ্রন্থে বলেন: "বর্তমানে অনেক ডাক্তার ১২০ দিনের আগে গর্ভপাতকে জায়েয বলেন, কিন্তু হানাফি মাযহাবের মুফতি-মুহাক্কিকদের সিদ্ধান্ত হলো—শুধু প্রকৃত ওজর ছাড়া গর্ভপাত জায়েয নয়।" (ফতোয়ায়ে উসমানি: ২/৩৩৬)

(খ) ১২০ দিনের পরে (রূহ ফুঁকানোর পরে)

রূহ ফুঁকানোর পরে গর্ভপাত করা সম্পূর্ণ হারাম। কারণ তখন এটি একটি জীবিত প্রাণ হত্যার সমান। ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) বলেন: "রূহ ফুঁকানোর পরে গর্ভপাত করা হত্যার সমান, যা কখনো জায়েয নয়—যদিও মায়ের জীবননাশের আশঙ্কা থাকে, তবুও সরাসরি গর্ভপাত করা যাবে না; বরং চিকিৎসার মাধ্যমে মায়ের জীবন রক্ষার চেষ্টা করতে হবে।" (রাদ্দুল মুহতার: ৩/১৭৬)


৩. আপনার পরিস্থিতির মূল্যায়ন

আপনার বর্ণনা অনুযায়ী:

  1. গর্ভধারণের প্রাথমিক পর্যায় — মাসিক মাত্র ৪–৫ দিন বন্ধ হয়েছে, অর্থাৎ সম্ভবত ১২০ দিনের অনেক আগে।
  2. শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি — আপনি ভেঙে পড়েছেন।
  3. ১৬ মাসের শিশু এখনও বুকের দুধ পান করে — এই শিশুর যত্ন ও দুধের হক আপনার উপর।
  4. তিনটি ছোট সন্তানের তারবিয়ত ও হক — আপনি আশঙ্কা করছেন আরও সন্তান এলে তাদের হক নষ্ট হবে।
  5. স্বামী দিনের বেশিরভাগ সময় বাইরে — আপনার পাশে নিয়মিত সাহায্যকারী নেই।

হানাফি ফিকহের দৃষ্টিতে:

প্রশ্ন: আপনার এই অবস্থা কি "প্রকৃত শরয়ি ওজর" হিসেবে গণ্য হবে?

উত্তর: হানাফি ফুকাহার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শুধু কষ্ট, ক্লান্তি বা সন্তানের তারবিয়তের আশঙ্কা গর্ভপাতের জন্য যথেষ্ট ওজর নয়। কারণ:

  • ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) স্পষ্ট বলেন: "গর্ভপাতের অনুমতি শুধু তখনই, যখন মায়ের জীবননাশের প্রকৃত ও নিশ্চিত আশঙ্কা থাকে, অথবা দুধপানকারী শিশুর জীবননাশের প্রকৃত আশঙ্কা থাকে—যেমন: মায়ের দুধ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং শিশুর জন্য অন্য কোনো দুধ বা খাবার না থাকা।" (রাদ্দুল মুহতার: ৩/১৭৬)

  • মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.) "মাআরিফুল কুরআন"-এ বলেন: "সন্তানের সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণে বা তারবিয়তের কষ্টের কারণে গর্ভপাত করা জায়েয নয়; এটি আল্লাহর রিযিক ও হিকমতের উপর অবিশ্বাসের নামান্তর।" (মাআরিফুল কুরআন: ৫/৪৩০)

  • আশরাফ আলী থানভি (রহ.) "বেহেশতি জেওর"-এ বলেন: "বিনা ওজরে গর্ভপাত করা কবিরা গুনাহ।" (বেহেশতি জেওর: ১/৩০২)

তবে, একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—যদি আপনার শারীরিক অবস্থা এমন হয় যে গর্ভধারণ আপনার জীবননাশের কারণ হতে পারে (যেমন: ডাক্তারি পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়), অথবা ১৬ মাসের শিশুর দুধ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার নিশ্চিত আশঙ্কা থাকে এবং তার জন্য অন্য কোনো বিকল্প না থাকে, তাহলে হানাফি ফিকহ অনুযায়ী ১২০ দিনের আগে গর্ভপাতের অনুমতি হতে পারে। কিন্তু এটি শুধু নিশ্চিত ওজরের ভিত্তিতে, শুধু কষ্ট বা আশঙ্কার ভিত্তিতে নয়।


৪. আপনার করণীয়: শরিয়তের দৃষ্টিতে সমাধান

(ক) আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল ও দুআ

আল্লাহ তা'আলা বলেন:

وَمَنْ يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ ۚ إِنَّ اللَّهَ بَالِغُ أَمْرِهِ ۚ قَدْ جَعَلَ اللَّهُ لِكُلِّ شَيْءٍ قَدْرًا "আর যে আল্লাহর উপর ভরসা করে, তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। নিশ্চয়ই আল্লাহ তার কাজ পূর্ণ করবেন। আল্লাহ প্রত্যেক বস্তুর জন্য একটি পরিমাণ নির্ধারণ করেছেন।" — (সূরা আত-তালাক: ৩)

لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا "আল্লাহ কারো উপর তার সামর্থ্যের বাইরে বোঝা চাপান না।" — (সূরা আল-বাকারা: ২৮৬)

আপনি দুআ করুন: "হে আল্লাহ, আমার সন্তানদের হক আদায় করার তাওফিক দিন, আমার কষ্ট দূর করুন, এবং আমার জন্য যা কল্যাণকর তা-ই দিন।"

(খ) ব্যবহারিক পদক্ষেপ

  1. স্বামীর সাথে পরামর্শ করুন — আপনার কষ্টের কথা খোলাখুলি জানান। তিনি হয়তো সাহায্যের ব্যবস্থা করতে পারেন (যেমন: গৃহকর্মে সহায়িকা, আত্মীয়ের সহযোগিতা)।
  2. আত্মীয়-স্বজনের সহায়তা নিন — মা, বোন, শাশুড়ি বা নিকট আত্মীয়ের কাছ থেকে নিয়মিত সাহায্য চান।
  3. ডাক্তারি পরামর্শ নিন — যদি শারীরিক দুর্বলতা বা স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকে, তবে অভিজ্ঞ মুসলিম ডাক্তারের পরামর্শ নিন। যদি ডাক্তার নিশ্চিত করেন যে গর্ভধারণ আপনার জীবনের জন্য বিপজ্জনক, তাহলে মুফতির সাথে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নিন।
  4. মানসিক সহায়তা নিন — আপনার মানসিক ক্লান্তি ও হতাশা স্বাভাবিক। একজন বিশ্বস্ত আলেমা বা পরামর্শদাতার সাথে কথা বলুন।
  5. সন্তানদের তারবিয়তে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করুন — সবকিছু একসাথে নিখুঁতভাবে করার চেষ্টা করবেন না; বরং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে মনোযোগ দিন।

(গ) দুধপান প্রসঙ্গে

ইসলামে শিশুকে দুধপান করানো মায়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। আল্লাহ বলেন:

وَالْوَالِدَاتُ يُرْضِعْنَ أَوْلَادَهُنَّ حَوْلَيْنِ كَامِلَيْنِ ۖ لِمَنْ أَرَادَ أَنْ يُتِمَّ الرَّضَاعَةَ "আর মায়েরা তাদের সন্তানদের দুই বছর পূর্ণ দুধপান করাবে, যে ব্যক্তি দুধপান পূর্ণ করতে চায়।" — (সূরা আল-বাকারা: ২৩৩)

তবে গর্ভধারণের কারণে যদি দুধ কমে যায় বা বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে ইসলামে বিকল্প দুধ (দুধের পাউডার বা অন্য মায়ের দুধ) ব্যবহারের অনুমতি আছে। এটি গর্ভপাতের ওজর নয়, বরং বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়।


৫. চূড়ান্ত মাসআলা

হানাফি মাযহাবের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী:

| বিষয় | হুকুম | |------|-------| | শুধু কষ্ট, ক্লান্তি বা তারবিয়তের আশঙ্কার কারণে গর্ভপাত | জায়েয নয় (হারাম) | | মায়ের জীবনের নিশ্চিত আশঙ্কা (ডাক্তারি প্রমাণসহ) | ১২০ দিনের আগে জায়েয (মুফতির পরামর্শে) | | দুধপানকারী শিশুর জীবনের নিশ্চিত আশঙ্কা (দুধ সম্পূর্ণ বন্ধ, বিকল্প নেই) | ১২০ দিনের আগে জায়েয (মুফতির পরামর্শে) | | ১২০ দিনের পরে গর্ভপাত | সম্পূর্ণ হারাম (কোনো অবস্থাতেই জায়েয নয়) |

আপনার ক্ষেত্রে: আপনার বর্ণনা অনুযায়ী, এটি শুধু কষ্ট ও আশঙ্কার বিষয়—যা হানাফি ফিকহে গর্ভপাতের বৈধ ওজর হিসেবে গণ্য নয়। তাই গর্ভপাত করা আপনার জন্য জায়েয নয়। বরং আল্লাহর উপর ভরসা করুন, সাহায্যের ব্যবস্থা করুন, এবং সন্তানের হক আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যান। আল্লাহ আপনার কষ্ট জানেন এবং তিনি আপনার জন্য সহজ করে দেবেন।


দুআ

اللَّهُمَّ أَعِنِّي عَلَى ذِكْرِكَ وَشُكْرِكَ وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ "হে আল্লাহ, তোমার যিকির, শোকর ও সুন্দর ইবাদতের ব্যাপারে আমাকে সাহায্য কর।" — (সুনানে আবু দাউদ: ১৫২২)

رَبِّ هَبْ لِي مِنْ لَدُنْكَ ذُرِّيَّةً طَيِّبَةً ۖ إِنَّكَ سَمِيعُ الدُّعَاءِ "হে আমার রব, তোমার পক্ষ থেকে আমাকে পবিত্র সন্তান দান কর। নিশ্চয়ই তুমি দুআ শ্রবণকারী।" — (সূরা আলে ইমরান: ৩৮)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.