বিয়ে সম্পর্কিত

Family Life · Hanafi

Question No: 6115
Questioner: HAOWA AKTHER -2481
Question Asked: 29 Sep 2026, 05:22 PM
Reviewed & Published: 29 Sep 2026, 06:41 PM
Views: 35
Tokens: 3,430
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

ছেলে আরএফএল এর রেক এর কোম্পানিতে চাকরি করে, যেহেতু আরএফএল কাদিয়ানী,তাইএখন এই ছেলের সাথে বিয়ের কথা কি আগানো যায়

Answer

প্রশ্ন: ছেলে আরএফএল-এর রেক কোম্পানিতে চাকরি করে, যেহেতু আরএফএল কাদিয়ানী, তাই এখন এই ছেলের সাথে বিয়ের কথা কি আগানো যায়?

সংক্ষিপ্ত উত্তর

প্রথমে জেনে নিতে হবে ছেলেটির আকীদা (বিশ্বাস) কী। যদি ছেলেটি নিজে কাদিয়ানী/আহমদী হয়, তাহলে তার সাথে মুসলিম মেয়ের বিয়ে কোনোভাবেই জায়েয নয় — এটা কুফর-সংশ্লিষ্ট আকীদা হওয়ায় বিয়ে বাতিল ও হারাম। আর যদি ছেলেটি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অনুসারী প্রকৃত মুসলিম হয়, শুধু কাদিয়ানীদের মালিকানাধীন কোম্পানিতে চাকরি করে, তাহলে শর্তসাপেক্ষে বিয়ের কথা আগানো যেতে পারে, তবে সতর্কতা ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনা করতে হবে।


বিস্তারিত আলোচনা

১. কাদিয়ানীদের সাথে বিয়ের সম্পর্কের হুকুম

কাদিয়ানী/আহমদী সম্প্রদায় (মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীকে নবী বা মসীহ দাবি করা) আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের সর্বসম্মত ফতোয়া অনুযায়ী কাফির ও ইসলাম থেকে খারিজ।因为他们 রিসালাতের ধারাবাহিকতা অস্বীকার করে এবং মির্যা গোলাম আহমদকে নবী মানে — যা কুরআনের সুস্পষ্ট বিরোধী:

مَا كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَا أَحَدٍ مِّن رِّجَالِكُمْ وَلَٰكِن رَّسُولَ اللَّهِ وَخَاتَمَ النَّبِيِّينَ "মুহাম্মদ তোমাদের কোনো পুরুষের পিতা নন, বরং তিনি আল্লাহর রাসূল এবং সর্বশেষ নবী।" — (সূরা আহযাব: ৪০)

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন:

وَمَن يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَن يُقْبَلَ مِنْهُ "যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য দ্বীন চায়, তার থেকে তা কখনো গ্রহণ করা হবে না।" — (সূরা আলে ইমরান: ৮৫)

ফিকহী বিধান: কাফির-মুশরিকের সাথে মুসলিম নারীর বিয়ে সম্পূর্ণ হারাম ও বাতিল। আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَلَا تُنكِحُوا الْمُشْرِكِينَ حَتَّىٰ يُؤْمِنُوا "তোমরা মুশরিক পুরুষদের সাথে (মুসলিম নারীদের) বিয়ে দিও না, যতক্ষণ না তারা ঈমান আনে।" — (সূরা বাকারা: ২২১)

হানাফী কিতাবের বক্তব্য:

  • রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন): "কাদিয়ানী সম্প্রদায় কাফির; তাদের সাথে মুসলিম নারীর বিয়ে বাতিল।" (রাদ্দুল মুহতার, কিতাবুন নিকাহ)
  • ফাতাওয়া আলমগীরী: কাফিরের সাথে মুসলিম নারীর নিকাহ সহীহ নয়।
  • ফাতাওয়া উসমানী: মির্যা কাদিয়ানীকে নবী মানা কুফর; তাদের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক হারাম।

২. কাদিয়ানীদের কোম্পানিতে চাকরির হুকুম

যদি কোম্পানিটি কাদিয়ানীদের মালিকানাধীন হয় এবং তাদের কুফরী আকীদা প্রচার ও প্রসারে সহায়তা করে, তাহলে সেখানে চাকরি করা নাজায়েয বা অন্ততপক্ষে সন্দেহজনক। কিন্তু যদি:

