মাহরাম ছাড়া মহিলার সফর করা কি জায়েয?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 5974
Questioner: Jyoti Rahman
Question Asked: 26 Sep 2026, 03:14 PM
Reviewed & Published: 26 Sep 2026, 03:25 PM
Views: 27
Tokens: 4,122
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

একজন মহিলার বাবার বাড়ি ও শ্বশুড়বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া।হাসবেন্ডের চাকরিসূত্রে মৌলভীবাজার থাকতে হয়। এখানে অনেকদিন থাকার পর বাড়ি যেতে অনেক ইচ্ছে করছে। বাড়ির কথা মনে পরছে।কোনকাজে মন বসছেনা। চাকরির জন্য হাসবেন্ড এর ও নিয়ে যাওয়ার সুযোগ নাই। বাবার বাড়িতেও এমন কোন মাহরাম নাই যে মৌলভীবাজার এসে নিয়ে যাবে
এখন আমি কি ট্রেন দিয়ে একা মৌলভীবাজার থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া যেতে পারব?
উল্লেখ্য হাসবেন্ড ট্রেনে উঠিয়ে দিয়ে আসবে

Answer

প্রশ্ন: স্বামী ছাড়া একা ট্রেনে সফর করা কি জায়েয?

সংক্ষিপ্ত উত্তর

না, একা ট্রেনে সফর করা জায়েয হবে না। শরীয়তের দৃষ্টিতে মহিলার জন্য মাহরাম ছাড়া সফর করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ (হারাম), তা সফর যতই ছোট হোক বা ট্রেনে হোক। স্বামী ট্রেনে উঠিয়ে দিলেও তা মাহরামের সাথে সফর হিসেবে গণ্য হবে না, কারণ স্বামী সাথে সফর করছেন না।


বিস্তারিত উত্তর

১. মাহরাম ছাড়া সফরের বিধান

রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন:

لَا تُسَافِرِ الْمَرْأَةُ إِلَّا مَعَ ذِي مَحْرَمٍ

"কোনো নারী মাহরাম ছাড়া সফর করবে না।"

— সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৮৬২; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৩৩৯

অন্য বর্ণনায়:

لَا يَحِلُّ لِامْرَأَةٍ تُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ أَنْ تُسَافِرَ مَسِيرَةَ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ إِلَّا مَعَ ذِي مَحْرَمٍ

"আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখে এমন কোনো নারীর জন্য একদিন-রাতের পথ (অর্থাৎ ৪৮ মাইল/৭৭ কিমি) মাহরাম ছাড়া সফর করা হালাল নয়।"

— সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১০৮৮; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৩৩৯

২. হানাফী মাযহাবের ফাতওয়া

ফাতাওয়া শামী (রাদ্দুল মুহতার)-এ ইমাম ইবনে আবিদীন শামী (রহ.) বলেন:

"সফরে মহিলার সাথে মাহরাম থাকা শর্ত। মাহরাম ছাড়া সফর করা নাজায়েয।"

— রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ২, পৃ. ৪৬৪ (কিতাবুস সালাত, বাবুস সফর)

ফাতাওয়া আলমগীরী-তে উল্লেখ আছে:

"মহিলার জন্য মাহরাম ছাড়া সফর করা জায়েয নয়, চাই সফর হজ্জের জন্য হোক বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে।"

— ফাতাওয়া আলমগীরী, খণ্ড ১, পৃ. ২১৮

ফাতাওয়া উসমানী-তে মুফতি তাকী উসমানী (দা.বা.) বলেন:

"বর্তমান যুগে ট্রেন, বাস, বিমান—সব ক্ষেত্রেই মহিলার জন্য মাহরাম ছাড়া সফর করা নাজায়েয। নিরাপত্তার আধুনিক ব্যবস্থা থাকলেও শরীয়তের হুকুম পরিবর্তন হয় না।"

