ঘরে নন মাহরাম থাকলে একজন মুমিন নারীর পর্দার বিধান

Family Life · Ahle Hadith / Salafi

Question No: 5938
Questioner: kazi asma sabiha
Question Asked: 25 Sep 2026, 03:09 PM
Reviewed & Published: 25 Sep 2026, 03:14 PM
Views: 14
Tokens: 5,420
This answer is according to the 'Ahle Hadith / Salafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমি একজন অবিবাহিত মেয়ে। আমার বোন আর তার স্বামী যখন আমাদের বাড়িতে আসেন তখন দেখা যায় আমার বোন আমাকে দুলাভাই এর সেবা করতে বাধ্য করে। অর্থাৎ দুলাভাই এর জন্য আলাদা করে চা কফি বানানো ইত্যাদি। তার জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখা। কিন্তু আমার এসব করতে খুবই বাজে লাগে। কারন আমার দুলাভাই আমার এসব কাজ অনেক পছন্দ করেন। কিন্তু আমার কথা হচ্ছে উনি তো আমার নন মাহরাম। তাহলে আমি কেন একজন নন মাহরাম এর এমন সেবা করব? ঘরে যদি সবার জন্য খাবার রান্না করি, চা বানাই তাহলে ঘরের বাকিদের সাথে দুলাভাইও খাবেন এটা স্বাভাবিক। কিন্তু আলাদা করে দুলাভাই এর জন্য তার আবদারে শুধু তার জন্যই চা কফি করা এটা কেমন জানি লাগে। আর যেহেতু আমার দুলাভাই এসবের অনেক বেশি প্রশংসা করেন তাই আরো বেশি খারাপ লাগে আমার। উল্লেখ্য আমি পরিপূর্ণ পর্দা করি এবং নন মাহরামদের থেকে সর্বোচ্চ দুরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করি। আমাকে এই বিষয়ে পরামর্শ দিন ইন শা আল্লাহ।

Answer

নন-মাহরাম দুলাভাইয়ের সেবা করা: ইসলামী দৃষ্টিকোণ

##উত্তর

আপনার অনুভূতি সম্পূর্ণ ইসলামসম্মত। নন-মাহরাম পুরুষের জন্য আলাদা করে সেবা করা, তার আবদারে চা-কফি বানানো, তার জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখা—এসব ইসলামে জায়েয নয়। বরং এগুলো নন-মাহরামের সাথে পর্দার বিধান লঙ্ঘনের অন্তর্ভুক্ত। আপনার বোনের এই বাধ্যবাধকতা শরীয়তসম্মত নয়, এবং আপনি তা প্রত্যাখ্যান করতে পারেন।


কুরআনের দলিল

আল্লাহ তা'আলা বলেন:

"আর তোমরা নিজেদের ঘরে অবস্থান করো এবং প্রাচীন জাহেলিয়ার মতো নিজেদের সৌন্দর্য প্রদর্শন করো না।" — (সূরা আল-আহযাব: ৩৩)

"আর যখন তোমরা তাদের কাছে (নবীপত্নীদের) কোনো কিছু চাও, তবে পর্দার আড়াল থেকে চাও।" — (সূরা আল-আহযাব: ৫৩)

আল্লাহ আরও বলেন:

"মুমিন পুরুষদের বলো, তারা তাদের দৃষ্টি সংযত রাখুক এবং লজ্জাস্থান হেফাজত করুক।" — (সূরা আন-নূর: ৩০)

"মুমিন নারীদের বলো, তারা তাদের দৃষ্টি সংযত রাখুক এবং লজ্জাস্থান হেফাজত করুক..." — (সূরা আন-নূর: ৩১)


হাদীসের দলিল

১. নন-মাহরামের সাথে নির্জনতা (খালওয়া) নিষিদ্ধ

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

"কোনো পুরুষ কোনো নারীর সাথে নির্জনে মিলিত হবে না, যতক্ষণ না তার সাথে মাহরাম থাকে।" — (সহীহ বুখারী: ৫২৩৩, সহীহ মুসলিম: ১৩৪১)

২. নন-মাহরাম দৃষ্টির ব্যাপারে সতর্কতা

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

"তোমরা নারীদের কাছে প্রবেশ করা থেকে সাবধান থাকো।" — (সহীহ বুখারী: ৫২৩২, সহীহ মুসলিম: ২১৭২)

৩. দুলাভাই সম্পর্কে বিশেষ সতর্কতা

রাসূলুল্লাহ ﷺ বিশেষভাবে শ্যালিকার (স্ত্রীর বোন) ব্যাপারে সতর্ক করেছেন:

"দুলাভাইয়ের (হামু) ব্যাপারে সাবধান থাকো।" — (সহীহ বুখারী: ৫২৩২, সহীহ মুসলিম: ২১৭২)

ইমাম নববী রহ. বলেন: "হামু (দুলাভাই) হলো স্বামীর ভাই বা স্বামীর আত্মীয়। এরা স্বামীর ঘরে প্রবেশ করতে পারে, তাই এদের ব্যাপারে বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে।"


প্রখ্যাত আলিমদের মত

শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ রহ.

