বিতর নামাজের পরে কাজা নামাজ পড়া যাবে কি?

Salah-Prayer · Hanafi

Question No: 5952
Questioner: Munia Akter
Question Asked: 25 Sep 2026, 09:22 PM
Reviewed & Published: 25 Sep 2026, 09:38 PM
Views: 21
Tokens: 4,789
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

১)বেতের নামাজের পরে কি কাজা নামাজ পড়া যাবে? আমি পরে পড়তে চাচ্ছিলাম তাহলে কি গুনাহ হবে?

২)তাহাজ্জুদের সময় কি কাজা নামাজ পড়া যাবে, আমি বেতের নামাজ এশার সময় শেষ করে ফেলি, যদি তাহাজ্জুতের সময় উঠতে না পারি তাই আগেই পড়ে ফেলি, যে তোমার ছোট বাচ্চা কাছে তাই আমি তাহাজ্জুতের সময় বা সময় পেলে বেতের নামাজের পরে কাজা নামাজ পরতে চাই

Answer

কাযা নামায সম্পর্কিত ফতোয়া

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

প্রশ্নকারী দুটি বিষয়ে জানতে চেয়েছেন: ১. বিতর নামাযের পর কাযা নামায পড়া যাবে কি? বিলম্বে পড়লে গুনাহ হবে কি? ২. তাহাজ্জুদের সময় কাযা নামায পড়া যাবে কি? তিনি এশার সময়েই বিতর পড়ে ফেলেন (ছোট বাচ্চার কারণে রাতে উঠতে পারেন না), তাই তাহাজ্জুদের সময় বা সুযোগমতো বিতরের পর কাযা নামায পড়তে চান।


১ম প্রশ্ন: বিতর নামাযের পর কাযা নামায পড়া যাবে কি?

উত্তর: হ্যাঁ, পড়া যাবে — তবে সময় ও ক্রম (তারতীব) লক্ষ্য রাখতে হবে।

দলিল ও ব্যাখ্যা:

হানাফী মাযহাবে রাতের শেষভাগে বিতর পড়া উত্তম হলেও, এশার নামাযের পর থেকে সুবহে সাদিক পর্যন্ত বিতরের সময় থাকে। বিতর আদায়ের পর কাযা নামায পড়া নিষিদ্ধ নয়; বরং কাযা নামায যেকোনো সময় আদায় করা যায়, শুধু তিন মাকরূহ সময় (সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত ও ঠিক দুপুর) ছাড়া।

হাদীস শরীফ:

«مَنْ نَسِيَ صَلَاةً فَلْيُصَلِّهَا إِذَا ذَكَرَهَا، لَا كَفَّارَةَ لَهَا إِلَّا ذَلِكَ» "যে ব্যক্তি নামায ভুলে যায়, সে যখন স্মরণ করবে তখনই তা আদায় করবে; এর কাফফারা এটাই।" — সহীহ বুখারী, হাদীস ৫৯৭; সহীহ মুসলিম, হাদীস ৬৮৪

হানাফী কিতাবের বক্তব্য:

আল্লামা ইবনে আবিদীন শামী (রহ.) «রাদ্দুল মুহতার»-এ উল্লেখ করেন:

"কাযা নামায আদায়ের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই; বরং যে কোনো সময়ে আদায় করা যায়, নিষিদ্ধ সময়গুলো ছাড়া।" — রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ২, পৃ. ৫৩ (কিতাবুস সালাত, বাবু কাযায়িল ফাওয়ায়িত)

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় — তারতীব (ক্রম রক্ষা):

হানাফী মাযহাবে তারতীব তথা নামাযগুলো ধারাবাহিকভাবে আদায় করা ওয়াজিব। অর্থাৎ, যদি কারো উপর পূর্বের কোনো ফরয নামায কাযা থাকে, তাহলে বর্তমান ওয়াক্তের নামাযের আগে কাযা আদায় করা উত্তম ও কর্তব্য। কিন্তু বিতর হলো ওয়াজিব, যা রাতের শেষ নামায হিসেবে নির্ধারিত। বিতরের পর কাযা পড়লে তারতীবের বিধান লঙ্ঘিত হয় না, কারণ বিতর নিজস্ব স্থানে আদায় হয়েছে।

ফতোয়ায়ে উসমানী ও ইমদাদুল ফতোয়ায় বর্ণিত:

"বিতর আদায়ের পর কাযা নামায পড়া জায়েয; তবে উত্তম হলো ফরয নামাযগুলোর কাযা যথাসম্ভব আগে আদায় করা।" — ফতোয়ায়ে উসমানী, খণ্ড ১, পৃ. ৪৮৭; ইমদাদুল ফতোয়া, খণ্ড ১, পৃ. ৩৭২

বিলম্বে পড়লে গুনাহ হবে কি?