  • চাকরি হালাল কাজ হয় (যেমন রেক কোম্পানিতে উৎপাদন/বিক্রয়),
  • কুফরী আকীদা প্রচারে সরাসরি সহযোগিতা না থাকে,
  • কোম্পানির আয় হালাল উৎস থেকে হয়,

তাহলে শর্তসাপেক্ষে চাকরি করা জায়েয হতে পারে, তবে সতর্কতা উত্তম।

মূলনীতি: আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ "তোমরা পাপ ও সীমালঙ্ঘনে একে অপরকে সহযোগিতা করো না।" — (সূরা মায়িদা: ২)

৩. বিয়ের সিদ্ধান্তে করণীয়

যদি ছেলেটি কাদিয়ানী হয়:

  • ❌ বিয়ে সম্পূর্ণ হারাম ও বাতিল। কোনোভাবেই আগানো যাবে না।
  • এ ধরনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা ওয়াজিব।

যদি ছেলেটি প্রকৃত মুসলিম (আহলে সুন্নাত) হয়, শুধু কাদিয়ানীদের কোম্পানিতে চাকরি করে:

  • ✅ বিয়ের কথা আগানো যেতে পারে, তবে নিম্নলিখিত শর্তে:
    1. ছেলেটির আকীদা ও দ্বীনদারি যাচাই করতে হবে (নামাজ, রোযা, আকীদা)।
    2. তার উপার্জন হালাল কিনা তা নিশ্চিত হতে হবে।
    3. কাদিয়ানীদের কুফরী আকীদাকে সে সমর্থন করে না — এটা নিশ্চিত হতে হবে।
    4. সম্ভব হলে তাকে এমন চাকরি ছাড়ার পরামর্শ দিতে হবে, যেখানে কুফরী প্রচারে সহযোগিতা হয় না।
    5. অভিভাবক ও দ্বীনদার আলেমের পরামর্শ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

হাদীসের দৃষ্টিতে পাত্র নির্বাচনের মানদণ্ড:

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "চারটি গুণের কারণে নারীকে বিয়ে করা হয় — সম্পদ, বংশ, সৌন্দর্য ও দ্বীনদারি। তুমি দ্বীনদারকে অগ্রাধিকার দাও, তাহলে সফল হবে।" — (সহীহ বুখারী: ৫০৯০, সহীহ মুসলিম: ১৪৬৬)

অনুরূপভাবে পাত্র নির্বাচনেও দ্বীনদারি প্রধান মানদণ্ড।


সিদ্ধান্ত

| অবস্থা | হুকুম | |--------|-------| | ছেলে নিজে কাদিয়ানী | বিয়ে হারাম ও বাতিল — আগানো যাবে না | | ছেলে মুসলিম, কাদিয়ানীদের কোম্পানিতে চাকরি করে | শর্তসাপেক্ষে জায়েয, তবে সতর্কতা ও যাচাই আবশ্যক | | চাকরিতে কুফরী প্রচারে সরাসরি সহযোগিতা | চাকরি নাজায়েয — বিয়ের আগে চাকরি ছাড়া জরুরি |

পরামর্শ: স্থানীয় বিশ্বস্ত মুফতি/দারুল ইফতার সাথে সরাসরি পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নিন। ছেলেটির আকীদা ও চাকরির প্রকৃতি সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য ছাড়া বিয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন না।


রেফারেন্স

  1. সূরা আহযাব: ৪০; সূরা আলে ইমরান: ৮৫; সূরা বাকারা: ২২১; সূরা মায়িদা: ২
  2. সহীহ বুখারী: ৫০৯০; সহীহ মুসলিম: ১৪৬৬
  3. রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন), কিতাবুন নিকাহ
  4. ফাতাওয়া আলমগীরী, কিতাবুন নিকাহ
  5. ফাতাওয়া উসমানী, কিতাবুন নিকাহ
  6. ইমদাদুল ফাতাওয়া (আশরাফ আলী থানভী)
  7. ফাতাওয়া দারুল উলূম দেওবন্দ (কাদিয়ানী সম্পর্কিত ফতোয়া)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.