সুস্থতার নিয়তে তাবিজ ব্যবহার করা কি জায়েজ?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 5986
Questioner: Aera Ahmed
Question Asked: 26 Sep 2026, 09:08 PM
Reviewed & Published: 26 Sep 2026, 09:26 PM
Views: 13
Tokens: 3,239
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

সুস্থতার নিয়তে তাবিজ ব্যবহার করা কি জায়েজ? হুজুররা যে দিয়ে থাকে!

Answer

সুস্থতার নিয়তে তাবিজ ব্যবহার করা কি জায়েজ?

সংক্ষিপ্ত উত্তর: সুস্থতার নিয়তে তাবিজ ব্যবহার করা শর্তসাপেক্ষে জায়েজ। যদি তাবিজে কুরআনের আয়াত, আল্লাহর নাম, দোয়া-দরুদ বা শরীয়তসম্মত কোনো জিকির লেখা থাকে এবং তা হারাম বা শিরকি কিছু থেকে পবিত্র হয়, তবে তা ব্যবহার করা জায়েজ। আর যদি তাবিজে কুরআন-হাদিসের বাইরে অজ্ঞেয়/অস্পষ্ট শব্দ, শিরকি কালাম, জিন-শয়তানের নাম, বা এমন কিছু থাকে যা বোঝা যায় না — তবে তা ব্যবহার করা জায়েজ নয়, বরং হারাম।


১. কুরআন-হাদিসের দলিল

কুরআন মাজিদ:

আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَةٌ لِّلْمُؤْمِنِينَ "আমি কুরআনে এমন বিষয় নাজিল করি যা মুমিনদের জন্য শিফা (রোগমুক্তি) ও রহমত।" — (সূরা বনী ইসরাইল: ৮২)

وَلَوْ جَعَلْنَاهُ قُرْآنًا أَعْجَمِيًّا لَّقَالُوا لَوْلَا فُصِّلَتْ آيَاتُهُ — (সূরা হা-মীম সাজদাহ: ৪৪)

হাদিস শরিফ:

হযরত আউফ ইবনে মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

اعْرِضُوا عَلَيَّ رُقَاكُمْ، لَا بَأْسَ بِالرُّقَى مَا لَمْ يَكُنْ فِيهِ شِرْكٌ "তোমাদের ঝাড়-ফুঁক আমার কাছে পেশ করো। ঝাড়-ফুঁকে কোনো দোষ নেই, যতক্ষণ না তাতে শিরক থাকে।" — (সহীহ মুসলিম, হাদিস: ২২০০)

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত:

كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَعُوِّذُ الْحَسَنَ وَالْحُسَيْنَ... রাসূলুল্লাহ ﷺ হাসান ও হুসাইন (রাঃ)-কে এই দোয়া পড়ে ঝাড়-ফুঁক করতেন... — (সহীহ বুখারী, হাদিস: ৩৩৭১)


২. হানাফি ফিকহের বিধান

ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) বলেন:

وَيَجُوزُ التَّعْوِيذُ بِالْقُرْآنِ وَأَسْمَاءِ اللَّهِ تَعَالَى... وَأَمَّا مَا لَا يُفْهَمُ فَلَا يَجُوزُ "কুরআন ও আল্লাহর নাম দ্বারা তাবিজ-তাওয়ীজ করা জায়েজ। আর যা বোঝা যায় না, তা জায়েজ নয়।" — (রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড: ৬, পৃষ্ঠা: ৩৬৩)

ফাতাওয়া আলমগিরিতে আছে:

التَّعْوِيذُ بِالْقُرْآنِ وَالذِّكْرِ الْمَعْلُومِ جَائِزٌ، وَبِمَا لَا يُفْهَمُ حَرَامٌ — (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, খণ্ড: ৫, পৃষ্ঠা: ৩৫৪)

ফাতাওয়া উসমানি (মুফতি তাকি উসমানি দা.বা.):

"কুরআনের আয়াত, আল্লাহর নাম, দোয়া-দরুদ দ্বারা তাবিজ তৈরি করা এবং তা ব্যবহার করা জায়েজ। তবে শর্ত হলো—তাতে শিরকি কালাম, অজ্ঞেয় শব্দ বা জিন-শয়তানের নাম না থাকা।" — (ফাতাওয়া উসমানি, খণ্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ৫৪৭)

ইমদাদুল ফাতাওয়া (হাকিমুল উম্মত থানভি রহ.):

"তাবিজ ব্যবহার করা জায়েজ, যদি তা কুরআন-সুন্নাহসম্মত হয়। তবে তাবিজের উপর ভরসা করা যাবে না; আসল ভরসা আল্লাহর উপর।" — (ইমদাদুল ফাতাওয়া, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ৩০২)


৩. জায়েজ হওয়ার শর্তসমূহ

| শর্ত | বিবরণ | |------|--------| | ১ | তাবিজে কুরআনের আয়াত, আল্লাহর নাম, দোয়া-দরুদ থাকতে হবে | | ২ | অর্থ স্পষ্ট ও বোধগম্য হতে হবে | | ৩ | শিরকি কালাম, জিন-শয়তানের নাম, অজ্ঞেয় শব্দ থাকা যাবে না | | ৪ | তাবিজকে স্বয়ংক্রিয় শিফার উৎস মনে করা যাবে না; শিফা আল্লাহর হাতে | | ৫ | হারাম পদ্ধতিতে (যেমন: নাপাক জিনিসে লেখা, পায়ে-ময়লায় রাখা) তৈরি করা যাবে না | | ৬ | তাবিজের উপর ভরসা করে চিকিৎসা বন্ধ করা যাবে না |


৪. নিষিদ্ধ তাবিজের উদাহরণ

  • যে তাবিজে অর্থহীন শব্দ, সংখ্যা, বা রহস্যময় চিহ্ন থাকে
  • জিন-শয়তানের নাম বা শিরকি কালাম থাকে
  • কুরআনের আয়াতকে অপমান করা হয় (যেমন: নাপাক জায়গায় রাখা)
  • তাবিজকে আল্লাহর সমকক্ষ মনে করা বা তাবিজই শিফা দেয়—এমন বিশ্বাস করা

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

إِنَّ الرُّقَى وَالتَّمَائِمَ وَالتِّوَلَةَ شِرْكٌ "নিশ্চয়ই ঝাড়-ফুঁক, তাবিজ ও প্রেম-মোহর শিরক।" — (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩৮৮৩)

ব্যাখ্যা: এখানে নিষিদ্ধ তাবিজ বলতে শিরকি তাবিজকে বোঝানো হয়েছে, যেমনটি ইমাম তহাবি (রহ.) ও ইবনে আবিদিন (রহ.) ব্যাখ্যা করেছেন।


৫. উপসংহার

  • জায়েজ: কুরআনের আয়াত, আল্লাহর নাম, দোয়া-দরুদ দ্বারা তৈরি তাবিজ, যদি অর্থ স্পষ্ট হয় এবং শিরকমুক্ত হয়।
  • নাজায়েজ/হারাম: অজ্ঞেয় শব্দ, শিরকি কালাম, জিন-শয়তানের নামযুক্ত তাবিজ।
  • মনে রাখবেন: তাবিজ শুধু একটি মাধ্যম; প্রকৃত শিফা আল্লাহর হাতে। চিকিৎসা ও দোয়ার সাথে তাবিজ ব্যবহার করা যেতে পারে, কিন্তু তাবিজের উপর ভরসা করা যাবে না।

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.