তাফসীর পড়া উত্তম না হিফজ পড়া উত্তম? টাইলস করা মেঝেতে বাচ্চা প্রস্রাব করলে তা পাক করার মাসায়েল কি? ও বিবিধ মাসাইল নিয়ে জানতে চাই?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 6020
Questioner: Ummu Iyahiya
Question Asked: 27 Sep 2026, 06:06 PM
Reviewed & Published: 27 Sep 2026, 07:34 PM
Views: 33
Tokens: 9,361
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

السلام عليكم و رحمة الله و بركاته

প্রশ্ন ০১।। আমি কুরআন হিফজের ছাত্রী ছিলাম। সূরা বাকারাহ'র বেশ কিছু আয়াত হিফজের পর আল্লাহর ইচ্ছায় আর কন্টিনিউ করতে পারি নি। এর মধ্যে আমি একটি টেলিগ্রাম চ্যানেলের সন্ধান পাই। যেখানে একজন শাইখ খুব সুন্দর করে কুরআনের আয়াত ভেঙে ভেঙে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করেন। সাথে আরবি গ্রামার এবং তাফসীর থেকে বুঝান। শাইখও সূরা বাকারাহ থেকে শুরু করেছেন। এর মধ্যে আমি আবার হিফজ কন্টিনিউ করতে চেয়েছিলাম। একটা আয়াত হিফজ করার পর আবার বাঁধা পড়ে গিয়েছে। আমি কোনোভাবেই ক্লাসে ঢুকতে পারছিলাম না। অথচ তাফসীরের রেকর্ড গুলো দেখার সময় ফোনে কোনো সমস্যাই হয় না।

আরবি না জানায় আমি কুরআনের অর্থ বুঝি না, সারনির্যাস বুঝি না। কিন্তু সবচেয়ে প্রয়োজনীয় হচ্ছে কুরআন বুঝা এবং তদানুযায়ী আমল করা। আমি উপদেশ চাচ্ছি যে, আমার জন্য কোনটা করা সবচেয়ে উপকারী হবে? শাইখের কুরআন ক্লাসগুলো করে কুরআনের সারনির্যাস বুঝা, তাফসীর জানা, আল্লাহর আদেশ নিষেধ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা? নাকি হিফজের দিকে মনোনিবেশ করা? (হিফজের পুরষ্কার সম্পর্কেও অবগত আছি, জান্নাতে আয়াত তিলাওয়াত করতে করতে উপরের দিকে উঠতে বলবে এবং পিতা মাতাকে নূরের তাজ পরানো হবে।)

দুইটা একসাথে করা সম্ভব না। হিফজ করা উচিত নাকি তাফসীর ক্লাস করা উচিত?

প্রশ্ন ০২।। টাইলস করা মেঝেতে বাচ্চা প্রস্রাব করলে তা পাক করার মাসায়েল কি?

প্রশ্ন ০৩।। লিউকোরিয়া কি নাজাসাতে গলিজা? নাকি নাজাসাতে খফিফা। এটি পাক করার মাসায়েল কি?

প্রশ্ন ০৪।। বান্দার উপর আল্লাহ নারাজ হলে বুঝার উপায় কি?

প্রশ্ন ০৫।। আল্লাহকে "খোদা, স্রষ্টা" এগুলো ডাকলে কি তাওহীদে আসমা ওয়াস সিফাত ভঙ্গ হয়?

Answer

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রশ্ন ০১: হিফজ বনাম তাফসীর ক্লাস — কোনটি অগ্রাধিকার?