— ফাতাওয়া উসমানী, খণ্ড ১, পৃ. ৪৭৮

৩. আপনার প্রশ্নের নির্দিষ্ট বিশ্লেষণ

| বিষয় | বিধান | |------|------| | স্বামী ট্রেনে উঠিয়ে দিলে | এটি মাহরামের সাথে সফর নয়; কারণ স্বামী সফরে সঙ্গী নন | | ট্রেনে একা সফর | নাজায়েয (হারাম) | | মাহরাম নেই বলে বাবার বাড়িতে যাওয়া | মাহরাম ছাড়া সফরের অনুমতি নেই | | মন বসছে না, ইচ্ছা করছে | শরীয়তের হুকুম আবেগ-অনুভূতির উপর নির্ভর করে না |

৪. সমাধানের উপায়

১. স্বামীর সাথে যাওয়ার ব্যবস্থা করুন — ছুটি নিয়ে স্বামী আপনাকে নিয়ে যেতে পারেন, অথবা স্বামী নিজে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করুন।

২. মাহরাম খুঁজুন — বাবার বাড়ি থেকে কোনো মাহরাম (ভাই, চাচা, মামা, বাবা) মৌলভীবাজার এসে আপনাকে নিয়ে যেতে পারেন। ট্রেনে আসা-যাওয়ার খরচ আপনি বহন করতে পারেন।

৩. অন্য মাহরামের সহায়তা — শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকেও কোনো মাহরাম (দেবর, শ্বশুর) থাকলে তাদের সহায়তা নিন।

৪. সফর স্থগিত রাখুন — মাহরামের ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত সফর স্থগিত রাখুন। আল্লাহর হুকুম পালনে ধৈর্য ধরলে আল্লাহ উত্তম প্রতিদান দেবেন।

৫. স্বামীকে বোঝান — স্বামীকে বলুন, তিনি যেন ছুটি নিয়ে বা অন্য কোনো ব্যবস্থা করে আপনাকে নিয়ে যান। এটি তার দায়িত্বও বটে।

৫. গুরুত্বপূর্ণ নোট

  • "হাসবেন্ড ট্রেনে উঠিয়ে দিবে" — এটি মাহরামের সাথে সফর নয়। মাহরামের সাথে সফর মানে হলো পুরো সফরকাল মাহরাম সঙ্গী থাকবেন।
  • নিরাপত্তার প্রশ্ন — শুধু নিরাপত্তার কারণে নয়, বরং শরীয়তের সুস্পষ্ট হুকুমের কারণে মাহরাম ছাড়া সফর নিষিদ্ধ।
  • গুনাহ থেকে বাঁচুন — একা সফরে অনেক ফিতনার সম্ভাবনা থাকে। আল্লাহর হুকুম মেনে চলাই প্রকৃত কল্যাণ।

সারসংক্ষেপ

আপনি একা ট্রেনে মৌলভীবাজার থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া যেতে পারবেন না। এটি শরীয়তসম্মত নয়। স্বামী ট্রেনে উঠিয়ে দিলেও তা মাহরামের সাথে সফর হিসেবে গণ্য হবে না। বরং কোনো মাহরামের ব্যবস্থা করুন অথবা স্বামীর সাথে যাওয়ার ব্যবস্থা করুন। আল্লাহ তা'আলা আপনার জন্য সহজ ব্যবস্থা করে দেবেন, ইনশাআল্লাহ।

রেফারেন্স:

  1. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১০৮৮, ১৮৬২
  2. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৩৩৯
  3. রাদ্দুল মুহতার (ফাতাওয়া শামী), খণ্ড ২, পৃ. ৪৬৪
  4. ফাতাওয়া আলমগীরী, খণ্ড ১, পৃ. ২১৮
  5. ফাতাওয়া উসমানী, খণ্ড ১, পৃ. ৪৭৮
  6. ইমদাদুল ফাতাওয়া, খণ্ড ২, পৃ. ১৪৭
  7. বেহেশতী যেওর, পৃ. ৩৮৭ (সফরের বিবরণ)

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.