উত্তর: কাযা নামায ইচ্ছাকৃতভাবে বিনা কারণে বিলম্ব করা গুনাহ। তবে শরীয়তসম্মত ওযর (যেমন: ঘুম, ভুলে যাওয়া, অসুস্থতা, শিশু সন্তানের দেখাশোনা) থাকলে গুনাহ নেই। কিন্তু ওযর ছাড়া বিলম্ব করা মাকরূহ তাহরীমী ও গুনাহের কাজ।

কুরআনের নির্দেশ:

«إِنَّ الصَّلَاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَوْقُوتًا» "নিশ্চয়ই নামায মুমিনদের উপর নির্দিষ্ট সময়ে ফরয করা হয়েছে।" — সূরা আন-নিসা, আয়াত ১০৩

হাদীস:

«الْعَجَلَةُ مِنَ الشَّيْطَانِ» "তাৎক্ষণিকতা (নেক কাজে দেরি করা) শয়তানের পক্ষ থেকে।" — সুনানে তিরমিযী, হাদীস ২৩৩৩ (তবে এখানে বিলম্ব মানে বিনা ওযরে দেরি করা)

মুফতি তাকী উসমানী (দা.বা.) বলেন:

"কাযা নামায আদায় করা ফরয; তবে তা যত দ্রুত সম্ভব আদায় করা কর্তব্য। বিনা ওযরে বিলম্ব করা গুনাহ।" — ফতোয়ায়ে উসমানী, খণ্ড ১, পৃ. ৪৯০


২য় প্রশ্ন: তাহাজ্জুদের সময় কাযা নামায পড়া যাবে কি?

উত্তর: হ্যাঁ, তাহাজ্জুদের সময় কাযা নামায পড়া সম্পূর্ণ জায়েয।

আল্লামা হাসকাফী (রহ.) «দুররুল মুখতার»-এ বলেন:

"কাযা নামায যেকোনো সময়ে আদায় করা যায়, এমনকি তাহাজ্জুদের সময়েও; কারণ কাযার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই।" — দুররুল মুখতার, খণ্ড ২, পৃ. ৫৩

আল্লামা ইবনে আবিদীন শামী (রহ.) আরও স্পষ্ট করেন:

"নফল নামাযের সময়ে কাযা ফরয আদায় করা জায়েয, বরং তা নফলের চেয়ে অগ্রগণ্য; কারণ ফরযের কাযা আদায় করা নফল আদায়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।" — রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ২, পৃ. ৫৪

আপনার নির্দিষ্ট পরিস্থিতি:

আপনি বলেছেন — ছোট বাচ্চার কারণে রাতে তাহাজ্জুদের সময় উঠতে পারেন না, তাই এশার সময়েই বিতর পড়ে ফেলেন এবং পরে কাযা নামায পড়তে চান।

এক্ষেত্রে বিধান:

১. এশার সময়েই বিতর পড়া: হানাফী মাযহাবে বিতর রাতের শেষভাগে পড়া উত্তম (মুস্তাহাব)। তবে ওযর থাকলে (যেমন: ছোট বাচ্চার দেখাশোনা, রাতে উঠতে না পারার আশঙ্কা) এশার পরপরই বিতর পড়া জায়েয ও বৈধ। এতে কোনো গুনাহ নেই।

হাদীস:

«إِنَّ اللَّهَ زَادَكُمْ صَلَاةً، فَصَلُّوهَا بَيْنَ الْعِشَاءِ وَالْفَجْرِ» "নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের জন্য একটি নামায বাড়িয়েছেন, তা হলো বিতর; তা এশা ও ফজরের মধ্যে আদায় করো।" — মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২৭২৩; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১৪১৮

২. বিতরের পর কাযা নামায: জায়েয। তবে উত্তম হলো — বিতরের আগে কাযা নামায আদায় করে নেওয়া, যাতে তারতীব রক্ষা হয়। যদি বিতরের পর পড়েন, তবুও নামায আদায় হবে, গুনাহ হবে না।

৩. তাহাজ্জুদের সময় কাযা: যদি কোনো রাতে উঠতে পারেন, তাহলে তাহাজ্জুদের সময় কাযা নামায আদায় করতে পারেন। এটি সম্পূর্ণ বৈধ।

ইমদাদুল ফতোয়ায় বর্ণিত:

"বিতরের পর কাযা নামায পড়া জায়েয। তবে যদি সম্ভব হয়, বিতরের আগে কাযা আদায় করে নেওয়া উত্তম, যাতে ওয়াজিবের পর ফরযের তারতীব না ভাঙে।" — ইমদাদুল ফতোয়া, খণ্ড ১, পৃ. ৩৭৪


সারসংক্ষেপ ও ব্যবহারিক নির্দেশনা

| বিষয় | বিধান | |------|--------| | বিতরের পর কাযা নামায | জায়েয, গুনাহ নেই | | বিনা ওযরে কাযা বিলম্ব | গুনাহ, মাকরূহ | | ওযরসহ বিলম্ব (শিশু, ঘুম) | গুনাহ নেই | | তাহাজ্জুদের সময় কাযা | জায়েয, বরং উত্তম | | এশার সময় বিতর পড়া | ওযর থাকলে জায়েয | | উত্তম পদ্ধতি | বিতরের আগে কাযা আদায় করা |

পরামর্শ:

  • আপনার ওযর (ছোট বাচ্চার দেখাশোনা) শরীয়তসম্মত, তাই এশার পর বিতর পড়ায় গুনাহ নেই।
  • কাযা নামায যথাসম্ভব দ্রুত আদায় করুন; বিতরের আগে পড়তে পারলে আরও উত্তম।
  • তাহাজ্জুদের সময় উঠতে পারলে সেই সময়ে কাযা আদায় করুন — এটি দ্বিগুণ সওয়াবের কাজ।
  • কাযা নামাযের হিসাব রাখতে একটি খাতা বা তালিকা রাখুন, যাতে ধারাবাহিকভাবে আদায় করা সহজ হয়।

واللہ أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.