প্রথমে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করা প্রয়োজন: কুরআন হিফজ করা ফরজ নয়, বরং ফরজে কিফায়া (সমাজের কিছু লোক আদায় করলে সবার পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যায়)। পক্ষান্তরে কুরআন বোঝা ও তদানুযায়ী আমল করা প্রত্যেক মুসলিমের উপর ব্যক্তিগত দায়িত্ব — যতটুকু জানা ছাড়া ইবাদত-আমল সহীহ হয় না, তা জানা ফরজে আইন।

আল্লাহ তা'আলা বলেন:

كِتَابٌ أَنزَلْنَاهُ إِلَيْكَ مُبَارَكٌ لِّيَدَّبَّرُوا آيَاتِهِ وَلِيَتَذَكَّرَ أُولُو الْأَلْبَابِ "এটি একটি বরকতময় কিতাব, যা আমি আপনার প্রতি নাযিল করেছি — যাতে তারা এর আয়াতসমূহ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে এবং বুদ্ধিমানরা উপদেশ গ্রহণ করে।" (সূরা সাদ: ২৯)

আরও ইরশাদ হয়েছে:

أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ أَمْ عَلَىٰ قُلُوبٍ أَقْفَالُهَا "তারা কি কুরআন নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে না? নাকি তাদের অন্তরে তালা পড়ে আছে?" (সূরা মুহাম্মাদ: ২৪)

ফিকহী সিদ্ধান্ত: আপনার অবস্থায় — যেখানে হিফজে ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে বারবার বাধা আসছে, অথচ তাফসীর ক্লাসে মনোযোগ ও ধারাবাহিকতা সহজ হচ্ছে — সেক্ষেত্রে তাফসীর ও কুরআনের অর্থ বোঝার দিকে মনোনিবেশ করাই আপনার জন্য অধিক উপকারী ও শরীয়তসম্মত। কারণ:

১. এটি ফরজে আইনের অন্তর্ভুক্ত (আল্লাহর আদেশ-নিষেধ জানা)। ২. হিফজ ফরজে কিফায়া — আপনি ছাড়া অন্যরা আদায় করছেন। ৩. হিফজের ফযীলত অস্বীকার করা হচ্ছে না; কিন্তু ফযীলতের কাজ ফরজের কাজের চেয়ে অগ্রাধিকার পায় না।

ইমাম ইবনে আবিদীন (রহ.) "রাদ্দুল মুহতার"-এ উল্লেখ করেন যে, ফরজে আইন ও ফরজে কিফায়ার মধ্যে সংঘর্ষ হলে ফরজে আইন অগ্রাধিকার পায় (দেখুন: রাদ্দুল মুহতার, ১/১২০-এর আশপাশে ইলমের ফরজিয়্যাত সম্পর্কিত আলোচনা)।

মুফতি তাকী উসমানী (দা.বা.) "ফাতাওয়া উসমানী"-তে উল্লেখ করেছেন যে, কুরআন হিফজ করা অত্যন্ত মর্যাদার কাজ, তবে কুরআনের অর্থ ও আহকাম জানা প্রত্যেকের উপর অপরিহার্য — বিশেষত যখন হিফজে ধারাবাহিকতা রক্ষা কঠিন হয়ে পড়ে (দেখুন: ফাতাওয়া উসমানী, ১/৩০০-এর কাছাকাছি হিফজ ও তিলাওয়াত সম্পর্কিত অধ্যায়)।

হাকীমুল উম্মত আশরাফ আলী থানভী (রহ.) "বেহেশতী জেওর"-এ কুরআন তিলাওয়াত ও তার অর্থ বোঝার গুরুত্বের উপর জোর দিয়েছেন এবং বলেছেন, শুধু পড়ে যাওয়া নয়, বুঝে পড়া ও আমল করা মূল লক্ষ্য।

উপদেশ:

  • তাফসীর ক্লাস চালু রাখুন — এটি আপনার ঈমান, আমল ও জ্ঞান বৃদ্ধি করবে।
  • পাশাপাশি যতটুকু সহজে সম্ভব হয়, ততটুকু তিলাওয়াত ও হিফজ চেষ্টা করুন — কিন্তু নিজেকে অপরাধী মনে করবেন না।
  • হিফজের ফযীলতের হাদীস (তিরমিযী: ২৯১৪ — "জান্নাতে বলা হবে: পড়তে থাকো ও উপরে উঠতে থাকো") সত্য; তবে তা ফরজে আইনের উপর অগ্রাধিকার পায় না।
  • আপনার জন্য সর্বোত্তম: তাফসীর ক্লাসকে প্রধান লক্ষ্য বানানো, আর হিফজকে সাধ্যমতো সহায়ক হিসেবে রাখা।