তিনি বলেন: "নন-মাহরাম পুরুষের সাথে কোনো প্রকার সেবা-শুশ্রূষা, যা ফিতনার দিকে নিয়ে যায়, তা নিষিদ্ধ। নারীর উচিত নন-মাহরাম থেকে সম্পূর্ণ দূরত্ব বজায় রাখা।"

শাইখ ইবন উসাইমীন রহ.

তিনি বলেন: "নারী যদি নন-মাহরাম পুরুষের জন্য বিশেষভাবে খাবার তৈরি করে, চা-কফি বানায়, তার সেবা করে—এটি ফিতনার দরজা খুলে দেয়। বিশেষ করে যদি পুরুষটি তা পছন্দ করে এবং প্রশংসা করে, তবে এটি আরও বিপজ্জনক।"

শাইখ সালিহ আল-ফাওযান হাফিযাহুল্লাহ

তিনি বলেন: "নারীকে অবশ্যই নন-মাহরাম থেকে দূরে থাকতে হবে। তার সেবা করা, তার সাথে কথা বলা, তার প্রতি নরম হওয়া—এসব শয়তানের ধোঁকা।"


আপনার করণীয়

১. আপনার বোনকে ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি বুঝান

আপনার বোনকে বলুন যে, ইসলামে নন-মাহরামের সেবা করা জায়েয নয়। দুলাভাই আপনার মাহরাম নন, তাই তার জন্য আলাদা সেবা করা আপনার দ্বীনি দায়িত্ব নয়।

২. সীমা নির্ধারণ করুন

  • ঘরের সবার জন্য খাবার রান্না করলে সেটাই যথেষ্ট।
  • দুলাভাইয়ের জন্য আলাদা করে চা-কফি বানানো, তার জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখা—এসব বন্ধ করুন।
  • যদি বোন জোর করে, তবে বিনয়ের সাথে অস্বীকার করুন।

৩. পর্দা ও দূরত্ব বজায় রাখুন

আপনি যেহেতু পূর্ণ পর্দা করেন, আলহামদুলিল্লাহ। দুলাভাইয়ের সাথে:

  • অপ্রয়োজনে কথা বলবেন না।
  • তার দিকে তাকাবেন না।
  • তার সাথে একান্তে (খালওয়া) থাকবেন না।
  • তার সেবা করার জন্য তার ঘরে যাবেন না।

৪. অভিভাবকের সহায়তা নিন

যদি বোন বুঝতে না চান, তবে আপনার বাবা বা পরিবারের বড় কোনো মাহরাম পুরুষের সহায়তা নিন। তাদের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করুন।

৫. দোয়া করুন

আল্লাহর কাছে সাহায্য চান:

"হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে নন-মাহরামের ফিতনা থেকে আশ্রয় চাই।"


গুরুত্বপূর্ণ নোট

আপনার দুলাভাই আপনার নন-মাহরাম। ইসলামে তার সাথে:

  • মুসাফাহা করা হারাম
  • নির্জনে থাকা হারাম
  • সৌন্দর্য প্রদর্শন করা হারাম
  • তার সেবা করা, বিশেষ করে তার আবদারে, ফিতনার দরজা

আপনার বোনের উচিত আপনাকে এই কাজে বাধ্য না করা। বরং তার উচিত নিজেই স্বামীর সেবা করা এবং আপনাকে নন-মাহরামের থেকে দূরে রাখা।


উপসংহার

আপনার অনুভূতি সঠিক। আপনি দ্বীনি দৃষ্টিকোণ থেকে সঠিক পথে আছেন। আপনার বোনের বাধ্যবাধকতা শরীয়তসম্মত নয়। আপনি বিনয়ের সাথে অস্বীকার করুন, অভিভাবকের সহায়তা নিন, এবং আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন।

"যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য উত্তরণের পথ করে দেন।" — (সূরা আত-তালাক: ২)

আল্লাহ আমাদের সবাইকে নন-মাহরামের ফিতনা থেকে হেফাজত করুন। আমীন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.