প্রফাইল পিকচারের নিচের বায়ুতে কালিমা লিখা কি উচিত?
Halal and Haram · Hanafi
Question
Answer
উত্তর:
ফেসবুকে প্রোফাইল পিকচারের নিচের বায়ুতে (অর্থাৎ প্রোফাইলের নিচের অংশে বা কভার ফটোর ওপরে) কালিমা লিখা কোনো অবস্থায়ই উচিত নয়, এমনকি প্রোফাইল পিকচার যদি প্রকৃতির (যেমন পাহাড়, নদী, গাছপালা) কোনো ছবি হয়, তবুও তা উচিত মনে হচ্ছে না।
কারণ:
-
কালিমার সম্মান রক্ষা আবশ্যক: কালিমা (لا إله إلا الله محمد رسول الله) অত্যন্ত পবিত্র কালাম। এটি এমন স্থানে রাখা জায়েয নয় যেখানে অসম্মানের সম্ভাবনা থাকে। ফেসবুকের প্রোফাইল পিকচারের নিচে বা স্ট্যাটাসে এটি লিখলে প্রোফাইলের সাথে অশালীন ছবি, নোংরা কন্টেন্ট বা অন্য কোনো অসম্মানজনক উপাদান যোগ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এমনকি যদি পিকচারটি প্রকৃতির হয়, তবুও অন্যদের প্রোফাইলে এটি অসম্মানের শিকার হতে পারে (যেমন অশালীন পোস্টের সাথে যুক্ত থাকা)।
-
হাদিসের নির্দেশনা: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
"لا تجعلوا بيوتكم مقابر، ولا تجعلوا قبري عيداً، وصلوا علي فإن صلاتكم تبلغني حيث كنتم"
(سنن أبي داود، حديث: 2042)
অর্থাৎ, "তোমাদের ঘরগুলোকো কবরস্থানে পরিণত করো না, আর আমার কবরকে উৎসবস্থলে পরিণত করো না।"
এই হাদিসে পবিত্র বিষয়কে অসম্মানজনক স্থানে রাখা নিষেধ করা হয়েছে। -
ফিকহি নীতি: ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ও ফকিহগণ বলেন, পবিত্র বস্তু (যেমন কালিমা, কুরআনের আয়াত) এমন স্থানে লেখা নাজায়েয যেখানে সেগুলো অপবিত্র হওয়ার বা অপমানিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। (রদ্দুল মুহতার, ১/৪১২; ফাতাওয়া শামী, ১/৪১২)
-
ফেসবুকের প্রসঙ্গ: ফেসবুক একটি উন্মুক্ত মাধ্যম যেখানে অমুসলিম বা অশ্লীল কন্টেন্ট থাকা সাধারণ বিষয়। প্রোফাইল পিকচারের নিচে বায়ুতে কালিমা থাকলে তা অনেক সময় অশালীন ছবি বা অপবিত্র কন্টেন্টের সাথে প্রদর্শিত হতে পারে। এটি কালিমার প্রতি অসম্মান।
হানাফি কিতাবের উদ্ধৃতি:
- ফাতাওয়া উসমানী (১/৪২২): "কালিমা বা কুরআনের আয়াত এমন স্থানে রাখা নাজায়েয যেখানে অপবিত্রতা বা অসম্মানের সম্ভাবনা থাকে।"
- ইমদাদুল ফাতাওয়া (২/১৫৫): "ডিজিটাল মাধ্যমেও পবিত্র কালামের সম্মান রক্ষা করা ওয়াজিব। তাই প্রোফাইল বা স্ট্যাটাসে কালিমা ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা উচিত, যদি না তা নিরাপদ স্থানে হয়।"
- আল-হেদায়া (শরহুর বি’দায়া): "পবিত্র বস্তুকে অপবিত্র স্থানে রাখা হারাম।"
সারসংক্ষেপ:
ফেসবুকের প্রোফাইল পিকচারের নিচের বায়ুতে কালিমা লেখা উচিত নয়, কারণ এটি কালিমার সম্মানের পরিপন্থী। বরং কালিমা লেখার পরিবর্তে অন্যান্য ইসলামিক শব্দ (যেমন "আলহামদুলিল্লাহ" বা "সুবহানাল্লাহ") ব্যবহার করা যেতে পারে, যা পবিত্রতার কম গুরুত্ব রাখে। তবে সবচেয়ে উত্তম হলো, কালিমা সরাসরি ব্যবহার না করে মনে-প্রাণে তা ধারণ করা এবং আমল করা।
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে কুরআন ও সুন্নাহর পূর্ণ অনুসরণ করার তাওফিক দান করুন।