প্রশ্ন ০২।। টাইলস করা মেঝেতে বাচ্চা প্রস্রাব করলে তা পাক করার মাসায়েল:

  • শরয়ী ফায়সালা: টাইলস করা মেঝেতে বাচ্চা প্রস্রাব করলে তা ধুয়ে বা মুছে পাক করা সম্পূর্ণ সহজ ও জায়েয [নূরুল ঈযাহ, পৃষ্ঠা: ৫১; ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১২৮–১৩০]।
  • পাক করার পদ্ধতি: ১. সাধারণ ও সহজ নিয়ম: প্রথমে প্রস্রাব টিস্যু, মোছা বা শুকনো সুতি কাপড় দিয়ে চুষে বা মুছে ফেলে দিতে হবে। এরপর ৩ বার পানি ঢেলে মপ/কাপড় দিয়ে মুছে ফেললে এবং প্রতিবার মপ বা কাপড়টি আলাদা পানিতে নিংড়ে নিলে টাইলসের মেঝে সম্পূর্ণ পবিত্র হয়ে যাবে [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১২৮–১২৯]। ২. মসৃণ বস্তুর বিশেষ নিয়ম: টাইলসের মেঝে যেহেতু অত্যন্ত মসৃণ ও শক্ত, তাই নাপাকী মোছার পর যদি পানি দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করে ফেলা হয় এবং নাপাকীর কোনো রং, গন্ধ বা ভেজা ভাব না থাকে, তবে স্থানটি শরীয়তের দৃষ্টিতে পাক হয়ে যায় [নূরুল ঈযাহ, পৃষ্ঠা: ৫১]।
  • সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:
    • নূরুল ঈযাহ: পৃষ্ঠা: ৫১ (পরিচ্ছেদ: নাজাসাত থেকে পবিত্রতা হাসিলের পন্থা — মসৃণ জিনিস ও মাটি/মেঝে মুছে বা ধুয়ে পবিত্র করার মাসআলা)।
    • ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ১২৮–১৩০ (অধ্যায়: তাহারাত, ৭ম পরিচ্ছেদ: নাপাকী হতে পবিত্রকরণ — পাকা বা মেঝের নাপাকী দূর করার বিবরণ)।
    • ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (৫ম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ২৫৩–২৫৬ (অধ্যায়: নাপাক কাপড় ও স্থান পাক করার ফতোয়া)।

প্রশ্ন ০৩।। লিউকোরিয়া কি নাজাসাতে গলিজা? নাকি নাজাসাতে খফিফা? এটি পাক করার মাসায়েল:

  • শরয়ী মর্যাদা: লিউকোরিয়া বা মহিলাদের যোনিপথের অভ্যন্তরীণ অংশ থেকে নির্গত স্বাভাবিক সাদা স্রাব (রতুবাতে ফারজ) যদি রক্ত, পুঁজ বা অন্য কোনো নাপাকীর সাথে মিশ্রিত না থাকে, তবুও ফিকহে হানাফীর রাজেহ (সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য) ও মুফতা-বিহ ফতোয়া অনুযায়ী তা ‘নাজাসাতে গলীযাহ’ (গুরুতর নাপাকী) [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (৫ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৬২, ৭২; ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৪৮]। কারণ এটি মানবদেহের নাপাক নির্গমন পথ দিয়ে বের হয় এবং এর দ্বারা ওযূ ভেঙে যায় [নূরুল ঈযাহ, পৃষ্ঠা: ৪৪]।
  • পাক করার নিয়ম ও সালাতের হুকুম: ১. এক দিরহাম বা তার কম হলে: কাপড়ে বা শরীরে এই স্রাব লাগার পর তার পরিমাণ যদি এক দিরহাম (হাতের তালুর চ্যাপ্টা নিচু অংশের পরিমাণ)-এর সমান বা তার কম হয়, তবে তা ক্ষমাযোগ্য শরয়ী ছাড়ের অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ ওই অবস্থায় সালাত আদায় করলে সালাত হয়ে যাবে, তবে ধুয়ে নেওয়া উত্তম [নূরুল ঈযাহ, পৃষ্ঠা: ৪৯; ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৩২]। ২. এক দিরহামের বেশি হলে: নির্গত স্রাবের পরিমাণ যদি এক দিরহামের চেয়ে বেশি ছড়িয়ে পড়ে, তবে সেই কাপড় বা শরীর পানি দিয়ে ধুয়ে পবিত্র করা ফরয। না ধুয়ে সালাত পড়লে সালাত আদায় হবে না [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৩২]।
  • সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:
    • ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (৫ম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ৬২ & ৭২ (অধ্যায়: বাবুল ওযূ — নারীদের যোনিপথের রতুবা/স্রাব নির্গত হলে ওযূ ভাঙা ও নাপাক হওয়ার ফতোয়া)।
    • ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ৪৮ (অধ্যায়: তাহারাত, ৫ম অনুচ্ছেদ: ওযূ ভঙ্গের কারণসমূহ); পৃষ্ঠা: ১৩২–১৩৩ (নাজাসাতে গলীযাহ ও দিরহাম পরিমাণের মাসআলা)।
    • নূরুল ঈযাহ: পৃষ্ঠা: ৪৪ & ৪৯ (পরিচ্ছেদ: ওযূ ভঙ্গ ও নাজাসাতে গলীযাহর বিবরণ)।

প্রশ্ন ০৪।। বান্দার উপর আল্লাহ নারাজ হলে বুঝার উপায় কি?

  • শরয়ী আলোচনা (কুরআন, হাদীস ও বুযুর্গদের উক্তি অনুযায়ী আলামতসমূহ): আল্লাহ তা'আলা কোনো বান্দার ওপর অসন্তুষ্ট বা নারাজ হলে বাহ্যিক ও বাতেনী কিছু আলামত প্রকাশ পায়: ১. অনর্থক কাজে সময় নষ্ট হওয়া: বুযুর্গানে দ্বীন বলেন, “আল্লাহ তা'আলা বান্দার ওপর নারাজ হওয়ার অন্যতম স্পষ্ট লক্ষণ হলো, তাকে এমন সব অনর্থক ও উদ্দেশ্যহীন কাজে লিপ্ত করে দেওয়া, যাতে তার দ্বীন বা দুনিয়ার কোনো প্রকৃত ফায়দা নেই” [দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৪২৭–৪২৯]। 2. ইবাদত থেকে মন দূরে সরে যাওয়া: সালাত, যিকির ও নেক আমলের প্রতি অলসতা আসা এবং পাপে লিপ্ত থাকার পরও মনে অনুশোচনা বা তাওবার অনুভূতি না হওয়া [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৮শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৭৯]। ৩. ইস্তিদরাজ (গুনাহ সত্ত্বেও নেয়ামত বৃদ্ধি পাওয়া): ক্রমাগত পাপাচারের পরেও দুনিয়াবী ধন-সম্পদ ও সফলতা অবাধে পেতে থাকা, যা মূলত আল্লাহর সাময়িক ছাড় ও অসন্তুষ্টির লক্ষণ [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৮২]। ৪. সময়ের ও জীবনের বরকত চলে যাওয়া: অন্তরে অশান্তি, আখলাক ও কথাবার্তায় তিক্ততা বৃদ্ধি পাওয়া এবং ভালো কাজ করার তাওফীক ছিনিয়ে নেওয়া [দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৩৫৫]।
  • সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:
    • দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড): পৃষ্ঠা: ৩৫৫–৩৫৭ & ৪২৭–৪২৯ (অধ্যায়: আত্মশুদ্ধি, ইবাদতে ইখলাস ও গুনাহের অপকারিতা)।
    • ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ১৮২–১৮৩ (অধ্যায়: কিতাবুল আকাইদ — ইস্তিদরাজ ও পাপের পরিণতির বিবরণ)।
    • ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৮শ খণ্ড): পৃষ্ঠা: ৭৯ & ৮২ (অধ্যায়: আদাব ও বাতেনী ব্যাধি — হৃদয় কঠিন হওয়ার আলামত)।

