উত্তেজনা বেগে বালিশ বা তোষকের সাথে লজ্জস্থান ঘষাঘষি করা কি জায়েজ?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 6082
Questioner: Tahia Tabassom toly
Question Asked: 28 Sep 2026, 05:11 PM
Reviewed & Published: 28 Sep 2026, 05:32 PM
Views: 11
Tokens: 3,754
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমার পরিচিত এক বোন উত্তেজনা উঠলে বালিশ বা তোষকের সাথে লজ্জস্থান ঘষাঘষি করে , এটা কি জায়েজ

Answer

উত্তেজনা বেগে বালিশ/তোষকের সাথে লজ্জস্থান ঘষাঘষি করার হুকুম

প্রশ্ন: আমার পরিচিত এক বোনের উত্তেজনা (শহওয়াত) উঠলে সে বালিশ বা তোষকের সাথে লজ্জস্থান ঘষাঘষি করে — এটা কি জায়েজ?

সংক্ষিপ্ত উত্তর: না, এভাবে বালিশ বা তোষকের সাথে লজ্জস্থান ঘষাঘষি করা জায়েজ নয়; বরং তা নিষিদ্ধ ও গুনাহের কাজ। এতে কিছু ক্ষেত্রে গোসল ওয়াজিব হয় এবং নামাজ-রোজা ইত্যাদি ইবাদত নষ্ট হয়। উত্তেজনা প্রশমিত করার একমাত্র বৈধ পথ হলো —দ্রুত বিবাহ করা অথবা রোজা রাখা ও সংযম অবলম্বন করা।


১. ইসলামে যৌন-তাড়না নিয়ন্ত্রণের মূলনীতি

আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেছেন:

وَلْيَسْتَعْفِفِ الَّذِينَ لَا يَجِدُونَ نِكَاحًا حَتَّىٰ يُغْنِيَهُمُ اللَّهُ مِن فَضْلِهِ "যারা বিবাহের সামর্থ্য রাখে না, তারা যেন সংযম অবলম্বন করে, যে পর্যন্ত আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের অভাবমুক্ত না করেন।" — (সূরা আন-নূর: ৩৩)

আর নবী ﷺ ইরশাদ করেছেন:

يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ مَنِ اسْتَطَاعَ الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ، فَإِنَّهُ أَغَضُّ لِلْبَصَرِ وَأَحْصَنُ لِلْفَرْجِ، وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَعَلَيْهِ بِالصَّوْمِ فَإِنَّهُ لَهُ وِجَاءٌ "হে যুবকগণ! তোমাদের মধ্যে যার সামর্থ্য আছে, সে যেন বিবাহ করে; কারণ তা দৃষ্টি সংযত রাখে ও লজ্জাস্থান হেফাজত করে। আর যার সামর্থ্য নেই, সে যেন রোজা রাখে; কারণ রোজা তার জন্য সংযমের উপায়।" — (সহীহ বুখারী: ৫০৬৫; সহীহ মুসলিম: ১৪০০)

অর্থাৎ ইসলামে যৌন-তাড়না নিয়ন্ত্রণের বৈধ পথ দুটি: বিবাহ অথবা রোজা ও সংযম। এর বাইরে নিজের লজ্জস্থান নিজে ঘষা বা কোনো বস্তুর সাথে ঘষা — কোনোভাবেই অনুমোদিত নয়।


২. নিজ হাত দিয়ে ইস্তিমনা (মাস্টারবেশন) সম্পর্কে হানাফি মাযহাবের হুকুম

হানাফি মাযহাবের প্রসিদ্ধ ফতোয়াগ্রন্থসমূহে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে — নিজ হাত দিয়ে কৃত্রিমভাবে বীর্যপাত করা (ইস্তিমনা) হারাম,

আল্লামা ইবনে আবিদিন শামি রাহ. (রাদ্দুল মুহতার) বলেন:

"والاستمناء بالكف حرام" "হাত দিয়ে ইস্তিমনা করা হারাম।" — (রাদ্দুল মুহতার, কিতাবুল হাজার, খণ্ড ৬, পৃ. ৩৭০-এর কাছাকাছি; আরও দেখুন: ফাতাওয়া শামি, কিতাবুস সাওম)

সুতরাং: যখন নিজ হাত দিয়ে ইস্তিমনাই হারাম, তখন বালিশ, তোষক বা অন্য কোনো বস্তুর সাথে লজ্জস্থান ঘষাঘষি করা তো আরও বেশি হারাম ও নিষিদ্ধ।


৩. বালিশ/তোষকের সাথে ঘষাঘষি করার আলাদা কয়েকটি ক্ষতি

১. এটি ইস্তিমনারই একটি রূপ — বরং আরও নিকৃষ্ট, কারণ এতে লজ্জাস্থানকে অপবিত্র বস্তুর সাথে সংযুক্ত করা হয়।

২. ফরজ গোসল ওয়াজিব হয় — বীর্যপাত বা উত্তেজনার সাথে ইনযাল হলে গোসল ফরজ; গোসল না করে নামাজ, রোজা, কুরআন স্পর্শ ইত্যাদি বৈধ নয়।

৩. নামাজ-রোজা নষ্ট হয় — রোজা অবস্থায় এ কাজ করলে রোজা ভেঙে যায় এবং কাযা-কাফফারা লাগতে পারে।

৪. লজ্জাস্থানের স্বাস্থ্যঝুঁকি — বালিশ-তোষকের কাপড়ে ধুলা, ময়লা, জীবাণু থাকলে সংক্রমণ ও চর্মরোগের আশঙ্কা থাকে।

৫. আত্ম-নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হয় — এ অভ্যাস দীর্ঘস্থায়ী হলে বিবাহিত জীবনে স্বাভাবিক যৌন-সম্পর্কে ব্যাঘাত ঘটে এবং নফস আরও বশীভূত হয়।

৬. লজ্জা ও আত্মসম্মান ক্ষুণ্ণ হয় — ইসলামে লজ্জাস্থান হেফাজত করা ঈমানের অংশ। নবী ﷺ বলেছেন:

"الْحَيَاءُ شُعْبَةٌ مِنَ الْإِيمَانِ" "লজ্জা ঈমানের একটি শাখা।" — (সহীহ বুখারী: ৯; সহীহ মুসলিম: ৩৫)


৪. প্রশ্নে উল্লেখিত বোনের জন্য করণীয়

১. অবিলম্বে এ অভ্যাস ত্যাগ করা — তাওবা ও ইস্তিগফার করা; আল্লাহ তাআলা তাওবাকারীদের ভালোবাসেন (সূরা বাকারা: ২২২)।

২. বিবাহের ব্যবস্থা করা — সামর্থ্য থাকলে বিবাহ করা; এটাই ইসলামের নির্দেশিত পথ।

৩. রোজা রাখা — বিবাহের সামর্থ্য না থাকলে বেশি বেশি নফল রোজা রাখা; নবী ﷺ-এর হাদিস অনুযায়ী এটি সংযমের উপায়।

৪. দৃষ্টি ও চিন্তা সংযত রাখা — অশ্লীল দৃশ্য, ভিডিও, গল্প, কল্পনা থেকে দূরে থাকা; কারণ এগুলোই উত্তেজনার মূল উৎস।

৫. সময় কাজে লাগানো — খেলাধুলা, পড়াশোনা, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির, দ্বীনি ইলম অর্জন ইত্যাদিতে ব্যস্ত থাকা।

৬. একাকী নির্জনতা পরিহার করা — বেশি সময় একা একা না থাকা; পরিবারের সদস্যদের সাথে সময় কাটানো। রাতে একাকী না ঘুমানো।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.