অতীতের ক্বাজা নামাজ থাকলে কী করব?
Salah-Prayer · Hanafi
Question
Answer
অতীতের ক্বাজা নামাজ থাকলে করণীয় কী? এবং কোনো দুআ পড়ে কি ক্বাজা নামাজ মাফ হয়?
ভূমিকা
নামাজ ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ এবং প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিমের উপর ফরজ। কোনো কারণে নামাজ ছুটে গেলে তা ক্বাজা করা আবশ্যক। কুরআন ও হাদিসে ক্বাজা নামাজের বিধান সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে।
কুরআনের দলিল
আল্লাহ তাআলা বলেন:
إِنَّ الصَّلَاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَوْقُوتًا
"নিশ্চয়ই নামাজ মুমিনদের উপর নির্দিষ্ট সময়ে ফরজ করা হয়েছে।"
(সূরা আন-নিসা: ১০৩)
وَأَقِمِ الصَّلَاةَ لِذِكْرِي
"আর আমার স্মরণে নামাজ কায়েম করো।"
(সূরা ত্বা-হা: ১৪)
হাদিসের দলিল
১. ঘুম বা ভুলে নামাজ ছুটে গেলে ক্বাজা করার নির্দেশ
রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন:
مَنْ نَسِيَ صَلَاةً أَوْ نَامَ عَنْهَا فَكَفَّارَتُهَا أَنْ يُصَلِّيَهَا إِذَا ذَكَرَهَا
"যে ব্যক্তি নামাজ ভুলে যায় বা ঘুমিয়ে পড়ে (ছুটে যায়), তার কাফফারা হলো—যখন স্মরণ হবে তখন সে তা আদায় করবে।"
(সহিহ মুসলিম: ৬৮৪; সহিহ বুখারি: ৫৯৭)
২. ইচ্ছাকৃতভাবে ছাড়ার ক্ষেত্রে
ইমাম আনাস (রহ.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
مَنْ تَرَكَ الصَّلَاةَ مُتَعَمِّدًا فَقَدْ كَفَرَ
"যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ ছাড়ে, সে কুফরি করল।"
(তিরমিজি: ২৬২১ — তবে ফুকাহায়ে কেরাম এটিকে কুফরে লাযিমী বা গুরুতর গুনাহ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন)
ফিকহি বিধান (হানাফি মাযহাব অনুযায়ী)
১. ক্বাজা নামাজ ফরজ
আল-হিদায়া গ্রন্থে বর্ণিত আছে:
"নামাজ ছুটে গেলে তা ক্বাজা করা ওয়াজিব। ক্বাজা নামাজ ফরজ নামাজের মতোই ফরজ।"
রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদিন) এ উল্লেখ আছে:
"ক্বাজা নামাজ আদায় করা ফরজে আইন। যে ব্যক্তি ক্বাজা নামাজ আদায় না করে মারা যাবে, সে গুরুতর গুনাহগার হবে।"
২. ক্বাজা নামাজের সংখ্যা নির্ধারণ
- যদি নামাজের সংখ্যা জানা থাকে, ততগুলো ক্বাজা করতে হবে।
- যদি সংখ্যা জানা না থাকে, তবে অনুমান করে (তাহাররি) ক্বাজা করতে হবে যতক্ষণ না মনে হয় যে দায়িত্ব থেকে মুক্ত হয়েছে।
- ফাতাওয়া আলমগিরি-তে আছে: "যদি ক্বাজা নামাজের সংখ্যা স্মরণ না থাকে, তবে কমপক্ষে যতটুকু নিশ্চিত, ততটুকু আদায় করবে এবং সন্দেহ দূর হওয়ার জন্য অতিরিক্ত আদায় করবে।"
৩. ক্বাজা নামাজের পদ্ধতি
ওমরি কাজা আদায় করতেই হবে।
সহজের লক্ষ্যে উলামায়ে কেরামগন এর পদ্ধতি বলেছেনঃ
এখন একটি হিসেব কষতে হবে যে জীবনে বালেগ/বালেগাহ হওয়ার পর সর্বমোট কত ওয়াক্ত নামাজ কাজা হয়েছে।
,
যদি স্পষ্ট মনে না আসে,তাহলে প্রবল ধারনার ভিত্তিতে একটি হিসেব কষতে হবে।
দৈনিক ৫ ওয়াক্ত নামাজ এবং বিতর মোট ৬ ওয়াক্ত নামাজের হিসেব বের করতে হবে।
প্রতি নামাজের হিসেব লিখে প্রতিদিন সময় বের করে তার কাজা আদায় করবে।(নিষিদ্ধ ওয়াক্ত ব্যাতিত)
,
এই ভাবে মনে মনে নিয়ত করবে যে আমার জীবনের ১ম ফজরের নামাজ যেটার কাজা আমি আদায় করিনি,সেটা আদায়ের নিয়ত করছি।
আমার জীবনের ১ম জোহরের নামাজ যেটার কাজা আমি আদায় করিনি,সেটা আদায়ের নিয়ত করছি,,,,,।
,
এবং সাথে সাথে নির্দিষ্ট ওয়াক্তে নামাজ আদায় না করার কারনে আল্লাহর কাছে মাফ চাইতে হবে।
★ক্বাজা নামাজ দুআ পড়ে মাফ হয় না। এটি ফরজ ইবাদত, যা আদায় করতেই হবে। তবে কিছু বিষয় লক্ষণীয়:
১. তাওবা ও ইস্তিগফার
যদি কেউ নামাজ ছাড়ার পর তাওবা করে এবং ক্বাজা আদায় করে, তবে আল্লাহ ক্ষমা করবেন। আল্লাহ বলেন:
وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَ الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
"হে মুমিনগণ! তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তাওবা করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।"
(সূরা আন-নূর: ৩১)
২. দুআ ও ইস্তিগফার ক্বাজা নামাজের বিকল্প নয়
ফাতাওয়া উসমানি-তে মুফতি তাকি উসমানি (দা.বা.) বলেন:
"ক্বাজা নামাজ আদায় করা ফরজ। কোনো দুআ, দরুদ বা ইস্তিগফার ক্বাজা নামাজের বিকল্প হতে পারে না। তবে ক্বাজা আদায়ের সাথে সাথে তাওবা ও ইস্তিগফার করলে আল্লাহর রহমতের আশা করা যায়।"
৩. মৃত ব্যক্তির ক্বাজা নামাজ
- মৃত ব্যক্তির ক্বাজা নামাজের জন্য ফিদইয়া দেওয়া জায়েজ (হানাফি মাযহাবে)।
- ফিদইয়া হলো: প্রতিটি ছুটে যাওয়া নামাজের জন্য একটি ফিতরা পরিমাণ (প্রায় ১.৬ কেজি গম বা তার মূল্য) গরিব-মিসকিনকে দেওয়া।
- রাদ্দুল মুহতার-এ আছে: "মৃত ব্যক্তির ক্বাজা নামাজের ফিদইয়া দেওয়া ওয়াজিব নয়, তবে জায়েজ এবং উপকারী।"