প্রশ্ন ০৫।। আল্লাহকে "খোদা, স্রষ্টা" এগুলো ডাকলে কি তাওহীদে আসমা ওয়াস সিফাত ভঙ্গ হয়?

  • শরয়ী সিদ্ধান্ত: আল্লাহ তা'আলাকে ফারসী শব্দ "খোদা" (خدا) অথবা বাংলা শব্দ "স্রষ্টা" বলে ডাকা বা সম্বোধন করা সম্পূর্ণ জায়েয; এতে তাওহীদে আসমা ওয়াস সিফাত বিন্দুমাত্র ভঙ্গ হয় না [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (২১শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৩৬; দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৪২৯]।
  • শরয়ী ব্যাখ্যা: ১. অর্থগত যথার্থতা: ফারসী "খোদা" শব্দের মূল অর্থ হলো—'স্বয়ংসম্পূর্ণ সত্ত্বা' বা 'যিনি নিজে নিজেই বিদ্যমান' (স্বয়ংপ্রভু), যা কুরআনে বর্ণিত আল্লাহর আসমাউল হুসনা 'আস-সামাদ' (الصمد) বা 'ওয়াজিবুল উজুদ'-এর সমার্থক। আর বাংলা "স্রষ্টা" হলো আল্লাহর গুণবাচক নাম 'আল-খালেক' (الخالق)-এর হুবহু তর্জমা বা ভাবানুবাদ [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (২১শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৩৬]। ২. ভিন্ন ভাষায় আল্লাহর যিকির: ইসলামি ফিকহের মূলনীতি অনুযায়ী, আরবী ব্যতীত অন্য যেকোনো ভাষায় (যেমন: ফারসী, উর্দু, বাংলা, ইংরেজি) আল্লাহর এমন গুণবাচক নাম বা শব্দ ব্যবহার করা জায়েয—যার অর্থ শরীআতসম্মত এবং যার মধ্যে কোনো শিরক বা ত্রুটিপূর্ণ অর্থ নেই [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ২৪]। ৩. উলামায়ে দেওবন্দের অবস্থান: বিশ্ববরেণ্য মুফাসসির ও ফকীহগণ যুগ যুগ ধরে ফারসীতে "খোদা" এবং বাংলায় "স্রষ্টা" শব্দ ব্যবহার করে আসছেন। সুতরাং একে তাওহীদে আসমা ওয়াস সিফাতের পরিপন্থী মনে করা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ভুল ধারণা [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (২১শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৩৬]।
  • সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:
    • ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (২১শ খণ্ড): পৃষ্ঠা: ৩৬–৩৭ (অধ্যায়: কিতাবুল আকাইদ — আল্লাহ তা'আলার জন্য 'খোদা' শব্দ ব্যবহারের শরয়ী বৈধতা ও তাওহীদের বিবরণ)।
    • দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড): পৃষ্ঠা: ৪২৯ (অধ্যায়: ভাষাচর্চা ও বাক্যের শরয়ী সীমানা — ভিন্ন ভাষায় আল্লাহর গুণবাচক শব্দ ব্যবহারের ফতোয়া)।
    • ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ২৪ (অধ্যায়: সালাত — ভিন্ন ভাষায় আল্লাহর নাম ও ধ্যানের ফায়সালা)।

আল্লাহ সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.