সালাতে খিমার পরার পর হালকা থুতনি নিচ অংশ দেখা গেলে নামায হবে না?
Salah-Prayer · Hanafi
Question
Answer
সালাতে খিমার পরার পর হালকা থুতনির নিচ অংশ দেখা গেলে নামায হবে কি?
প্রশ্নের সারসংক্ষেপ
মহিলাদের নামাযে সতর ঢাকার বিধান হলো—পুরো শরীর ঢাকা ফরজ, শুধু মুখমণ্ডল, হাতের কব্জি পর্যন্ত এবং পায়ের পাতা খোলা রাখা জায়েয। প্রশ্ন হলো, খিমার (মাথার ওড়না) পরার পর যদি থুতনির নিচের সামান্য অংশ খোলা থাকে বা দেখা যায়, তাহলে নামায হবে কি না?
ফিকহি বিশ্লেষণ
মহিলাদের সতরের সীমা
হানাফি মাযহাব অনুযায়ী, মহিলার সতর হলো—সমগ্র শরীর, কেবল মুখমণ্ডল, দুই হাতের কব্জি পর্যন্ত এবং দুই পায়ের পাতা ব্যতীত।
আল-হিদায়া ও রাদ্দুল মুহতার-এ উল্লেখ আছে: "المرأة كلها عورة إلا وجهها وكفيها وقدميها" — অর্থাৎ মহিলার সমগ্র দেহই সতর, মুখমণ্ডল, দুই হাতের কব্জি এবং দুই পা ছাড়া।
থুতনির নিচের অংশ কি সতরের অন্তর্ভুক্ত?
হ্যাঁ। থুতনির নিচের অংশ (গলার নিচের দিক) মহিলার সতরের অন্তর্ভুক্ত। মুখমণ্ডল বলতে কেবল চেহারার সামনের অংশ বোঝায়—কপাল, ভুরু, চোখ, নাক, গাল, ঠোঁট ও থুতনি পর্যন্ত। থুতনির নিচের অংশ মুখমণ্ডলের অন্তর্ভুক্ত নয়; বরং তা সতরের অংশ।
নামাযে সতর ঢাকার হুকুম
নামাযের শর্তসমূহের মধ্যে একটি হলো—সতর ঢাকা। যদি সতরের এক-চতুর্থাংশ পরিমাণ অংশ (যা দিয়ে নামায আদায় করা যায়) নামাযের মধ্যে অনাবৃত থাকে এবং তা এক রুকন পরিমাণ সময় (অর্থাৎ "সুবহানাল্লাহ" বলার সময়) ধরে থাকে, তাহলে নামায ফাসিদ (বাতিল) হয়ে যাবে।
রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন শামী) — "لو انكشف ربع العضو الذي لا تتم الصلاة إلا بستره مقدار أداء ركن فسدت"
তবে সামান্য অংশ (যেমন এক-চতুর্থাংশের কম) যদি অনাবৃত থাকে, তাহলে নামায বাতিল হবে না, তবে তা মাকরূহ হবে এবং সত্বর ঢেকে নেওয়া ওয়াজিব।
খিমার পরার পর থুতনির নিচের অংশ দেখা যাওয়ার বিধান
এখানে দুটি দিক বিবেচ্য:
১. যদি স্থায়ীভাবে খোলা থাকে: খিমার পরার পরও যদি থুতনির নিচের অংশ স্থায়ীভাবে খোলা থাকে এবং তা এক-চতুর্থাংশ পরিমাণ বা তার বেশি হয়, তাহলে নামায বাতিল হবে। কারণ সতর ঢাকা ফরজ, আর তা পূর্ণ হয়নি।
২. যদি সামান্য অংশ দেখা যায়: যদি খুব সামান্য অংশ (এক-চতুর্থাংশের কম) দেখা যায়, যেমন খিমার ঠিকভাবে বসেনি বা নড়াচড়ার কারণে সামান্য খুলে গেছে—তাহলে নামায বাতিল হবে না, তবে মাকরূহ হবে। নামায শেষে বা নামাযের মধ্যেই তা ঢেকে নেওয়া উচিত।
৩. যদি নামাযের মধ্যে খুলে যায়: নামাযের মধ্যে যদি সতরের কোনো অংশ খুলে যায় এবং তা এক রুকন পরিমাণ সময় ধরে অনাবৃত থাকে, তাহলে নামায বাতিল হবে। আর যদি সাথে সাথে ঢেকে নেওয়া হয়, তাহলে বাতিল হবে না।
সতর্কতামূলক পরামর্শ
১. নামাযের আগে ভালোভাবে খিমার ঠিক করে নিন — যাতে থুতনির নিচের অংশ, গলা, কান, চুলের কোনো অংশ না দেখা যায়।
২. বড় চাদর বা বোরকা ব্যবহার করুন — যা পুরো শরীর ঢেকে রাখে।
৩. নামাযের মধ্যে বারবার খিমার ঠিক করা — যদি সামান্য খুলে যায়, তবে হাত না নেড়ে শরীরের নড়াচড়ার মাধ্যমে বা নামায শেষে ঠিক করুন। তবে বেশি নড়াচড়া করলে নামায মাকরূহ হবে।
৪. সন্দেহ হলে সতর্কতা অবলম্বন করুন — নামায শেষে সিজদায়ে সাহু বা নামায পুনরায় পড়া উত্তম।
সারসংক্ষেপ
| অবস্থা | হুকুম | |--------|-------| | থুতনির নিচের অংশ স্থায়ীভাবে খোলা (১/৪ বা বেশি) | নামায বাতিল | | সামান্য অংশ (১/৪ এর কম) খোলা | নামায হবে, তবে মাকরূহ | | নামাযের মধ্যে খুলে গিয়ে সাথে সাথে ঢাকা | নামায হবে | | নামাযের মধ্যে এক রুকন পরিমাণ খোলা থাকা | নামায বাতিল |
উত্তর: খিমার পরার পর যদি থুতনির নিচের অংশ স্থায়ীভাবে খোলা থাকে এবং তা এক-চতুর্থাংশ বা তার বেশি হয়, তাহলে নামায হবে না। আর যদি সামান্য অংশ দেখা যায় (এক-চতুর্থাংশের কম), তাহলে নামায হবে, তবে মাকরূহ হবে এবং তা ঢেকে নেওয়া জরুরি। তাই নামাযের আগে ভালোভাবে খিমার ঠিক করে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
আল্লাহ সর্বজ্ঞ।